বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০১
একটি সহযোগী জাতীয় দৈনিকের খবরে প্রকাশ, অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়ার কারণে দেশের এক লক্ষ ট্রান্সফরমারে ওভারলোড চলিতেছে। ইহাতে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থায় প্রায়শ সংকট দেখা দিতেছে। ঘটিতেছে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ। কোন কোন ফিডারে যে পরিমাণ লোড নিতে পারে চাহিদা তাহার চাইতে বাড়িয়া যাইতেছে। মানুষের জীবন মানের উন্নয়নের কারণে এবং বিভিন্ন অনুরোধ ও চাপের মুখে পড়িয়া কিংবা অবৈধ উপায়ে বিদ্যুত্ সংযোগ বাড়িয়াই চলিয়াছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী ও প্রত্যাশা মাফিক উচ্চমাত্রার ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হইতেছে না। ফলে ওভারলোডজনিত কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক সময় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ানো ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এসব সমস্যার সৃষ্টি হইতেছে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। একবার এই সমস্যায় বিদ্যুত্ বিতরণ বন্ধ হইয়া গেলে তাহা ঠিক না করা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা মেলে না। গ্রীষ্মকালে ও পিকআওয়ারে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করিতেছে কোন কোন এলাকায়। বলাবাহুল্য, এই যান্ত্রিক সমস্যার কারণে গ্রাহককে অপরিসীম দুর্ভোগ পোহাইতে হইতেছে। জানা যায়, বর্তমানে দেশের ৫২ শতাংশ নাগরিক বিদ্যুত্ সুবিধার আওতায় আসিয়াছে। তাহাদের নিকট ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৪৬০ কিলোমিটার বিতরণ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত্ সরবরাহ করিতেছে পাঁচটি বিতরণ কোম্পানি। এই বিতরণ লাইনে মোট ট্রান্সফরমার রহিয়াছে ৬ লক্ষ ৪৩ হাজার। তন্মধ্যে সাড়ে ১৪ শতাংশ ওভারলোড সমস্যায় জর্জরিত। ইহার মধ্যে দেশের পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিগুলির ৬ লক্ষ ২৭ হাজার ট্রান্সফরমারের মধ্যে ৯১ হাজার ৭৩১টিতে ওভারলোড সমস্যা বিদ্যমান। এই সমস্যা ট্রান্সফরমার চুরির চাইতে কম যন্ত্রণাদায়ক নহে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনে যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, বিদ্যুত্ বন্টনেও প্রায় সমপরিমাণ বিনিয়োগ আবশ্যক। বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ না করিলে এই বিপর্যয় ও দুর্ভোগ হইতে পরিত্রাণের কোন উপায় নাই। বর্তমানে দেশে বিদ্যুত্ উত্পন্ন হইতেছে প্রায় ছয় হাজার মেগাওয়াট। এই সরকারের আমলে বিদ্যুত্ উত্পাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়াছে। তবে মানুষের চাহিদারও শেষ নাই। এখন দেশে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা সাত হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উত্পাদন বাড়ানোর পাশাপশি বিতরণ লাইন সংস্কার ও সম্প্রসারণও জরুরি। সিলেটে উত্পাদিত বিদ্যুত্ কেবল লাইনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরিয়া ঐ এলাকার চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হয় নাই। তবে আশার কথা হইল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার কুমিল্লায় একটি সাবস্টেশন উদ্বোধন করিয়াছেন। তাহাতে ঐ এলাকার মানুষ উপকৃত হইতেছেন। এবার গ্রীষ্মকাল শুরু হইয়া গেলেও বিদ্যুতের লোডশেডিং সেভাবে দেখা যায় নাই। কিন্তু ট্রান্সফরমার ওভারলোডজনিত যে সমস্যার খবর পাওয়া যাইতেছে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে দেশবাসীর দুর্ভোগের অবসান হইবে না। তাই অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাড়ে ৩৭ কেভির ট্রান্সফরমারের বদলে ৫০ কেভি এবং ৫ কেভির বদলে ১০ বা ১৫ কেভির ট্রান্সফরমার লাগাইতে হইবে। ইহাছাড়া আগামী দিনগুলিতে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থায় গোলযোগ দূর করিতে ও বিদ্যুত্ সেবার পরিধি বাড়াইতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হইবে। আমরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন