শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব যে কোন গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন থাকবে এবং নির্বাচন হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু মুষ্টিমেয় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ক্ষমতার লোভে অনেক বিষয় পরিবর্তন করে ফেলে। পরবর্তীকালে অন্য দল যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে। বর্তমান পেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জগতে এক দুর্বিষহ অবস্থা। দেশের অনেক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কেন্দ্র করে। কিন্তু একটা কথা পরিষ্কার যে, আগের নির্বাচনগুলো এভাবেই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ আজ এটাকে পরিবর্তন করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হতে পারে না এবং সম্ভব নয়। অতএব দেশের সার্বিক বিবেচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন দেওয়াটা খারাপ কিছু নয়। আকাশ আহমেদ (জারসা) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া মানুষ মরবে, অর্থ বিনষ্ট হবে, নির্বাচন সংকটে পড়বে, দেশে হবে অশান্তি দেশে যে হত্যা, গুম, হরতাল, ধর্মীয় দাঙ্গা, আর ভাংচুরের মতো অশান্তিপূর্ণ কার্যকলাপ শুরু হয়েছে, তাতে কী করে আশা করা যায়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। অশান্তি, অস্থির, ভয়াল পরিবেশে যেখানে মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই, সেখানে নির্বাচনকে মুখ্য করে দেখার কোন মানেই হয় না। সরকারি দল আর বিরোধী দলগুলো নানা ইস্যু দেখিয়ে দেশের যে সীমাহীন ক্ষতি করছে, এর দায়ভার পোহাতে হবে আমাদের মতো নিপীড়িত নির্যাতিত, অসহায়, সাধারণ জনগণের। সরকারি দল পুনরায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াই নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। আর এদিকে বিরোধী দলগুলো, তত্ত্বাবাধায়ক দাবি করছে, নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করে ক্ষমতায় আসার। সরকারি দল আর বিরোধীদলগুলো হিসেব করছে, কীভাবে ক্ষমতা হাসিল করা যায়। দেশের এমন বেহাল অবস্থা দেখে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। আসলে কোন রাজনীতিক দলই দেশ, মাটি ও মানুষের শান্তি বা কল্যাণ চায় না। তারা ব্যস্ত আছে রদবদল করে ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের স্বার্থ লুফে নিতে। যে দেশে এখনও ক্ষুধা, দারিদ্য, অশিক্ষার মতো অগণিত সমস্যা রয়েছে, সে দেশ স্বাধীন করে কী লাভ হয়েছে। যে দলই ক্ষমতায় যাক, সেই দলই থাকে নানা হুমকির মুখে। আর বিরোধী দলগুলো সরকারি দলকে সহযোগিতা না করে বরং সুযোগ খুঁজে সরকারি দলকে ব্যর্থতার গ্লানি দিয়ে কিভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়। উভয় দলই যদি এমন ছেলেখেলা করে তবে মানুষ মরবে, অর্থ বিনষ্ট হবে, নির্বাচন সংকটে পড়বে, দেশে হবে অশান্তি। তাই রাজনীতিক দলগুলো যদি দেশকে শান্তিময় করতে চায় তবে সর্বপ্রথম দেশকে শান্তির আবাস বানাতে হবে। যদি দেশই না বাঁচে তবে নির্বাচন হবে কোথায়। যখন শান্তির স্থান তৈরি হবে, তখনই সম্ভব হবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। তাই সরকার দল আর বিরোধী দলগুলোর কাছে আমাদের সকলেরই প্রাণের দাবি, মনের দাবি, স্বাধীনতার দাবি, দয়া করে উভয় দলই হিংসা, বিদ্বেষ, রেষারেষি আর প্রতিশোধমূলক রাজনীতি ভুলে সমঝোতা আর সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে বাঁচান, দেশের মানুষকে বাঁচান, সুস্থ রাজনীতিতে গণতন্ত্রের প্রতিষ্টা করুন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত একটি শান্তিময় রাষ্ট্র সোনার বাংলা উপহার দিন। দলীয় স্বার্থকে বড় করে না দেখে, দেশ রক্ষায় ব্রতী হোন। তবেই না শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে আগামী জাতীয় দশম সংসদ নির্বাচন। মো. নূরুল ইসলাম বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড বভাগ ২য় বর্ষ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন তো হবে না বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উদীয়মান গণতান্ত্রিক দেশ। আর গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত হলো জনগণের দ্বারা জনগণের জন্য এবং জনগণের শাসিত সরকার। গত কয়েক মাসের চিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিরাজ করছে কি না? বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে নোংরা চর্চা চলছে তা চলতে থাকলে এক সময় বাংলাদেশ ভয়াবহ সমস্যার মধ্যে পড়বে, যা সামাল দেয়ার মত শক্তি হয়তো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কারও থাকবে না। বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দলই সহনশীল নয়। কোন দলই জনগণের কথা চিন্তা করে না। প্রত্যেক দল চায় চেয়ার। প্রয়োজনে লাশের উপর দিয়ে হলেও ক্ষমতা চাই। যার চিত্র বিভিন্ন আধুনিক গণমাধ্যমে বিশ্ববাসী ঘৃণার চোখে দেখছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে আদৌ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বরাবরই বলে আসছেন দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে এবং সেনা মোতায়েন করা হবে না। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল (বিএনপি) বলে আসছেন কোনমতেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এই যদি হয় বড় দুই দলের মনোভাব তাহলে দেশ আজ কোথায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এমন একটা সমন্বয় হওয়া উচিত যাতে করে দেশে দ্রুত শান্তি ফিরে আসে। মো. ফারুক হোসেন বিএ (অনার্স) প্রথম বর্ষ, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তত্ত্বাবধায়ক দেয়া হলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে নির্বাচন নিয়ে যখনই প্রশ্ন তোলা হয়, তখনই জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে। কিন্তু কেন? আমাদের দেশে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল। এক দল চায় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন , অন্য দল চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার । আর এই নিয়ে যত গণ্ডগোল। দুই দলই তাদের কথায় স্থির। বিচার মানা হচ্ছে আবার তাল গাছ নিজের কাছে রাখছে সবাই। আর এই নিয়ে প্রতিনিয়তই অঘটন ঘটছে। যা দেখে সাধারণ মানুষও সহজেই বুঝতে পারছে যে, এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন নিয়ে দেশে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা বাঙালি জাতি, অনেক কষ্ট করে অনেক রক্তের বিনিময়ে দেশটার স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন আর রক্ত দেবার নয়, দেশটাকে গঠন করার সময়। দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে ভাবার সময়। কিন্তু সেই সময় নির্বাচন নিয়ে ভাবতে হয় সেটা সত্যিই দুঃখজনক। আর এই দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলগুলোর। কারণ তারাই জনগণকে পরিচালনা করে। তাই এই মুহূর্তে বলতে চাই নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুটি দল যা করছে তা মোটেই সমীচীন নয়। যখন একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে এতো অঘটন তখন সেটা মেনে নেয়াই উচিত বলে মনে করি। কারণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন মোটেই ভাল নয়। এমন অবস্থায় জনগণ কোথাও স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে না। তাই এমতাবস্থায় একটি জাতীয় শক্তির প্রয়োজন। তাই নতুন প্রজন্মের সদস্য হিসেবে আমি মনে করি তত্ত্বাবধায়ক দেয়া হলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। কারণ দেশের মানুষ শান্তি চায়। মো. আবু তাহের সোহাগ একাদশ শ্রেণী ব্যবসায় শিক্ষা, সাওয়ারজান মডেল স্কুল ও কলেজ, বামনা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন