নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৬
বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হইয়াছেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মো. আবদুল হামিদ। নির্বাচন কমিশন গত সোমবার তাঁহাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করিয়াছে। তিনি গত ১৪ই মার্চ হইতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ২০শে মার্চ সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১৯তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান পরলোকগমন করেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পেশায় আইনজীবী হইলেও তাঁহার সবচাইতে বড়ো পরিচয় হইল তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। তাঁহার জন্ম ১৯৪৪ সালে। ছাত্রলীগের কর্মী হিসাবে রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৫৯ সালে। আওয়ামী লীগে যোগ দেন ১৯৬৯ সালে। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৭৩ সাল হইতে শুরু করিয়া চলতি সংসদ পর্যন্ত মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়াছেন। প্রতিকূল সময়ে সংসদের উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। দায়িত্ব পালনে তাঁহার সফলতা-বিফলতা লইয়া নানা মত থাকিতেই পারে। তবে এই কঠিন সময়েও সজ্জন মানুষ হিসাবে তিনি যে সকলের গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হইয়াছিলেন তাহা লইয়া তেমন একটা দ্বিমত নাই। এমন একটি সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করিতে যাইতেছেন যখন পরবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরাজ করিতেছে চরম উত্তেজনা। বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহাল চায়। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরাসরি এই দাবি নাকচ করিয়া দিয়াছে। সকল মহল হইতে অব্যাহতভাবে সমঝোতার কথা বলা হইলেও এখন পর্যন্ত তাহার কোনো আভাস দেখা যাইতেছে না। বরং যতো দিন যাইতেছে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কাই প্রবল হইয়া উঠিতেছে। সেই সাথে বৃদ্ধি পাইতেছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মাত্রাও। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ হইতে শুরু করিয়া বৃহত্ ব্যবসায়ী-শিল্পপতি পর্যন্ত কেহই এই উত্কণ্ঠা হইতে মুক্ত নহে। এমতাবস্থায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করিয়া জনমনে যে কিছুটা আশার সঞ্চার হইয়াছে তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। এমন নহে যে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তাহারা অবহিত নহেন। তবু রাষ্ট্রপতি বলিয়া কথা। রাষ্ট্রের একনম্বর ব্যক্তি হিসাবে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার সাথে একান্তে কথা বলিতেই পারেন। তিনি আমন্ত্রণ জানাইলে উভয়েই তাহা সাদরে গ্রহণ করিবেন বলিয়াই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি দুই নেত্রীর সাথে কথা বলিলেই যে সকল সমস্যার সমাধান হইয়া যাইবে এমন অসম্ভব আশা আমরা পোষণ করি না। তবে তিনি যদি তাঁহাদের মনোভাবটুকু অন্তত বুঝিতে পারেন সেইটাই বা কম কী। উভয়ের সাথে আলাপ করিয়া তিনি যদি সমঝোতার সামান্য সম্ভাবনাও খুঁজিয়া পান তাহা হইলে সেইটাকে সম্বল করিয়া সামনে আগানো যায়। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিজের প্রভাব, পদমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাইয়া এই সংকট নিরসনে তিনি গ্রহণ করিতে পারেন অধিকতর দৃশ্যমান ভূমিকা। আর যদি কোনো আশা নাও থাকে তাহা হইলেও ক্ষতি নাই। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার সাথে শুভেচ্ছা বা মতবিনিময় করিতেই পারেন। আমরা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানাই এবং তাঁহার সর্বাঙ্গীন কুশল কামনা করি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন