ইউজিসিকে অধিক কার্যকর করিতে হইবে

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৬
১৯৭৩ সালে ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং বিভিন্ন কার্যক্রম দেখাশুনা করিবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রতিষ্ঠিত হইলেও দেশে এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৪ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৪। ইউজিসির ক্ষমতার পরিধি প্রাথমিক অবস্থার তুলনায় বৃদ্ধি পাইলেও বর্তমান চাহিদার সহিত তাহা সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। এতগুলি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঠিকঠাকমতো দেখভাল করিবার সক্ষমতা ইউজিসির নাই। অথচ একদিকে এতগুলি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যদিকে বিকাশমান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয়কে নজরদারির আওতায় রাখিয়া মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করিবার সময় তো এখনই। বিশেষত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ন্যূনতম একটি মান অর্জনের উদ্যোগ লইয়া হিমশিম খাইতেছে ইউজিসি। বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়াই চালু হইয়াছে, কেবল মুনাফার উদ্দেশে। নানান অনিয়মে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায়শই ইউজিসির নির্দেশনা ও গাইডলাইন লঙ্ঘন করিয়া চলিতেছে। সব মিলিয়া শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালনে কার্যত ব্যর্থ হইতেছে ইউজিসি। এই পরিস্থিতিতে ইউজিসির ক্ষমতার পরিধিই শুধু বিস্তৃত করা প্রয়োজন নহে, ইহাকে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়িয়া তুলিতে হইবে। ইতোমধ্যে ইউজিসির নাম ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করিয়া ‘উচ্চ শিক্ষা কমিশন’ করিবার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খসড়া জমা দেয়া হইয়াছে। কিন্তু তাহা বাস্তবায়ন লইয়া অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়াছে। এক বত্সর পার হইয়া গেলেও ইতিবাচক সাড়া মিলিতেছে না। ইউজিসি মন্ত্রণালয়ের আওতামুক্ত হইতে চায়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাহাদের মতামতে কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকিবার পক্ষে যুক্তি দিয়াছে। ‘উচ্চ শিক্ষা কমিশন’ প্রস্তাবের খসড়ায় কমিশনের চেয়ারম্যানকে একজন পূর্ণমন্ত্রী, পাঁচ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী এবং কমিশনের সচিবকে সরকারের সচিবের মর্যাদা দিবার কথা উল্লেখ রহিয়াছে। কিন্তু কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্যদের পদমর্যাদার বিষয়ে আপত্তি দিয়াছে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কমিশনের চেয়ারম্যান শিক্ষকতা পেশার মধ্য হইতে আসিবে এমন বলা হইলেও অর্থ মন্ত্রণালয় এই পদটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখিয়াছে। মোটের উপর প্রস্তাবিত কমিশনকে যতটা স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে উপস্থাপন করা হইয়াছে, সরকারের দিক হইতে তাহাতে আপত্তি রহিয়াছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় উচ্চ শিক্ষা কমিশন গঠন অনিশ্চয়তার মুখে পড়িয়াছে। উচ্চ শিক্ষার মান সমুন্নত রাখিতে হইবে, এই আমাদের দাবি। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই হইবে। শিক্ষা ও গবেষণাকে হইতে হইবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রধান চালিকশক্তি। দরিদ্র রাষ্ট্রের দুর্নাম ঘুচাইয়া বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শামিল। উচ্চ শিক্ষাকে উন্নত না করিলে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ ও দিকনির্দেশনা কীভাবে আসিবে? উচ্চ শিক্ষার বিকাশে ইউজিসিকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর করিতেই হইবে। প্রস্তাবিত ‘উচ্চ শিক্ষা কমিশন’কে স্বাধীনভাবে কাজ করিতে দেওয়া উচিত, পাশাপাশি কমিশনটির মর্যাদা, ক্ষমতা, লোকবল ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা উচিত। এবং অবশ্যই শিক্ষকতা পেশা হইতেই কমিশনটির প্রধান নিয়োগ দিবার ব্যবস্থা রাখিতে হইবে। নিশ্চয়ই কমিশনকে সরকারের সঙ্গে একটি দায়বদ্ধতার সম্পর্কে জড়িত থাকিতে হইবে, কিন্তু তাহা একমাত্র মন্ত্রণালয়ের খবরদারিতেই নির্ধারিত হইবে, এইরূপ বাধ্যবাধকতাও থাকা উচিত নহে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন