জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আটদিন আগের হারের কষ্ট ভুলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিন পেসার নিয়ে হারারের স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। পেসার বান্ধব উইকেটের কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে হারারের এই ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম টেস্টটি যাতে ৩৩৫ রানের শোচনীয় ব্যবধানে স্বাগতিকদের কাছে হার মানে সফরকারীরা। চারদিনের মধ্যেই টেস্টটি জিতে নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটামোদীদের হতাশ করে মুশফিকুর রহিমের দল। এখন সিরিজে সমতা আনতে হলে দ্বিতীয় টেস্টে জিততেই হবে মুশফিকদের।
আগের ভেন্যুতেই টেস্টটি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ দল বাড়তি সতর্কতায় থাকবে। হারারের উইকেটের কথা বিবেচনা করেই কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে তিন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। তবে একই ভেন্যুতে টানা দুই টেস্ট আয়োজনের ঘটনা নতুন না হলেও এবারেরটি ঘটছে ১১ বছর পর। ২০০২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান সর্বশেষ টানা দুই টেস্ট খেলেছিল একই ভেন্যুতে। হারারের এই মাঠে সর্বশেষ টানা দুই টেস্ট হয়েছিল ১৯৯৯ সালে যখন জিম্বাবুয়ে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে খেলেছিল। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ গতকাল মঙ্গলবার টেলিফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘তিন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত এক প্রকার নিশ্চিত। তবে কোন তিন পেসারকে খেলানো হবে সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো একদিন’। রুবেল হোসেন ও শাহাদাত হোসেন ইনজুরিতে পড়ায় গত সোমবার বিকল্প হিসাবে শফিউল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান জিয়া জিম্বাবুয়ে দলের সাথে যোগ দিয়েছেন। ইনজুরির কারণে শ্রীলংকা সফরে যাননি শফিউল। বিকল্প হিসাবে জিম্বাবুয়ে গেলেও তার খেলার ব্যাপারে এখনি কিছু বলতে পারছেন না ম্যানেজার সাদ। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য হলো, ‘আজ (গতকাল) অনুশীলনের পর বোঝা যাবে তার (শফিউল) অবস্থা। তার বোলিং অ্যাকশন দেখে টিম ম্যানেজম্যান্ট সিদ্ধান্ত নিবে’। শফিউলকে নিয়ে সংশয় থাকলেও দ্বিতীয় টেস্ট খেলার ব্যাপারে এক প্রকার নিশ্চিত পেসার সাজেদুল ইসলাম- জানালেন দলের ম্যানেজার। সাজেদুল যদি টেস্ট একাদশে সুযোগ পান, তাহলে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবার জাতীয় দলের জার্সি পরে খেলবেন। আগের টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে নয় উইকেট পাওয়া রবিউল ইসলাম শিপলুর সাথে খেলতে পারেন সাজেদুল এবং শফিউল। তবে জানা গেছে শফিউল যদি ইনজুরি থেকে সেরে না ওঠেন সেক্ষেত্রে অলরাউন্ডার জিয়া দলে ঢুকবেন।
এদিকে মিডল অর্ডারে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মোমিনুল হক। সেক্ষেত্রে সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লা রিয়াদকে সরে যেতে হতে পারে। গত সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কাল সকালেও স্থায়ী ছিল। কাল বিকেল থেকে অবশ্য হারারের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। দলের ম্যানেজার জানালেন, আবহাওয়া এই মুহূর্তে ভালো আছে। বৃষ্টি না হলে আশা করছি উইকেটের আচরণ পেসারদের সহায়ক হবে।
