রক্তাক্ত কাবাডি

ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন বিজেএমসি

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৯
বাংলাদেশ গেমস কাবাডির ফাইনালে গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাবাডি কোর্টে রক্তাক্ত হয়েছেন দুই আম্পায়ার। এর মধ্যেই গেমস কাবাডির মহিলা বিভাগে বিজেএমসি ১৯-১৬ পয়েন্টে আনসারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। আনসারের কর্মকর্তারা ফাইনাল খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে দুই আম্পায়ারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের সাথে যোগ দেন আনসারের অন্যান্য সদস্যরা। গ্যালারি থেকে আনসারের অন্য সদস্যরাও নেমে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েন ফাইনালের আম্পায়ার রফিকুল ইসলাম এবং আজগর আলীর উপর। দুজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ সাহেদ রেজা। তিনি এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কাবাডি ফেডারেশনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে বিওএতে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিওএ মহাসচিব রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। কাবাডি কোর্টের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি বিজেএমসি এবং আনসার। অনেক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে এই দুই দল ফাইনালে উঠেছে। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে কোনো ফাইনালে রক্ত ঝরার ঘটনা দেখা যায়নি। কিন্তু কাল কাবাডি কোর্টে যেন রক্তাক্ত হলো অষ্টম বাংলাদেশ গেমস। উভয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এই নিয়ে কর্মকর্তাদের শীর্ষ পর্যায়েও দেখা দেয় স্নায়ুযুদ্ধ। পুরোনো এই বিরোধ নিয়েই এদিন বাংলাদেশ গেমস কাবাডির মহিলা ফাইনালে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে নেমেছিল দল দুটি। এ কারণেই ফাইনালের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল। আম্পায়ার রফিকুল ইসলাম এবং আজগর আলীর সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ কয়েকবার উত্তেজনা দেখা দেয়। আনসারের খেলোয়াড়রা আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছিলেন না। মাঠের বাইরে ছিল চরম উত্তেজনা। প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিদের সাথে মঞ্চে বসা আনসারের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। খেলার শেষ বাঁশি বাজার পরপরই এই কর্মকর্তারা আক্রমণ করেন আম্পায়ারদের। অবস্থা বেগতিক দেখে অন্য রেফারিরা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যান। মঞ্চ থেকে আনসারের একজন কর্মকর্তা আম্পায়ারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে অন্যরাও তাকে অনুসরণ করেন। দুই আম্পায়ারকে তারা চেয়ার দিয়ে পেটান, কিল ঘুষি মারেন। ফুলের টব থেকে গাছ ছিঁড়ে লাঠি বানিয়ে পিটিয়েছেন। মাটিতে শুয়ে পড়া আম্পায়ারদের বুট পায়ে আঘাত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আনসার সদস্যরা তাণ্ডব চালান কাবাডি কোর্টে। মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন দুই দলের মহিলা কাবাডি খেলোয়াড়রাও। ভিড়ের মধ্যে একজন আরেকজনকে কামড় দেয় বলেও তাদের কেউ কেউ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। আহত হয়েছেন মাসুমা, শীলা এবং বৃষ্টিসহ অনেকে। খেলা দেখতে আসা সমর্থকরা বলেন, ‘এহেন ঘটনা বর্বরোচিত।’ কাবাডি ফেডারেশন কর্মকর্তা আব্দুল কাইউম সিকদার বলেন, ‘খেলার মাঝে যে ঘটনা ঘটেছে তা দেখে হতবাক হয়েছেন সবাই।’ কাবাডি ফেডারেশনের কোষাদক্ষ্য এমএ মান্নানের সাথে এক কর্মকর্তার ধস্তাধস্তি হয়েছে। তিনি মারামারির সময়ে ‘আব্দুর রহমান’ নাম লেখা একটি ব্যাজ কুড়িয়ে পান এবং দাবি করেন সেটি বিওএর মহাসচিব নিয়ে গেছেন। কিন্তু মহাসচিব এরকম কোনো ব্যাজ পাননি বলে জানান। আম্পায়ারদের উপর হামলা হলে আনসারের কোচ সাবেক তারকা খেলোয়াড় আব্দুল জলিল তাদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেও আহত হন। তার কপালে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, ‘মোহামেডান আবাহনী ম্যাচে যেমন মারামারি হয় এখানে সেটাই হয়েছে। যারা হারে তারা সব সময় এমনটাই করে।’ এই মারামারির কারণে এক ঘন্টা পর পুরস্কার বিতরণ করা হয়।