রবিন ভন পার্সির হ্যাট্রিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২০তম শিরোপা জিতলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দলটি ২০১০-১১ মৌসুমেই লিভারপুলকে (১৮ শিরোপা) পেছনে ফেলে রেকর্ড ১৯তম শিরোপা জিতেছিল। সেই রেকর্ডটি আরো সমৃদ্ধ করলো দলটি গত সোমবার রাতে নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। দারুণ এই জয়ে চার ম্যাচ হাতে রেখেই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির কাছ থেকে শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো ইংলিশ জায়ান্টরা।
ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড পুরো মৌসুমেই পার্সির দুর্দান্তপনায় সওয়ার হয়ে দুর্বার গতিতে শিরোপার দিকে ধেয়ে গেছে। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ৩৩ মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক করে ডাচ খেলোয়াড়টি বুঝিয়ে দেন তাদের শিরোপা ক্ষুধা কতটা। যথারীতি ২০ নম্বর জার্সি চাপিয়েই মাঠে নেমেছিলেন তিনি। একদার আর্সেনাল খ্যাত স্ট্রাইকারটি মাঠে নেমেই মেলে ধরেন নিজেকে। খেলা শেষে বললেন,‘অসাধারণ অনুভূতি।’
আগামী ১২ মে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সোয়ানসি সিটির বিপক্ষে ইউনাইটেডের লিগ সমাপনী খেলাটির পর যখন শিরোপা তুলে দেয়া হবে সেই সময়ে পার্সিদের অনুভূতি যে আরো অসাধারণ হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
পার্সির এটাই প্রথম মৌসুম ফার্গুসনের দলে। প্রিমিয়ার লিগে ২৪ গোল করে এখনো গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে থাকা খেলোয়াড়টি অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,‘অসাধারণ এক দল, অসাধারণ সব খেলোয়াড় এখানে। এই চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য।’
ইউনাইটেড ম্যানেজার ফার্গুসন প্রাক মৌসুমে দুই কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে আর্সেনাল থেকে নিয়ে এসেছিলেন পার্সিকে। আর্সেনালের সাথে তখনো এক বছরের চুক্তি ছিল পার্সির। ইনজুরি সমস্যা থাকলেও ভাল খেলছিলেন তিনি। ফার্গুসন বাজি ধরার মতো তাকে নিয়ে এলেও তাতে জিতে গেলেন। কেননা এবারের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার।
রেফারি শেষ বাঁশি দিতেই ওল্ড ট্রাফোর্ডে উচ্ছ্বাস শুরু হয়ে যায়। পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করে খেলোয়াড়রা। এই উত্সব ড্রেসিংরুম, মাঠ এবং গ্যালারি ছাড়িয়ে যায়। আনন্দ উদযাপনায় পিছপা ছিলেন না ফার্গুসন ও কোচিং স্টাফরাও। তারা মাঠে নেমে আসেন। পার্সি ও বর্ষীয়ান রিও ফার্ডিন্যান্ডকে উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন স্যার অ্যালেক্স। ফার্গুসন দু’হাত ওপরে তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন। ম্যানেজার হিসেবে ফার্গুসনের অর্জন আরো আলোকিত হলো। তিনি জয় করলেন কোচিং ক্যারিয়ারের ৪৯তম শিরোপা।
গেলবারের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেষ্টার সিটিকে সিংহাসনচ্যুত করতে একটি জয় দরকার ছিল ইউনাইটেডের। ফন পার্সি ৮৩ সেকেন্ডে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দিয়ে এর সূচনা করেন। ১২ মিনিটে ওয়েইন রুনির কাছ থেকে বল পেয়ে ভলি শটে আবারো গোল করে ব্যবধান দ্বিগুন করেন তিনি। ৩৩ মিনিটে পার্সি হ্যাটট্রিক করলে উত্সব শুরু হয়। পার্সির অপর দুটি গোলে সহায়তা করেছেন রায়ান গিগস। এ জয়ে সিটির কাছ থেকে ১৬ পয়েন্টে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২১ মৌসুমে এটি ইউনাইটেডের ১৩তম শিরোপা জয়। সবকটি শিরোপাই এসেছে ফার্গুসনের অধীনে। ১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লিগ যুগ শুরুর পর ২০০১ সালে দলটি দ্রুততম সময়ে শিরোপা নিশ্চিত জিতেছিলো। এবারো তারা অনেক আগেই শিরোপা নিশ্চিত করলো। ২০০১ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে কেউই এত আগে শিরোপা নিশ্চিত করতে পারেনি।
গত মৌসুমে আট পয়েন্টে এগিয়ে থেকে এবং ছয় ম্যাচ হাতে রেখেও সিটির কাছে শেষ মুহূর্তে শিরোপা খুইয়েছিল ইউনাইটেড। এবার আর তারা কোনভাবেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি। রেলিগেশনের শংকায় থাকা ভিলাকে কোন সুযোগই দেয়নি ইউনাইটেড। এদিকে ৩৯ বছর বয়সী গিগসের জন্যও এটা অসাধারণ এক পাওয়া। কেননা ১৩ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার সাথেই ছিলেন এই ওয়েলশ মিডফিল্ডার।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ২০১২/১৩ (পয়েন্ট টেবিল)
দল খেলা পয়েন্ট
১.ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৩৪ ৮৪
২.ম্যানচেস্টার সিটি ৩৩ ৬৮
৩.আর্সেনাল ৩৪ ৬৩
৪.চেলসি ৩৩ ৬২
রোল অব অনার
মৌসুম চ্যাম্পিয়ন
২০০০-০১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
২০০১-০২ আর্সেনাল
২০০২-০৩ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
২০০৩-০৪ আর্সেনাল
২০০৪-০৫ চেলসি
২০০৫-০৬ চেলসি
২০০৬-০৭ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
২০০৭-০৮ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
২০০৮-০৯ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
২০০৯-১০ চেলসি
২০১০-২০১১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
২০১১-১২ ম্যানচেস্টার সিটি
২০১২-১৩ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
