জেল মানে বাংলাদেশ জেল। এই দলটির হয়ে বাংলাদেশ গেমস অ্যাথেলেটিকসে লড়াই করছেন একমাত্র ক্রীড়াবিদ সুমিতা রানী দাস। শুধু লড়াই নয়, গতকাল মঙ্গলবার ১০০ মিটার হার্ডলসে দলকে এনে দিয়েছেন স্বর্ণ পদকও।
সুমিতা সময় নেন ১৫:২৬ সেকেন্ড। আর তার বরাবরের প্রতিদ্বন্দ্বী আনসারের জেসমিন আক্তারকে এবারও রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। জেসমিন সময় নিয়েছেন ১৫:৩৩ সেকেন্ড। তাকে পেছনে ফেলে টানা স্বর্ণ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন অ্যাথলেটিকসের প্রিয়দর্শিনী সুমিতা। রূপচর্চাতেও মনোযোগী এই মেয়েটি অনুশীলন মাঠে কঠোর পরিশ্রমেরই ফল পায় কাল। স্বর্ণ জয় করে টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে হাত তুলে দিলেন আকাশের দিকে। প্রতিটি আঙ্গুলে লাল রংয়ের নেইল পলিশ, গলায় সোনার চেইন।
আকর্ষণীয় অ্যাথলেটিকস কেডস পায়ে সুমিতা রানী গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে যখন দৌড় শুরু করেন সে সময় তার সাথে আট লেনে প্রতিযোগী ছিলেন কেবল পাঁচজন। আসলে পাঁচজন নয় সুমিতার লড়াই চলছিল মূলত চির প্রতিদ্বন্দ্বী আনসারের জেসমিনের সাথে। জেসমিনও পাল্লা দিয়ে সুমিতার সাথে একটা একটা করে হার্ডল পেরিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য জেসমিনের। ফটো ফিনিশিংয়ে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে পরাস্ত হন।
শেষ দমটা চেপে চমক দিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন সুমিতা। গলায় ঝুলিয়ে নিলেন গত ১১টি আসরের ১০ম পদক। এবারও ব্যর্থ হলেন জেসমিন। ১০০ মিটার হার্ডল শেষে ব্যর্থতার অভিমানে জেসমিন অদৃশ্য হয়ে যান। তাকে আর খুঁজেই পাওয়া গেল না। তার কোচ রফিকউল্ল্যাহ মিলন বললেন, ‘ভাই সামান্য একটুর জন্য পারল না জেসমিন।’
অপরদিকে দৌড় শেষ করে ফেরা সুমিতা বললেন, ‘২০০৩ সাল থেকে স্বর্ণ জয় করে এসেছি। ২০০৯ সালটি ছাড়া সব কয়টি পদক পেয়েছি আমি।’ এরপরও খুশি নন তিনি। কারণ-‘এতো স্বর্ণ আর পত্রিকায় ছবি ছেপে কোনো লাভ নেই। একজন ক্রীড়াবিদ আমি। আমার জেলার ডিসির অফিসে। তিনি বললেন কোথাকার কোন সুমিতা। খেলাটা তো সম্মানের জন্য, তাই না।’
সাফল্যের দিনেও ক্ষোভ ঝরে পড়লো তার গলায়, ‘আমরা গরিব দেশের মানুষ। আমাদের সুযোগ সুবিধা কম। তা না হলে আমরাও বড় বড় গেমস থেকে পদক আনতে পারতাম।’ তাকে যখন বলা হয় যে দেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আতশবাজি পোড়ানো হয় সে দেশ গরিব হয় কিভাবে। এ প্রসঙ্গে সুমিতা বলেন, ‘আমরা তো সুযোগ সুবিধা পাই না।’
