ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৯
ঠিক দু’বছর আগে প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট মুখ লুকিয়েছিল এক লজ্জায়। ২০১১ বিশ্বকাপে মাত্র পনেরো দিনের ব্যবধানে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫৮ ও ৭৮ রানে অলআউট হয়ে যেন বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল জাতীয় দল। দু’বছর পর এবার টেস্টে সেই একইরকম এক লজ্জায় পড়ে মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অলআউট হয়েছে তারা ১৩৪ ও ১৪৭ রানে। তবে এই লজ্জার কাছে আত্মসমর্পণ নয়; বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এবার এই লজ্জাকে পেছনে ফেলে সম্মানটা অন্তত ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় আছেন। অন্তত নিজেদের সেভাবেই ক্রিকেটাররা প্রস্তুত করছেন বলে জিম্বাবুয়ে থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট জানাচ্ছে। তারা হারারের দ্বিতীয় টেস্টে যেভাবেই হোক নিজেদের পারফরম্যান্সটা করে দেখাতে চান। তবে এই চাওয়া সফল হতে গেলে আগে হারাতে হবে জিম্বাবুয়ের পারফরমারদের। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য একটু চিন্তার কারণ হতে পারে আবহাওয়াও। জাতীয় দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ কাল টেলিফোনে বলেছেন, ‘গত দুইদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। আজও (কাল) আকাশ মেঘলা হয়ে আছে। তাই দ্বিতীয় টেস্টে বৃষ্টির হামলা হতে পারে’। প্রথম টেস্টে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে সাবধানে পা ফেলতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। আসলে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের। যে দলটি মাত্র ক’দিন আগে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ৬৩৮ রানের বড় স্কোর করল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট জিততে বসেছিল, যে দলের একজন ব্যাটসম্যান ডাবল সেঞ্চুরি, একজন ১৯০, একজন সেঞ্চুরি করে; সেই দল কিভাবে এমন ধসে পড়ল! দ্বিতীয় টেস্টের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে নিকট অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে হারারে টেস্টটাকে ভুলতে চায় তারা। দলের ম্যানেজার এ প্রসংগে বলেন, ‘আজ (কাল) রাতে টিম মিটিং হবে। হারারের টেস্টের ক্ষত শুকাতে গত কিছুদিন সময় লেগেছে খেলোয়াড়দের। তারা নিজেরাও উপলব্ধি করতে পেরেছে, কতো বড় বিপর্যয় হয়েছে। চেষ্টা করছে যেন সবকিছু ভুলতে। কোচও সবার সাথে কথা বলেছে, আমরা আশাবাদী দ্বিতীয় টেস্টে দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে’। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সেরা একাদশ তৈরি করতে টিম ম্যানেজমেন্টও প্রস্তুত। ইনজুরি কাটিয়ে পুরোদমে অনুশীলন করছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তাকে জায়গা দিতে দ্বিতীয় টেস্টে সরে যেতে হবে শাহরিয়ার নাফীসকে। অন্যদিকে তিন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত এক প্রকার নিশ্চিত। শফিউল ইসলাম গত মঙ্গলবার বেশ ভালো বল করেছেন বলে জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার। সাজিদুল ইসলামও রয়েছেন। আর প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র সফল খেলোয়াড় রবিউল ইসলাম শিপলু তো আছেনই। সম্ভবত দ্বিতীয় টেস্টে এক স্পিনার খেলাবে বাংলাদেশ। সাকিব হয়তো বল নাও করতে পারেন, সেক্ষেত্রে সোহাগ গাজী রয়েছেন তবে বাদ পড়তে পারেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। যদিও রাতে টিম মিটিংয়ে সেরা একাদশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার। দল নিয়ে হতাশ কোচ শেন জার্গুনসেন। হারারের প্রথম টেস্ট হেরে যাওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন কোচও। কাল এ প্রসংগে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি প্রথম টেস্টে আমরা ভালো খেলিনি। জিম্বাবুয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ তবে আমরাও এখানে জিততে এসেছি। প্রথম ম্যাচে আমাদের প্রতি সবার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ম্যাচটি আমরা হেরে যাই। পরিসংখ্যানের দিকে তাকান, দেখবেন ওদের মাটিতে ওরা ভালো ক্রিকেট খেলে থাকে।’ প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে মিলে বাংলাদেশের স্কোর তিনশ’ও পার হয়নি। যারা প্রায় চার বছর পর টেস্ট ষ্ট্যাটাস পেয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে। তাদের কাছে ৩৩৫ রানের বড় পরাজয়ের পরও কোচ এটিকে বড় কিছু ভাবতে নারাজ? এসব প্রশ্নই আজ হারারে মাঠে তেড়ে আসবে। কোচ জার্গুনসেন ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘টেস্ট ক্রিকেট খেলতে হয় পাঁচদিন। কিন্তু প্রথম টেস্ট আমরা খেলেছি মাত্র দুইদিন। বাকি দুইদিন আমরা সমস্যায় ছিলাম’। বাংলাদেশর জন্য এই টেস্ট নিজেদের মান ফিরিয়ে আনার লড়াই; তেমনি জিম্বাবুয়ের জন্য নিজেদের সাফল্যকে আরও উঁচুতে তুলে নিয়ে যাওয়ার লড়াই। এই টেস্ট জিতলেও জিম্বাবুয়ের জন্য অবশ্য খুব ভালো সুখবার্তা নিয়ে আসবে না। বর্তমানে তাদের কোন টেস্ট রেটিং নেই। সিরিজ জিতলেও রেটিং মিলবে না তবে ভবিষ্যতের জন্য টেস্ট র্যাংকিংয়ে জায়গা করতে তাদের সুবিধাই হবে। এই টেস্টে স্বাগতিকদের মূল ভরসা অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। পরপর দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পাওয়া এই ব্যাটসম্যানই দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশকে ভালো কিছু করতে গেলে টেলরকে থামানোর কৌশলটা বের করতে হবে।