রাতটা হতে পারতো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, গঞ্জালো হিগুইন বা মারিও গোটজের। কিন্তু এরা কেউ নন। গত বুধবার ডর্টমুন্ডের সিগন্যাল ইদুনা পার্কের সবটুকু আলো কেড়ে নিলেন রোনালদোদের তুলনায় একেবারেই অখ্যাত এক রবার্ট লেবানডস্কি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সেমিফাইনালে চার গোল করে এই পোলিশ একাই হারিয়ে দিলেন রিয়াল মাদ্রিদকে। অথচ এই ম্যাচে লেভানডস্কির খেলা নিয়েই ছিল সংশয়। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত থাকায় ম্যাচের একদিন আগেও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছিল না, রিয়ালের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামছেন কিনা। শেষ পর্যন্ত খেললেন এবং খেলার অষ্টম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটাও আসলো তার পা থেকেই। এরপরে ৫০ এবং ৫৫ তম মিনিটে আরো দুটি গোল করে পূর্ণ করলেন হ্যাট্রিক। এরপরে ৬৬তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে আরেকটি গোল করে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিলেন। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসেও নিজের নামটি চিরস্থায়ী করে ফেললেন এই ২৪ বছর বয়সী তারকা। কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে এর আগে চার গোল দেয়ার রেকর্ড নেই আর কারো।
ম্যাচ শেষে লেভানডস্কিও জানালেন তার উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া, ‘আমি চারটি গোল করতে পেরে আনন্দিত। তবে এখন জরুরী হচ্ছে ফাইনালে পৌঁছা। যদিও আমরা শুধু প্রথম পদক্ষেপটা ফেলতে পেরেছি। তবে আমরা খুশি।’ দীর্ঘদেহী এই স্ট্রাইকারকে নিয়ে আনন্দের পাশাপাশি শঙ্কারও শেষ নেই ডর্টমুন্ড সমর্থকদের। কারণ এ মৌসুমে এখনো পর্যন্ত ৩৪টি গোল করা এই স্ট্রাইকারের দিকে চোখ পড়েছে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর। তবে ম্যাচ শেষে ডর্টমুন্ড কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ যা বললেন তাতে আশাবাদী হতেই পারেন সমর্থকরা। তিনি বলেন, ‘সে দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড় এবং আমি নিশ্চিত সে থাকছে।’
