বাংলাদেশের চলতি এই জিম্বাবুয়ে সফর শেষ পর্যন্ত প্রাপ্তির খাতায় লেখা থাকবে, নাকি লজ্জার খাতায়; সেটা সময় বলবে। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে, এই সফর বাংলাদেশের জন্য একজন পেসার খুঁজে পাওয়ার সফর বলে অবশ্যই বিবেচিত হবে—রবিউল ইসলামকে খুঁজে পাওয়ার সফর।
প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে প্রথমবারের মতো নিজেকে প্রমাণ করা রবিউল দ্বিতীয় টেস্টেও দুরন্ত ফর্মে থাকার ইঙ্গিতই দিলেন। যদিও যতো ভালো বল করেছেন, উইকেট ততোগুলো পাননি। তারপরও তার জোড়া আঘাত এবং নাসির হোসেনের ব্যাটিংয়ে কাল দ্বিতীয় দিন শেষে হারারের দ্বিতীয় টেস্টে খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ।
৬ উইকেটে ৩০০ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ নাসির, সোহাগ ও রবিউলের কল্যাণে অলআউট হওয়ার আগে ৩৯১ রান করেছে। জবাবে প্রথম ইনিংসে কাল দিনশেষে ১৫৮ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
হারারের প্রথম টেস্ট বোলার রবিউলকে চিনিয়েছে; কাল সকালের সেশনে ‘ব্যাটসম্যান’ রবিউলেরও বলার মতো কিছু আছে!
বাংলাদেশের হয়ে দিনের শুরুটা করেছিলেন নাসির ও জিয়াউর রহমান। আগের দিনের সঙ্গে স্কোরবোর্ডে আর ১৩ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ১৪ রানে ফিরে যান জিয়া। এরপর অষ্টম উইকেটে ৫১ রানের একটা জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোরটা বেশ স্ফিত করে তোলেন নাসির ও সোহাগ। সোহাগ ২১ রান করে ফিরে যাওয়ার পরও চলছিল নাসিরের ব্যাট।
নাসির আগের দিনই খুব আগ্রাসী ভঙ্গিতে শুরু করেছিলেন। কালও ধরে রেখেছিলেন সেই আগ্রাসন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যতম ধারাবাহিক এই ক্রিকেটার ৬৬ বলে পৌঁছে যান ফিফটিতে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, কলম্বোর পর আরেকটা টেস্ট সেঞ্চুরিও পেয়ে যাবেন নাসির। কিন্তু ক্রেমারের অসাধারণ বাক নেয়া এক বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৭৭ রান করে; ইনিংসে তার ১১টি চার।
নাসির যখন নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন, তখন দলের রান ৩৬৭। এই রানটাকেই আরো একটু দর্শনীয় করে তুললেন রবিউল। উইকেটে এসেই বাউন্ডারি হাঁকানো শুরু করলেন। শেষ উইকেট জুটিতে সাজিদুলকে সঙ্গে নিয়ে ২৪ রানের জুটি করলেন; পুরোটাই রবিউলের অবদান! ১৮ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো রবিউলের এই ইনিংস হয়তো আরো লম্বা হতে পারতো কিন্তু সাজিদুল অন্য প্রান্তে আউট হয়ে যাওয়ায় থেমেই গেল বাংলাদেশের ইনিংস। অপরাজিত রইলেন রবিউল।
ব্যাট হাতে এই অন্য মূর্তি দেখানোর পরপরই বল হাতে স্বরূপে রবিউল। একেবারে প্রথম ওভার থেকেই দুরন্ত বল করতে থাকা রবিউলের উইকেট পাওনা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। লাঞ্চের পর নিজের প্রথম ওভারে সিবান্দা ও চাকাভাকে রীতিমতো ত্রাসের সামনে ফেলে দিয়েছিলেন। পরের ওভারে রবিউলের চতুর্থ ওভারে চাকাভার ক্যাচ ফেলেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত নিজের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ওভারে তিন বলের ব্যবধানে ফেরান তিনি দুই ওপেনারকে।
জিম্বাবুয়ে আরো বিপাকে পড়ে যায় সাকিব আল হাসানও আঘাত করলে। সাকিবের দুরন্ত এক টার্নে বোল্ড মাসাকাদজা। এখান থেকে আবারও বাংলাদেশকে শঙ্কায় ফেলে দেয়া এক জুটি করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেই টেলর ও ওয়ালার।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক অত্যন্ত বিস্ময়কর ভাবে ৪১তম ওভারে প্রথম বোলিং করতে ডাকলেন সোহাগ গাজীকে। আর এসে নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই তিনি ফেরালেন টেলরকে।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: আগের দিন শেষে ৩০০/৬
নাসির ব ক্রেমার ৭৭
জিয়াউর এলবিডব্লিউ ব মেথ ১৪
সোহাগ ক চিগাম্বুরা ব ক্রেমার ২১
সাজিদুল ক মুতাম্বামি ব চিগাম্বুরা ০
রবিউল অপরাজিত ২৪
অতিরিক্ত (বাই ২,লেগ বাই ৭,ওয়াইড ১,নো ৪) ১৪
মোট (অল আউট, ১১৩.২ ওভার) ৩৯১
উইকেট পতন: ১-৪৪(জহুরুল), ২-৫৮(আশরাফুল), ৩-১০২(তামিম), ৪-১২৫(মমিনুল), ৫-২৪৮(সাকিব), ৬-২৮০(মুশফিক), ৭-৩১৩(জিয়া), ৮-৩৬৪(সোহাগ), ৯-৩৬৭(নাসির), ১০-৩৯১(সাজিদুল)।
বোলিং: জার্ভিস: ২৫-৪-১০৫-১,মেথ: ২২-৭-৪১-২,মাসাকাদজা: ১৭-২-৫২-১,চিগাম্বুরা: ২৪.২-৭-৭৫-৩,ক্রেমার: ২৫-৩-১০৯-২।
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস:
সিবান্দা ক মুশফিক ব রবিউল ১০
চাকাভা ক মুশফিক ব রবিউল ১২
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ব সাকিব ১৪
টেইলর ক সাকিব ব সোহাগ ৩৬
ওয়েলার ব্যাটিং ৩০
চিগাম্বুরা ব্যাটিং ৪৫
অতিরিক্ত(বাই ৪, লেগ বাই ৭) ১১
মোট (৬২ ওভার, চার উইকেট) ১৫৮
উইকেট পতন: ১-২৩(চাকাভা), ২-২৬(সিবান্দা), ৩-৪৫(মাসাকাদজা),৪-৯৭(টেইলর)।
বোলিং: রবিউল: ১৯-৯-৩৪-২,সাজিদুল: ১৪-৫-৩৯-০, জিয়াউর: ৫-৩-৫-০, সাকিব: ১৩-৩-৪০-১, সোহাগ: ১০-১-২৯-১, আশরাফুল:১-১-০-০।
