তিন দিনের মাথায় আবারও অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের কাবাডিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো। এবারের ঘটনায় ঘটনা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। দু’পক্ষের চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। যদিও আজ এই ইভেন্টের ফাইনাল হওয়ার কথা।
গন্ডগোলে আহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর মুসা। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অপরদিকে পুলিশের খেলোয়াড়দের হাসপাতালে নিলেও তারা প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে মাঠে ফিরে আসেন।
গতকাল কাবাডি স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১০টায় গেমস কাবাডির পুরুষদের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১৩ মিনিট বাকি থাকতে বিবাদের সূত্রপাত। তখন সেনাবাহিনী ১৭-১২ পয়েন্টে এগিয়ে। নিয়ম অনুসারে সেনাবাহিনীর রেইডার আবু সালেহ মুসা রেইড করে পুলিশের সীমানায়। তাকে জাপটে ধরে ফেলেন পুলিশের খেলোয়াড়রা। নিয়ম আছে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় মাটিতে পড়ে গেলে ত্রিশ সেকেন্ডের বেশি ধরে রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে এই অবস্থায় আম্পায়ার খেলা বন্ধের বাঁশি বাজান।
কিন্তু মাটিতে পড়ে থাকা সেনাবাহিনীর রেইডার মুসাকে জাপটে ধরে আছেন পুলিশের খেলোয়াড়রা। তারা মুসাকে কিল ঘুসি মারছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের অন্য খেলোয়াড়রা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। বাইরে থাকা পুলিশের সদস্যরা চেয়ার ছুঁড়ে মারেন খেলোয়াড়দের গায়ে। মুহূর্তের মধ্যে কাবাডি কোর্টে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়। এলোপাতাড়ি মারামারিতে মুসা আঘাত প্রাপ্ত হন। আহত হন পুলিশের খেলোয়াড়রাও। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। মাঠে থাকা পুলিশের উপর আস্থা রাখতে পারছিলেন না সেনাবাহিনীর খেলোয়াড়রা। তারা ফোন করে র্যাব ডেকে এনে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
মারামারি থামলে রেফারি শাহ আলম এবং আব্দুল হক খেলা শুরু করার জন্য ডাকলেও সেনাবহিনী খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। সেনাবাহিনী কাবাডি দলের ম্যানেজার তানিম হোসেন খান গঠনতন্ত্রের ১২ ধারা আগে নিষ্পত্তি করার অনুরোধ জানান রেফারিকে। ১২ নম্বর ধারায় আছে আলোর স্বল্পতা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অথবা অন্য কোনো কারণে খেলা স্থগিত হলে সেই খেলাটি এক ঘণ্টার মধ্যে শুরু করতে হয়। অথচ প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মাঠে আসেনি। সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে তাদের খেলোয়াড়রা কোর্টে আসেন।
খেলা পরিচালনার জন্য আম্পায়ার দুই দলকে কোর্টে ডাকলে তখন সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা আবারো আগে ১২ নম্বর ধারা বাস্তবায়নের দাবি জানান। এই নিয়ে আবার বাধে বিপত্তি। ১৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে নির্ধারিত সময় কোনো দল মাঠে উপস্থিত থেকে খেলতে অস্বীকার করলে সেক্ষেত্রে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কিন্তু সেনাবাহিনী বলছে আগে ১২ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন করতে হবে। মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মারুফ হাসান বলেন, ‘আমরা যদি খেলোয়াড়দেরকে সার্বিক নিরাপত্তার কারণে মাঠ থেকে সরিয়ে না নিতাম তাহলে রক্তারক্তি হয়ে যেত। পরিস্থিতি ফিরে আসায় খেলোয়াড়রা এসেছেন।’
পুলিশের খেলোয়াড় রোমাকনুজ্জামানের আঙ্গুলে কামড় দিয়েছেন মুসা। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘটনার জন্য আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। পুলিশের খেলোয়াড়রা জানায়, তাদের মাসুদ করিম, ওমর ফারুক, আব্দুজ্জামান, রেজওয়ানুল হক আহত হয়েছেন। তারা হাতের ব্যান্ডেজ দেখিয়েছেন সাংবাদিকদের। সেনাবাহিনী কাবাডি দলের ম্যানেজার তানিম হোসেন খান বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম পুলিশের খেলোয়াড়দের পেছনে বসা এতো পুলিশ সদস্য থাকাটা ঠিক হবে না। তারা যদি দর্শকই হয় তাহলে কেন এখানে থাকবেন। গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেয়া উচিত। কিন্তু ফেডারেশন সেটা আমলে নেয়নি বলেই এমন কাণ্ড ঘটেছে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার গেমস কাবাডির মহিলা ফাইনালে আনসার ও বিজেএমসির মধ্যকার খেলাটিতে রক্তারক্তি হয়। আম্পায়ারের উপর হামলা চালান আনসারের খেলোয়াড়রা।
