শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৩
দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অসম্ভব বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু গতানুগতিকভাবে সরকারি দল সহজে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না। তা আমরা ১৯৯১, ২০০১ ও সর্বশেষ ২০০৬ সালে দেখেছি। একইভাবে বর্তমান সরকার সংবিধান পরিবর্তন করে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে যা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট প্রত্যাখ্যান করে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আন্দোলন করছে। তারা এই ইস্যুতে হরতাল দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে সরকারি দল মারমুখী আচরণ করছে। মধ্যখান থেকে বলী হচ্ছে নিরীহ জনগণ ও দেশের অর্থনীতি। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিহাস বলে একমাত্র এরশাদের স্বৈরশাসন এর বিরোধিতা ছাড়া বড় দুইটি প্রতিদ্বন্দ্বী দল কোন কিছুতেই একমত হতে পারেনি। উপরন্তু এক দলের কাজকর্মে অন্য দল আপোষহীন বিরোধিতা করে এবং একে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখে। এমনও হয়েছে এক দলের গৃহীত ভাল পদক্ষেপও অন্য দল ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিয়েছে। দেশের এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে? আর সকল দল বিশেষত প্রধান বিরোধী দল উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি? এই পরিস্থিতিতে তারা নিজেরা নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একমত না হলে দেশের সামনে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। অন্তত দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে উভয় দলই শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপে বসা উচিত। সরকারি দলকে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করে আলোচনার ব্যবস্থা করা উচিত। ফরাজী ইয়াকুব আলী ৩য় বর্ষ, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের ক্ষমতার শতভাগ প্রতিফলন ঘটে নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়েই যখন অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তখন গণতন্ত্র হুমকির সন্মুখীন হয়। দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নির্বাচন নিয়ে দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের এমন যুদ্ধংদেহী অবস্থান দেশের জনগণকে শংকার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। নির্বাচনী সংঘাত শুরু হয়েছে এখনই। এই নিয়ে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে। নানা অনিশ্চয়তা, সংশয়, নিশ্চিত সংঘাত জেনেও কোন দলই সংকট নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। হরতালের সহিংসতায় কয়েকদিন আগে কুমিল্ল¬ার লাকসামে ৩ মাসের এক নবজাতক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই নিষ্পাপ শিশুর অকাল মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে ? যতই দিন যাচ্ছে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সরকার দেশের জনগণের জান-মাল নিরাপত্তা রক্ষায় তেমন কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, উল্টো বিরোধীদলকে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করে দিচ্ছে। এতে করে জনকল্যাণমুখী সরকার এখন প্রায় জনবিচ্ছিন্ন। নির্বাচনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে দু’দল যখন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত, ঠিক সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানীরা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চাইবে। তখন জনগণের শাসন অর্থাত্ গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায়; দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। যে কোন ভাবেই হোক গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। গণতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের বিকল্প হল আরো উন্নততর গণতন্ত্র। তাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। মো. মাসফিকুর রহমান বায়েজীদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (৪র্থ বর্ষ) সরকারি আজিজুল হক কলেজ, নারুলী, বগুড়া নির্বাচনের নামে প্রহসনমূলক নির্বাচন হবে দেশ আজ অন্ধকার গহবরের দিকে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে আতংকের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। অথচ বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে, সাধারণ মানুষ আশা করেছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়বে এ সরকার। কিন্তু ক্ষমতা পেয়েই এ সরকার অতীত ইতিহাস নিয়ে এত ঘাটাঘাটি করছে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করবার জন্য হাইকোর্টের আংশিক রায় মেনে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করে দেশকে এক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিরোধী দলও ক্ষমতার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে অহরহ হরতাল দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ চায় দু’বেলা মোটা চালের ভাত খেয়ে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে। অথচ কোন রাজনৈতিক দলেরই অন্য রাজনৈতিক দলের উপর নেই কোন বিশ্বাস, নেই কোন আস্থা, নেই সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ। যার কারণে সাধারণ মানুষ মনে করছে, কোন অবস্থাতেই এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অনেকেই বলে থাকেন, এ সরকারের আমলে তো সাড়ে পাঁচ হাজার নির্বাচন হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ঐ নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই পারেন দেশের এ ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে। সংলাপ কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বা তার ছায়া জাতীয় কিছু প্রতিষ্ঠিত না করে, সরকার যদি প্রহসনমূলক নির্বাচন করতে চায় তবে ১/১১ ‘র চেয়ে বড় কিছু হয়ত আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে । নুসরাত জাহান ইভা বি এস এস ১ম বর্ষ সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ গণতান্ত্রিক উপায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সকলের কাম্য আগামী সংসদ নির্বাচন গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতে হোক এটা সবার কাম্য। কিন্তু বর্তমানে সংঘাতের রাজনীতি এই আশাটাকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে। দেশের জনগণ হানাহানি ও সংঘাতের রাজনৈতিক আচরণ পছন্দ করে না। এটা আমাদের বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে বুঝতে হবে। হঠাত্ গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন সংগঠনের কথায় না গিয়ে এবং অতি চালু কিছু বুদ্ধিজীবীর কথাবার্তা নির্বাচনকে আঁধারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাই নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজন এবং অতিকথন ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করাই সামনে মুখ্য চ্যালেঞ্জ। যারা গণতান্ত্রিক দাবির নামে মানুষ খুন এবং সহিংসতার রাজনীতি করছে তারা কোন রাজনৈতিক দল নয়— এরা ‘সন্ত্রাসী’। বিরোধী দলকে দমন-পীড়ন না করে সরকারের উচিত হবে একটা সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। এস.এম হূদয় রহমান এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ দাউদকান্দি, কুমিল্লা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন