গত ছয় মাসে বাংলাদেশ টেস্টে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা দুবার করে ভেঙে গড়েছে। হারারের প্রথম টেস্টটি বাদ দিলে বাংলাদেশের ব্যাটিং উন্নতিটা পরিষ্কার। এই সময়ে একটার পর একটা নতুন রেকর্ড হয়েছে। গতকাল আরেকটি ‘রেকর্ড’ করলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এই প্রথম বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান একই টেস্টে দু ইনিংসেই সেঞ্চুরি করলেন। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেনের এই ব্যাটিং কীর্তি এবং সাকিব ও জিয়াউর রহমানের বোলিংয়ে হারারের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ এখন জয় দেখতে পাচ্ছে।
দ্বিতীয় হারারে টেস্টের চতুর্থ দিনে, কাল বাংলাদেশের ইনিংসকে স্ফিত করে তোলা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আউট হয়েছেন সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে। সঙ্গে নাসির হোসেনের ৬৭ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ২৯১ রান তুরে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে প্রায় ৫ সেশনে জিম্বাবুয়ের সামনে এই টেস্ট জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০১ রান! পর্বতপ্রমাণ এই রান পাড়ি দেয়াটা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব করে তুলেছেন সাকিব আল হাসান ও জিয়াউর রহমান। এই দুই অলরাউন্ডার ২টি করে উইকেট তুলে নেয়ায় কাল দিনশেষে জিম্বাবুয়ে ১৩৮ রান তুলতে হারিয়েছে ৪ উইকেট।
বাংলাদেশের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যাওয়া সাকিব আগের দিন ৫৯ রান করে আউট হয়েছেন। তবে তৃতীয় দিনশেষে ভরসা হয়ে উইকেটে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন; ৫ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে কাল দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। মুশফিক-নাসির জুটি সকালেও নিজেদের দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।
সাকিবকে আউট করে চমক দেয়া হ্যামিলটন মাসাকাদজাই সকালে এই ৮৪ রানের জুটি ভাঙেন; তাও আবার মুশফিককে ফিরিয়ে। মাসাকাদজার অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে চালাতে গিয়ে ১৫৩ বলে ৯টি চারে সাজানো ৯৩ রানের ইনিংস শেষ হয় বাংলাদেশ অধিনায়কের। এরপরও চলতে থাকে নাসির হোসেনের পাল্টা আক্রমণ।
মুশফিক আউট হওয়ার পর নাসিরকে মূলত সেভাবে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। শুধু সোহাগ গাজী একটা ছক্কা মেরে ১১ রান করে কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছিলেন। অন্য প্রান্তে নাসির অবশ্য রানের চাকা ঘোরাতে থাকেন; এক পর্যায়ে আবারও ফিফটি পেয়ে যান ‘মিস্টার কনসিসটেন্ট’।
অবশেষে বাংলাদেশের লিড ৪০০ রান স্পর্শ করা মাত্র বাংলাদেশের নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো ইনিংস ঘোষণা করে দিল। নাসির ১২৯ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকলেন।
৪০০ রানের লিডকে বাংলাদেশের যথেষ্ট মনে করার ভালো যুক্তিও আছে। এই মাঠের ইতিহাস বলে, এটা অনেক বড় টার্গেট। এমনিতেই চার শ রানের ওপরের লক্ষ্য তাড়া করে টেস্ট জেতার ইতিহাস মাত্র দুটি। আর হারারেতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৯২ রান করে টেস্ট জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। এই মাঠে শেষ ইনিংসে কখনোই চার শ রান হয়নি। ড্র ম্যাচে সর্বোচ্চ নিউজিল্যান্ড করেছিল ৮ উইকেটে ৩০৪ রান এবং জিম্বাবুয়ে নিজে ২০০২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১০ রান করতে পেরেছিল।
ফলে বাংলাদেশের নির্ভার থাকার কারণ ছিল। উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যানকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ফিরিয়ে দলকে আরও নির্ভার করে দেন সাকিব। তবে সারা টেস্ট নিষ্প্রভ হয়ে থাকা জিয়াই আসল কাজটা করেন। দুই ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর ও ম্যালকম ওয়ালারকে ফিরিয়ে খেলায় চালকের আসনে নিয়ে আসেন বাংলাদেশকে।
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস:
আগের দিন ১৬৩/৫ (মুশফিক ৫০*, নাসির ৬*)
মুশফিক ক সিবান্দা ব মাসাকাদজা ৯৩
নাসির অপরাজিত ৬৭
জিয়াউর স্টা মুতাম্বামি ব ক্রেমার ০
সোহাগ ক সিবান্দা ব মাসাকাদজা ১১
সাজেদুল ক মুতাম্বামি ব মাসাকাদজা ৪
রবিউল অপরাজিত ৪
অতিরিক্ত (লেগ বাই ৫,ওয়াইড ২,নো ৪) ১১
মোট (নয় উইকেট,৮৮ ওভার, ডিক্লেয়ার্ড) ২৯১
উইকেট পতন: ১-৭ (তামিম), ২-১২ (জহুরুল), ৩-১৮ (আশরাফুল), ৪-৬৫ (মমিনুল), ৫-১৪৯ (সাকিব), ৬-২৩৩ (মুশফিক), ৭-২৩৪ (জিয়া), ৮-২৫৫ (সোহাগ), ৯-২৭৯ (সাজেদুল)।
বোলিং: জার্ভিস: ২২-৩-৮০-১,স্টুয়ার্ট মাসাকাদজা: ২৪-৫-৫৮-৪, ক্রেমার: ১৭-১-৭০-১,চিগাম্বুরা: ১৪-০-৫৪-০,হ্যামিল্টন মাসাকাদজা: ১১-১-২৪-৩।
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস:
সিবান্দা ক সোহাগ ব সাকিব ৩২
চাকাভা ব সাকিব ২২
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ব্যাটিং ৪৬
টেইলর এলবিডব্লিউ ব জিয়াউর ১০
ওয়ালার ব জিয়াউর ১৫
স্টুয়ার্ট মাসাকাদজা ব্যাটিং ৭
অতিরিক্ত ( লেগ বাই৫, নো বল ১) ৬
মোট (চার উইকেট, ৪৩.৪ ওভার) ১৩৮
উইকেট পতন: ১-৩৬ (চাকাভা), ২-৬৬ (সিবান্দা), ৩-৯৬ (টেইলর), ৪-১১৮ (ওয়ালার)।
বোলিং: রবিউল: ৮.৪-২-২৪-০,সাজিদুল: ২-১-৫-০, সাকিব: ৯-০-৪৫-২, সোহাগ: ১২-৫-২৩-০, জিয়াউর: ১২-৪-৩৬-২।
