এসএমএস-এর চাইতে বেশি জনপ্রিয় চ্যাটিং

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪১
কথা বলার বাইরে এসএমএস-এর ফিচারটিই এতদিন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে এসেছেন মোবাইলের ব্যবহারকারীরা। ইতোমধ্যেই ২০ বছর সময় পেরিয়ে এসেছে এসএমএস। দীর্ঘ এই পথচলায় বিশ্বের সব দেশেই এসএমএস সমান জনপ্রিয়তা পেয়ে এসেছে। তবে এসএমএস-এর সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এসএমএস-এর জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনের ম্যাসেজ। গত বছরের হিসেবে প্রথমবারের মতো পরিমাণের দিক থেকে এসএমএসকে অতিক্রমই করে ফেলেছে চ্যাটিং ম্যাসেজ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফর্মা তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পাঠানো সর্বমোট ম্যাসেজের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ বিলিয়ন। সেখানে গত বছর টেক্সট এসএমএস পাঠানোর সংখ্যা ছিল সর্বমোট ১৭.৬ বিলিয়ন। অর্থাত্, এসএমএস-এর চাইতে গত বছরে চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনে পাঠানো ম্যাসেজের সংখ্যা ছিল বেশি। ইনফর্মা তাদের প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, সামনের বছরগুলোতে চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে পাঠানো ম্যাসেজের সংখ্যা সামনের বছরগুলোতে আরও বাড়বে। তাদের অনুমান, ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী চ্যাটিং ম্যাসেজের সংখ্যা হবে ৫০ বিলিয়ন। সেখানে এসএমএস-এর পরিমাণ হবে মাত্র ২১ বিলিয়ন। চ্যাটিংয়ের এই জনপ্রিয়তার মূলেই রয়েছে স্মার্টফোন—এমনটিই মনে করে ইনফর্মা। ইন্টারনেটের ছড়িয়ে পড়া, বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তাই চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে অনেক বেশি জনপ্রিয় করে তুলছে বলে মনে করছে তারা। তবে জনপ্রিয়তায় এসএমএস পিছিয়ে পড়লেও তাতে এখনই শংকিত হওয়ার কারণ নেই বলেও জানিয়েছে তারা। কেননা, সারা বিশ্বেই এখনও বিপুল পরিমাণ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে না। স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বাড়তির দিকে থাকলেও সাধারণ ফোনের রাজত্ব আরও অনেক দিন থাকবে বলেই গার্টনারসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। ইনফর্মা জানাচ্ছে, সাধারণ ফোনের ব্যবহার যতদিন থাকবে, ততদিন এসএমএসও থাকবে বহাল তবিয়তেই। কেননা সাধারণ ফোনে এসএমএসই একমাত্র ভরসা।