শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৩
উভয় দলের সমঝোতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের দেশে বিতর্কের শেষ নেই। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, এহেন পরিস্থিতি দেশে বিরাজ করলে দেশে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, একদিকে সরকারদলীয় লোকদের একতরফা নীতি, অন্যদিকে বিরোধী দলীয় লোকদের হরতাল। এহেন পরিস্থিতিতে জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। দুই দলেরই উচিত একটা সমঝোতায় আসা। নইলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে সম্ভাবনা আছে। উভয় দলেরই উচিত নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মন-মানসিকতা পরিহার করে দেশের জন্য ভাবা, দেশের মানুষের জন্য ভাবা। আমাদের দেশে প্রধান দুই দলই সবসময় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে সবই হয় তার উল্টো। গণতন্ত্রের যে মূলমন্ত্র-স্বাধীনতা, সহিষ্ণুতা ও ন্যায়বিচার, তা উভয় দলের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত। সে জন্য তারা একে-অন্যের মতামত ও স্বাধীনতা মেনে নিতে পারছে না। তাই এহেন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমাদের উচিত সঠিক গণতন্ত্রের দিকে ফিরে তাকানো। যেখানে থাকবে দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা। অতএব, ক্ষমতাসীন দলের উচিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের ভাবনা বাদ দিয়ে বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে, অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা এড়ানোর মধ্যদিয়ে, একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, অবাধ নির্বাচনে রূপ দেয়া। তাহলেই আমাদের দেশের মানুষ শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে পারবে। মো. কাওসার আহমেদ, ২য় বর্ষ, ৩য় সেমিস্টার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় === বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা তা বলা কঠিন দেশের বর্তমান প্রধান বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনর্বহাল। কিন্তু সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তা মেনে নিচ্ছে না। তাদের এ ব্যাপারে মত- তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। কারণ সন্দেহ থেকে যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতার সাথে নির্বাচন দেবে না। সারা দেশে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যে বিক্ষোভ মিছিল, হরতাল পালন করছে তাতে জনগণ এখন শঙ্কিত। জনগণের ধারণা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। তবে এর সংখ্যা খুব বেশি নয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আরো একবার ১/১১ দেখতে চায় না। তাই জনগণকে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র উপহার দেয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করেছে বলে আমি মনে করি। সর্বশেষে মানুষের মনে অবিশ্বাসের দানা বাঁধাতে অনেক রাজনীতিক অনেক কথা বলে থাকেন। কিন্তু আমি বলি বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর। নাসিরউদ্দিন ফুরকান স্নাতক সম্মান ১ম বর্ষ, বাংলা বিভাগ সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা-১২১৬ === হিংসাত্মক মনোভাব দূরীকরণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিকল্প নেই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর আজ দেশের যে করুণ অবস্থা তা জাতির জন্য চরম হতাশার গ্লানিমাত্র। জ্বালাও, পোড়াও, হরতাল দেশের মানুষের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন করে দিচ্ছে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি আজ সেই স্বাধীনতার স্বাদ জাতি পাচ্ছে না। তাহলে কি আমাদের লাখো শহীদের রক্ত বৃথা গেল? আর কত রক্তের বন্যা দেখতে হবে? দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট এতটাই ভয়াবহ যে, মানুষের জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই। গণতান্ত্রিক দেশে আজ নিরীহ সাধারণ মানুষ নৃশংসভাবে পশুর ন্যায় হত্যার শিকার হচ্ছে। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি করেছে বিরোধী দল, পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে তত্ত্বাবধাযক সরকার পুনর্বহাল রাখা উচিত। তা না হলে হিংসাত্মক মনোভাব ও ধ্বংসের অবলীলায় জাতি দিশেহারা হয়ে পড়বে। জাতির জীবনে নেমে আসবে এক মহা সর্বনাশ। সহিংসতা, নাশকতা কোন গণতান্ত্রিক দেশের আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে শান্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব। হিংসাত্মক মনোভাব যদি দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিরাজমান থাকে তাহলে কি দেশে শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? মো. মনোয়ার হোসেন স্নাতক সম্মান ১ম বর্ষ ইংরেজি বিভাগ শেরপুর সরকারি কলেজ == রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা সম্ভব বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে দেশের মধ্যে এক অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় অবস্থা বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যে নির্বাচনের ফলাফলে রাজনৈতিক দলসহ সকল দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকারের কাঙ্ক্ষিত প্রতিফলন ঘটবে। এটাই হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া কঠিন ও দুরূহ ব্যাপার বলে ধারণা করা যায়। কারণ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে অবস্থান করছে। তাদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও কার্যক্রম একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, পরস্পর বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস ও হেয় প্রতিপন্ন করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের কথা বিবেচনা করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে একটি কার্যকর সিদ্ধান্তে উপনীত হবে- এমনটাই দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। মো. নাফিজ আহমেদ (রাহিম) বিএসএস (সম্মান), প্রথম বর্ষ ভাওয়াল বদলে আরম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গাজীপুর, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন