বা ং লা দে শে র য ত জ য়
ব্যবধান প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
২২৬ রান জিম্বাবুয়ে চট্টগ্রাম ২০০৫
৯৫ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংসটাউন ২০০৯
৪ উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেন্ট জর্জ ২০০৯
১৪৩ রান জিম্বাবুয়ে হারারে ২০১৩
ম্যাচশেষে কেউ স্ট্যাম্প সংগ্রহ করছেন, কেউ প্রতিপক্ষের অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন; কেউ আবার সতীর্থর সঙ্গেই হাত মেলাচ্ছেন। শুধু কয়েকটা মুহূর্তের জন্য টেলিভিশন পর্দায় দেখে মনে হল, মোহাম্মদ আশরাফুল একটু যেন আনমনা হয়ে ঘুরছেন। আশরাফুলের আনমনা থাকার এক হাজারটা কারণ থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটকে যারা নিয়মিত অনুসরণ করেন, তারা কল্পনা করতে পারেন—আশরাফুল তখন ফিরে গেছেন নয় বছর আগে এই হারারে স্পোর্টস ক্লাবের এক ম্যাচে।
নয় বছর আগে; ২০০৪ সালের ১০ মার্চ এই হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের সোনালী প্রজন্মের দলের বিপক্ষে এই আশরাফুলের দূরন্ত এক ইনিংসে ভর করে ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। সে জয়টা সামান্য একটা জয় ছিল না। সেটা ছিল বাংলাদেশের চার বছর ধরে চলা ওয়ানডে ক্রিকেটের পরাজয়যাত্রার সমাপ্তি।
গতকালও মাঠে ছিলেন সেই আশরাফুল। এবার আর ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে সাক্ষী হলেন সেই একই ইতিহাসের। এবার দেখলেন তিনি সেই হারারেতে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৩ রানের টেস্ট জয়। তাত্পর্যটা এখানেই যে, এই জয়ের ভেতর দিয়ে সেদিনের মতো আবার চার বছর ধরে চলা পরাজয়যাত্রার বিরতি টানল বাংলাদেশ; এবার টেস্ট ক্রিকেটে।
২০০৪ সালের সেই ওয়ানডে জয়ের পর বাংলাদেশ রাতারাতি এমন কিছু পরাশক্তি হয়ে উঠেছে তা নয়। তবে সেই জয়ের পর থেকে গত ৯ বছরে আর কখনো ওয়ানডেতে অমন টানা পরাজয়ের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে হয়নি বাংলাদেশকে। বরং ওয়ানডেতে মাঝারি শক্তির সমীহ করার মতো একটা দলই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। মাঝে মাঝে কিছু মারাত্মক ছন্দপতন ঘটেছে। তারপরও ২০০৭ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা, এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রবল শক্তিধর দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়, নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ ড্র; ওয়ানডে ক্রিকেটে গত নয় বছরে বলার মতো অনেক গল্পই জমা হয়েছে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের ভাড়ারটা একেবারেই শূন্য হয়ে ছিল গত চার বছরে।
শুধু এই একটা কারণেই গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাওয়া এই জয়টা নিয়ে আলোচনা হতে পারে—এটা চার বছর পরে পাওয়া টেস্ট জয়। নতুবা, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জয়ে গৌরবের তো কিছু নেই-ই; লজ্জা মোচনও হয়নি।
গত চার বছরে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই দুটি জয় অন্তত ‘পাওনা’ বলেই ধরে নিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে যখন চার বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরল; বাংলাদেশ ফেভারিট হিসেবেই সে ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল। কিন্তু সবাইকে হতভম্ব করে দিয়ে, দেশের ক্রিকেট ওলোটপালোট করে দেয়া পরাজয় নিয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ।
এর মধ্যে আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা ও কলম্বো টেস্টে দূরন্ত পারফরম্যান্স করে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের কিছুটা হলেও প্রমাণ করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে সাকিব-তামিম-মুশফিকের সঙ্গে নাসির হোসেন, মোমিনুল, সোহাগ গাজীর মতো পারফরমার এসেছে ক্রিকেটে; ফর্মে ফিরেছেন আশরাফুল। ফলে এবার অন্তত সিরিজের দুটি টেস্টেই জয়ের স্বপ্ন নিয়ে জিম্বাবুয়েতে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসেই দেড়শ’ রানের নিচে অলআউট হয়ে নিজেদের ইতিহাসের জঘন্যতম পরাজয়টা হজম করতে হল মুশফিকের দলকে। ফলে আরও দীর্ঘায়িত হল বাংলাদেশের পরাজয়যাত্রা। সেই সঙ্গে প্রশ্নটা কঠোরভাবে উচ্চারিত হল—মাঝে মাঝে ঝলক দেখানো বাংলাদেশ কী আদৌ টেস্ট জয়ের যোগ্যতা রাখে!
সে প্রশ্নের উত্তর জিম্বাবুয়ের এই দুর্বল দলের বিপক্ষে এক জয়ে মোটেও পাওয়া যাবে না। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বাংলাদেশকে আরও অনেক কিছু করে দেখাতে হবে। তবে আশার কথা একটাই যে, পরাজয়ের বৃত্তটা ভাঙা গেছে। আর সেটা সেই হারারেতেই যখন, তখন ওয়ানডের মতোই স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়!
স্কো র কা র্ড
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস:
আগের দিন ১৩৮/৪ (মাসাকাদজা ৪৬*, শিঙ্গি ৭*)
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা অপরাজিত ১১১
শিঙ্গি এলবিডব্লিউ ব আশরাফুল ২৪
চিগাম্বুরা ক রবিউল ব সোহাগ ২
মুতাম্বামি ব জিয়াউর ১২
ক্রেমার ক নাসির ব জিয়াউর ৩
মেথ এলবিডব্লিউ ব রবিউল ৪
জার্ভিস এলবিডব্লিউ সাকিব ৭
অতিরিক্ত (বাই ৪, লেগ বাই ৭,
নো বল ৪) ১৫
মোট (অল আউট, ৯৫.৩ ওভার) ২৫৭
উইকেট পতন: ১-৩৬ (চাকাভা), ২-৬৬ (সিবান্দা), ৩-৯৬ (টেইলর), ৪-১১৮(ওয়েলার), ৫-১৬৪ (শিঙ্গি), ৬-১৬৯ (চিগাম্বুরা), ৭-২০০ (মুতাম্বামি), ৮-২১৪ (ক্রেমার), ৯-২১৯ (মেথ), ১০-২৫৭ (জার্ভিস)।
বোলিং: রবিউল: ২০-৫-৫৩-১, সাজিদুল: ৩-১-৯-০, সাকিব: ১১.৩-০-৫২-৩, সোহাগ: ৩১-১১-৫৬-১, জিয়াউর: ২৩-৮-৬৩-৪, আশরাফুল: ৭-১-১৩-১।
ফল: বাংলাদেশ ১৪৩ রানে জয়ী।
সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজ ১-১ ড্র।
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম।
ম্যান অফ দ্য সিরিজ: রবিউল ইসলাম।
