দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিবেন না
সব দলের অংশের নাম গণতন্ত্র। গণতন্ত্র মানে শান্তিপূর্ণ। আমাদের নতুন প্রজন্মের একটাই চাওয়া বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা। আমাদের দেশে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। দুটি দল সাধারণ মানুষের কথা বলে রাজনীতি করে, কিন্তু সাধারণ মানুষ চায় দু’বেলা ভাত খেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে। আমরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ এসব রাজনৈতিক হরতালের সহিংসতায় জিম্মি। আমাদের পড়ালেখাসহ পরীক্ষাসমূহ ঠিক সময় দিতে পারছি না। দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দুটি দল ক্ষমতা হারানো এবং ক্ষমতা পাবার জন্য দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ক্রান্তিকালে সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বা যে কোন উপায়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। না হলে ১/১১ এর চেয়ে খারাপ অবস্থা আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে। তাই আর সময় নষ্ট না করে স্বাধীন বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে না দেয়ার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আমাদের একমাত্র দাবী। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করার নামই গণতন্ত্র।
আফসানা মৌসুমী
২য় বর্ষ-৪র্থ সেমিস্টার (বিবিএ)
এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (এসইবিটি), ধানমন্ডি, ঢাকা
সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য
নির্বাচন হবে কি না
তা বলা কঠিন
আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক দেশ। আর গণতন্ত্রের অবাধ প্রবাহের জন্য রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হলে যে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া সম্ভব। তবে, উন্নত রাষ্ট্রে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক যদি দলীয় সরকারের অধীনে হতে পারে তাহলে আমরা কেন পারব না, হ্যাঁ? এক্ষেত্রে আমাদের দেশের সকল দলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অবশ্যই সম্ভব। আর যে কোন ক্ষেত্রে সকল দলের সংলাপের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন সম্ভব। ক্ষমতাসীন দলের দাবি, তাদের আমলে ৫,৫৯৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই নির্বাচনগুলোর মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন পর্যন্ত তুলেনি। তারা বুঝাতে চায় যে, দেশে অবাধ গণতন্ত্রের হাওয়া বইছে। তাদের অধীনে যে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব। তবে ইদানীং যে রাজনৈতিক হাওয়া বইছে তাতে আমার মনে হয় সংলাপ এবং সকল দলের আন্তরিকতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক বা দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হোক না কেন।
মো. ইমরান হোসেন
একাদশ শ্রেণি, ব্যবসায় শাখা
নগরকান্দা মহাবিদ্যালয়, ফরিদপুর
দুই নেত্রীর বন্ধুসুলভ আচরণ সমাধানের একমাত্র উপায়
ক্ষণিকের ক্ষমতা আর নেতৃত্বের চুম্বক আকর্ষণে আজ নেশাগ্রস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। এ নেশায় মাতাল হয়ে মানবিক মূল্যবোধটুকুও তারা মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলেন। দেশ আর মানুষের কথা কখন ভাববেন? নিজেদের আখের গোছাতেই তো সময় যায়। তারা ভুলে যান দেশটা সবার। কারো স্বামীর, কারো পিতার একক কৃতিত্বে বাংলাদেশ গঠন হয়নি। জনগণ তাদের কাছে পরস্পর বন্ধুসুলভ আচরণ আশা করে। হিংসা কিংবা সতীনের মত বিষাদময় সম্পর্ক কেউ কামনা করে না। পরস্পরকে ঘায়েল করার পাশবিক মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশের রাজনীতিকদের দিকদর্শন অনুস্মরণ করতে হবে। সেটা হতে পারে এ যুগের বারাক উবামা-মিট রমনি’র সমঝোতার স্বাক্ষর। কিংবা সদ্য প্রয়াত বিপ্লবী নেতা হুগো শ্যাভেজের। অথবা নারী নেতৃত্বে উজ্জ্বল ধ্রুবতারা হিলারি ক্লিনটন, মাহাত্মা/ সোনিয়া গান্ধীর দিক দর্শন। তবে এই গরিব রাষ্ট্রে নিন্দিত, সমালোচিত মার্গারেট থেচারের মত আয়রন লেডি কেউ কামনা করেন না। উপদেশ নয় বরং অন্তরাত্মা থেকে বলছি— স্বার্থ চরিতার্থ, সহিংসতার পথ পরিহার করুন। তাই দেশের স্বার্থে, মাটি ও মানুষের স্বার্থে আমাদের দায়িত্বশীলদের অচিরেই অহিংস শুভ বোধোদয় কামনা করি।
সাইফুল্লাহ ত্রিশালী
ডি এইচ-এম.এম.আরাবীয়া
ও কামিল ২য়বর্ষ (তাফসীর)
শরীফবাগ কামিল মাদ্রাসা
ধামরাই, সাভার
সহনীয়তাই ঘটাতে পারে
গ্রহণীয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
আমাদের চোখ সয়ে গেছে, কান বয়রা হয়ে গেছে, বিভিন্ন নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনাপ্রবাহে। আমরা (জনগণ) শুধুই কেবল বিভিন্ন ঘটনার অনুভূতিহীন দর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। তবে এই দর্শকতার মধ্যেও আমরা একটু সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধিতে জীবন-যাপন করতে চাই এই স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে। বিয়াল্লিশ বছরে অতিক্রম করা স্বাধীনতার ব্যাঘাত ঘটছে, দমন-পীড়ন, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হরতাল, জ্বালাও পোড়াও ইত্যাদি সমস্যার ফলে। তবে এ ব্যাঘাত জনগণ দেখতে চায় না। এমতাবস্থায় চায় সকল দলের অংশগ্রহণে নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। এমনকি দু’হাত থেকে জীবনকে ফসকে না দিয়ে, ইতিহাসকে পাল্টে দিয়ে, জীবনের সংগ্রামী পথে চলার প্রয়োজনীয়তায় সকল দলের সহনীয়তার মাধ্যমে গ্রহণীয় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ঘটানোই সকলের কাম্য।
এস এম শাহীন আলম
বাংলা বিভাগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
