প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ১৮:১৮
বিজ্ঞান জান্নাতুল ফেরদৌস স্বর্ণা,সহকারি শিক্ষক ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা আজ বিজ্ঞানের ১ম ও ২য় অধ্যায় থেকে একটি নমুনা প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করব। প্রশ্ন :উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বর্ণনা কর। উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়েই আমাদের এই জীবজগত্। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশকে সুন্দর রাখার জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। নিম্নে এদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বর্ণনা করা হল: উদ্ভিদের পাতায় এক ধরনের সবুজ কণিকা রয়েছে যা ক্লোরোফিল নামে পরিচিত। এই ক্লোরোফিল পানি ও সূর্যের আলোর সাহায্যে উদ্ভিদকে খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। উদ্ভিদ নিজে এ খাদ্য ব্যবহার করে এবং প্রাণী উদ্ভিদজাত এসব খাদ্য গ্রহণ করে। কাজেই পৃথিবীর সকল প্রাণী খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। আবার সবুজ উদ্ভিদ সারোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির সময় প্রাণীর ত্যাগকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ নিজে অক্সিজেন ত্যাগ করে যা প্রাণী গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায়। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। আমরা জানি প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করে সেই ত্যাগকৃত মলমূত্র এবং প্রাণীর মৃতদেহ মাটির সাথে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং সেই মাটিতে জন্ম নেয়া উদ্ভিদ খুব দ্রুত বাড়ে যা উদ্ভিদের বাঁচার জন্য একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া কীটপতঙ্গ, পাখি এবং অন্যান্য পশু-পাখির সাহায্যে উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটে এবং উদ্ভিদের বীজ বিভিন্ন মাধ্যমে ছুড়িয়ে পড়ে যা উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করে। অনেক উদ্ভিদ আছে যেগুলো বিভিন্ন কীটপতঙ্গ পশুপাখির আবাসস্থল। এ সকল প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। তাই উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। প্রশ্ন :শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কী? উত্তর: আমরা জানি, শ্রাব্যতার সীমার অতিরিক্ত যে শব্দ মানুষের মাঝে বিরক্তির উদ্রেগ ঘটায় তাই শব্দ দূষণ। নানা কারণে শব্দ দূষিত হয় যার ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যেমন: ১. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্থ হয়। ২. উচ্চ শব্দের কারণে কানের বিভিন্ন রোগ হয় অনেক সময় কানের পর্দা ফেটে যায়। ৩. তীব্র মাথাব্যথা হয়। ৪. কানের ও মাথার ক্ষতি ছাড়াও স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ক্ষতি হয়। ৫. শিশুদের পড়াশোনার ক্ষতি, হাসপাতালের রোগীদের সমস্যা হয়। প্রিয় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আজ তোমাদের প্রাথমিক বিজ্ঞান বই এর ১ম এবং হয় অধ্যায় থেকে শূন্যস্থান নিয়ে আলোচনা করা হল। ১ম অধ্যায় : জীব ও আমাদের পরিবেশ শূন্যস্থান পূরণ করো ক) জড় পরিবেশ নানাভাবে জীবের জীবনধারণকে প্রভাবিত করে। খ) উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য মাটি, পানি, বায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ) উদ্ভিদের সবুজ পাতায় ক্লোরোফিল থাকে। ঘ) সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। ঙ) প্রাণী শ্বাসকার্যে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন-ডাই অক্সাইড ছাড়ে। চ) কীট-পতঙ্গ, পাখি ইত্যাদির মাধ্যমে উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটে। ছ) পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। জ) শক্তির প্রধান উত্স আল্লাহ। ঝ) ছোট প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বড় প্রাণী। ঞ) উদ্ভিদের পাতায় সবুজ কণিকা রয়েছে। ২য় অধ্যায় :পরিবেশ দূষণ শূন্যস্থান পূরণ করো ক) পরিবেশের পরিবর্তন যখন আমাদের ক্ষতি করে তখন তাকে আমরা বলি পরিবেশ দূষণ। খ) বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পরিবেশে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। গ) ঘনবসতি এলাকায় আবর্জনা ও মলমূত্র নিষ্কাশনের তেমন ভালো ব্যবস্থা থাকে না। ঘ) খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হচ্ছে। ঙ) কীটনাশক ব্যবহার করলে বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পুকুর, ডোবা, নদীর পানি দূষিত করে। চ) ইটের ভাটায় ইট পোড়ালে বায়ু দূষিত হয়। ছ) হাসপাতালের বর্জ্য প্লাস্টিক, পলিথিন ইত্যাদি কারণে মাটি দূষিত হয়। জ) উচ্চ আওয়াজ, গোলমাল ইত্যাদি মানুষের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে। ঝ) বিনা প্রয়োজনে গাড়ির হর্ণ বাজালে শব্দ দূষণ ঘটে। ঞ) মানুষ ও অন্যান্য জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন।