বাংলাদেশের ক্রিকেট এবার বুঝি জাতে উঠল!

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২১:৩৯
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ বা ম্যাচগড়াপেটায় অংশ নেয়া বা জুয়াড়িদের হয়ে খেলা ইত্যাদি অভিযোগ অনেকদিন ধরেই চলে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক কৃতী ক্রিকেটার হানসি ক্রনিয়ে ক্রিকেটে ঘুষ লেনদেনের কথা স্বীকার করে গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। ম্যাচগড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ভারতের জনপ্রিয় দুই ক্রিকেটার আজহারউদ্দীন ও অজয় জাদেজাকে দীর্ঘদিন ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত থাকতে হয়। পাকিস্তানের সেলিম মালিকসহ বহু ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে শ্রীলংকান ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধেও। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে ঘুষ বা জুয়াড়িদের হয়ে খেলার বিষয়টি এতদিন আমাদের দৃষ্টি এবং ধারণার বাইরে ছিল। এবার আমরা তাও অর্জন করলাম। আমাদের প্রিয় ক্রিকেটার আশরাফুল এই কাজটি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু আশরাফুলই নন, মোহাম্মদ রফিক, পাইলট, সুজনের মতো ক্রিকেটারদেরও নাম এসেছে জুয়াড়িদের সঙ্গে সন্ধি-আঁতাতে যুক্ত থাকার! এর মধ্য দিয়ে অবশ্য আমাদের ক্রিকেট জাতে উঠল! ঘুষ-দুর্নীতিটা কেন আর অন্যদের একচেটিয়া ব্যাপার হয়ে থাকবে? আমরা কী আর এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারি না? জাতীয়ভাবে ঘুষ-দুর্নীতিতে আমরা হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ক্রিকেটে পারব না কেন? তবে আমরা আশরাফুলদের অসততায় একটুও অবাক হইনি। কারণ সমাজটা যদি ‘শয়তান’ তৈরির মেশিন হয়, তাহলে সেখানে আমরা ‘দেবতা’ আশা করব কীভাবে? গাব গাছে কী আর চন্দন হবে? আমরা একটুও অবাক হব না যদি টিআইবির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অসততা নিয়ে কখনও কোনো প্রতিবেদন বের হয়! আমাদের সমাজটা এখন ঘুষ-দুর্নীতির উর্বর ভূমি। এখানে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে লাখ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত বড়লোক হচ্ছে। এজন্য তাদের কোনোরকম ঝামেলা পোহাতে হয় না। বরং কোনোরকমে একবার বড়লোক হতে পারলেই সব কিছু হাতের মুঠোয় চলে আসে। আইন-প্রশাসন-সরকার-ক্ষমতা সব কিছু বড়লোকের জন্য, বড়লোকের স্বার্থে। তাইতো এদেশে বড়লোক হওয়ার জন্য সবার এত মরিয়া চেষ্টা। এক সময় আমরা পারিবারিক পরিমণ্ডলে এবং পাঠ্যপুস্তকে সত্ হওয়ার, সত্ থাকার শিক্ষাটুকু পেতাম। এখন আর তেমন কথা খুব একটা শোনা যায় না। তাছাড়া সত্ হওয়া বা সততার চর্চা মোটেও সহজ জিনিস নয়। আমাদের দেশে কি শিক্ষিত কি নিরক্ষর কোনো পরিবারই উপার্জনকারী ব্যক্তির উপার্জনের ব্যাপারে সচেতন নয়, এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে না। কয়টি পরিবার পাওয়া যাবে যারা সন্তানের আয়-ব্যয়ের খবর রাখে? বেশি টাকা, তা যেভাবেই আসুক, আমরা কয়জন সেই লোভ সামলাতে পারি? যাদের কোনোভাবেই বাড়তি টাকা কামানোর সুযোগ নেই তারা অবশ্যই সত্, তবে ওটা ওই ‘সুযোগের অভাবে’। আমাদের চাহিদা আছে। প্রতিনিয়ত ভোগবাদী জীবন হাতছানি দিচ্ছে। দামি দামি মোবাইল ফোন, টিভি, ফ্রিজ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি, যা আমাদের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যকে বাড়িয়ে তুলছে। যখন দেখি আমাদেরই প্রতিবেশী বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন নানা ফিকিরে কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন করছে, দামি সব ভোগ্যপণ্য ব্যবহার করছে, তখন আমরা কতজন উদাস থাকতে পারি? বউ-বাবা-মা-অভিভাবক, এমনকি সন্তানরা পর্যন্ত সেইসব উপাদানের জন্য বায়না ধরে—যা বৈধ উপার্জন দিয়ে কখনই সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে আমরা একটু একটু করে আপোষ করতে থাকি। বাড়তি টাকা কামানোর ধান্দায় নিজেকে প্রস্তুত করি। তারপর মওকা পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ি, বিক্রি হয়ে যাই। কিন্তু ওই জিনিসগুলো, যেগুলোর জন্য আমাকে অধঃপাতে নামতে হচ্ছে, তাছাড়াও যে আমার চলবে-এটা কী আমাদের সমাজে কোনো পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে? জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আমরা যে যার মতো সত্। অর্থাত্ আমরা সবাই নিজের মতো করে সততার একটা সংজ্ঞা নির্ধারণ করছি। সেই অনুযায়ী আমাদের যুক্তিতে ‘হাল্কা এক-আধটু অসততা’র চর্চা করছি। যার সুযোগ যত বেশি, সে তত বেশি অসত্ হচ্ছি। কম-বেশি সবাই আমরা অসত্। বুকে হাত দিয়ে আমরা ক’জন বলতে পারব-আমরা সব সহায়-সম্পদ-আয়ের কথা ট্যাক্স স্টেটমেন্টে উল্লেখ করেছি? কেউ ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছি না? চান্স পেলেই আমরা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করছি। অনৈতিক পথে বাড়তি উপার্জন করার জন্য মুখিয়ে থাকছি। এই সমাজ বাস্তবতায় আমরা মসজিদ-মন্দির-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে সততা আশা করি কীভাবে? প্রতিনিয়ত অসততার পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠা মানুষগুলোই তো ওসব প্রতিষ্ঠানে যায়! কাজেই ঘুষ-দুর্নীতি-অসততা নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। ওগুলো চলতেই থাকবে। এখন বরং উচিত এগুলোকে মেনে নেয়া। এসব বিকাশ ও চর্চার অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করা। ঘুষ-দুর্নীতি-অসততায় আমাদের উন্নতি এবং ‘প্রবৃদ্ধি’ অবশ্য বেশ ভালোভাবেই হচ্ছে। গত বছর ডিসেম্বরে আমাদের বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি তদানীন্তন স্পিকার আবদুল হামিদ এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দেশে বছরে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়, তা দিয়ে বছরে একটি করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, সমাজে যারা সততার সঙ্গে চলেন, তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো হতে পারে না। যারা এত অর্থের মালিক হয়েছেন, তারা জনগণের টাকা আত্মসাত্ করে, ব্যাংকের টাকা মেরে বা ঘুষ-দুর্নীতি করে হয়েছেন (প্রথম আলো, ২০ ডিসেম্বর ২০১২)। আবদুল হামিদ সাহেবের বহু আগে বিখ্যাত সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরী তার বিখ্যাত কলাম ‘দরবার-ই- জহুর’-এ লিখেছিলেন, সন্তান হওয়ার যেমন একটাই মাত্র প্রক্রিয়া, ঠিক তেমনি বড়লোক হবারও একটাই উপায়—তা হলো চুরি বা লুটপাট। এরটা মেরে ওরটা কেড়ে, একে ঠকিয়ে, ওকে বঞ্চিত করে তবেই বড়লোক হওয়া। ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাট, কেড়ে-মেরে-ঠকিয়ে-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে যেনতেন উপায়ে বড়লোক হওয়া, বা বড়লোক হওয়ার চেষ্টাটা আমাদের সমাজে মোটামুটি একটা ‘গ্রহণীয়’ ও ‘স্বীকৃত’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমরা কথায় কথায় বলি—পাগলে কী না বলে আর ছাগলে কী না খায়। কথাটা যদিও আংশিক সত্য। পাগল মিথ্যে বলে না, আর ছাগল সব কিছু খেলেও ঘুষ খায় না। ঘুষ খাওয়াটা নিতান্তই মানুষের কারবার। মানুষ ছাড়া আর কেউ বা অন্য কোনো জীব ঘুষ খায় না। সেইদিক থেকে বলা যায়, অন্য প্রাণীর সঙ্গে মানুষের পার্থক্যই হচ্ছে মানুষ ঘুষ খায়, অন্য কোনো প্রাণী খায় না। অবশ্য মানুষ মাত্রই ঘুষ খায়—ব্যাপারটা এমন নয়। ঘুষ খাওয়ার জন্য আপনার কিছু ক্ষমতা থাকা চাই। সেটা ছোট হতে পারে বা বড় হতে পারে। তবে আপনাকে অবশ্যই ক্ষমতাবান হতে হবে। ক্ষমতাসীন ব্যক্তি অথচ ঘুষ খায় না-এমনটি বর্তমান সমাজে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। অবশ্য ঘুষ ব্যাপারটাই এমন যে, এটা প্রকাশ্যে কেউ ‘খান’ না। খেলেও স্বীকার করেন না। এ যেন নিষিদ্ধ নেশা। আমাদের দেশে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা অধিকাংশই ঘুষ খান। কিন্তু জরিপ চালিয়ে দেখুন লাখে একজন ঘুষখোর ব্যক্তিও খুঁজে পাবেন না। আসলে ঘুষ এমন একটা জিনিস যা মানুষ ‘খায়’ বটে, কিন্তু কেউ তা স্বীকার করে না, সাধারণভাবে তা দেখাও যায় না। আমাদের সমাজে কোনো ব্যক্তি ঘুষখোর এটি প্রমাণ করা সহজ কাজ নয়। একই সঙ্গে সেই ব্যক্তির আয়ের সঙ্গে ব্যয় তুলনা করলে তিনি যে ঘুষখোর নন—এটা প্রমাণও অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। মোটের ওপর এটি একটি জটিল সম্পাদ্য। মহামতি চানক্য বহু বছর আগে বলেছিলেন, ‘মাছ কখন জল খায় আর রাজপুরুষ কখন ঘুষ খায় এটা বোঝা সহজ কাজ নয়।’ এক সময় শুধু রাজপুরুষরাই ঘুষ খেত। এখন বিভিন্ন দেশে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউনিয়ন বোর্ড অফিসের পাহারাদার, পিয়ন-ঝাড়ুদার পর্যন্ত ঘুষ খায়। রাজরাজড়াদের আমলে সাধারণ মানুষকে ঘুষ খেতে হয়নি। মোটা ভাত, মোটা কাপড় পেয়ে এমনিতেই তারা সুখে ছিল। মানুষের সুখের ঘরে ঘুষ নামক ‘আগুন’ কে প্রথম আমদানি করে তা বলা কঠিন। তবে এটা যে সভ্যতার সমান বয়সী—একথা জোর দিয়ে বলা যায়। মানুষ যখন থেকে লোভ-লালসা-মোহ দ্বারা পরিচালিত হতে শিখেছে, লাভ-ক্ষতির অংক কষতে শিখেছে তখন তারা বিধি-নিষেধ, নিয়ম-পদ্ধতি, আইন-কানুনেরও জন্ম দিয়েছে। আর এ দুইয়ের মধ্যে আসন গেড়েছে ‘ঘুষ’ নামক আপদটি। মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘুষ নিঃসন্দেহে একটি অভিনব সংযোগ। ঘুষ ব্যাপারটির সঙ্গে দুইটি পক্ষ জড়িত। একজন ঘুষ প্রদানকারী, অন্যজন ঘুষ গ্রহীতা। ঘুষ গ্রহীতা হচ্ছে ক্ষমতাবান। পক্ষান্তরে ঘুষদাতা হচ্ছে স্বার্থ-প্রত্যাশী। ক্ষমতাবানরা নগদ বাড়তি কিছু পেয়ে ‘স্বার্থ-প্রত্যাশীকে’ কিছু পাইয়ে দেন। এ বাড়তি কিছু পাওয়া এবং পাইয়ে দেয়ার খেলাই হচ্ছে ঘুষ। এদেশের নিপীড়িত মানুষকে যথাসাধ্য সাহায্য করবার রাজনীতি আজো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ ৪৩ বছরেও জাতির জীবনের গভীর অসুখের কোনোটিই দূর হয়নি। এখনও আমাদের দেশের প্রধান দুই দল কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-মারামারি চালিয়ে যায়। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সামাজিক-অর্থনৈতিক-মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ক্লান্ত বাঙালি জাতি আজ এক নৈতিক শূন্যতায় আচ্ছন্ন। এখানে জীবনের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দেবার কোনো সামাজিক সান্ত্বনা অনুপস্থিত। অন্যদিকে রয়েছে এগিয়ে যাবার তথা উপরে উঠবার নিরন্তর হাতছানি। এমতাবস্থায় এগিয়ে যেতে হলে দরকার অসাধুতা। ল্যাং মারা সম্ভব না হলে প্রয়োজন অন্য কোনো ফাঁদ। এ ফাঁদ হচ্ছে ফাটল বা গর্ত বানিয়ে তাতে পা আটকে দেয়া। এ ফাঁদে ঘুঘু ধরা খাবেই। এদেশে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না। এছাড়া রয়েছে আমলাতন্ত্র। তিন গজ জায়গা পার হতে একটি ফাইলের আঠার হাত বদল হতে হয়। প্রতিটি হাত এক একটি বিশ্বস্ত চেকপোস্ট! মাল ছাড়ুন ফাইল নড়বে। না হলে নট নড়নচড়ন! ঘটে ঘটে ঘি ঢেলে তবেই যজ্ঞ। বর্তমান সভ্যতার সঙ্গে ঘুষ বাইসাইক্লিক অর্ডারে ঘুরে-ফিরে আসছে, আসবে। বর্তমানকালে আমরা অনেক পালটে গেছি—রূপ-জৌলুস-চাকচিক্য-ভোগ-লোভ এসব কিছু দিয়ে এক অদ্ভুত মায়ার জগত্ তৈরি করেছি। এই অলীক রঙিন পৃথিবীর দিকে আমাদের অভিযাত্রা। উচ্চভিলাষী মন সারাক্ষণ পেতে চায় ভোগবাদী জগতের পণ্যসামগ্রী। অথচ সাধ্যের সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা। আরো আরো চাইতে চাইতে আরো আরো পেতে পেতে আর পাইয়ে দিতে সবাই মিলে অধঃপাতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা থাকে না। পুঁজিবাদী সমাজে আধুনিকতার নামে সারাক্ষণই ভোগসর্বস্ব বিলাসবহুল জীবন হাতছানি দিয়ে ডাকে। অথচ এ ঠিকানায় পৌঁছানোর কোনো সহজ-স্বাভাবিক পথ খোলা নেই। আমাদের আয়ের পথ সীমাবদ্ধ, অর্থের যোগান সীমিত। তাই সাফল্যের চোরাপথগুলো আমরা খুঁজে নেই সহজেই। ঘুষ, দুর্নীতির চোরাপথে বিচরণ করেই আমাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ে, বাড়ে বাড়ি-গাড়ি-ডাঁট-ফাট-বিত্তবৈভব এবং ভোগের উপকরণ। মধ্যবিত্ত বাঙালি খুব সহজেই বিবেক এবং নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অসাধু বনে যায়। নানা ফিকিরে কিভাবে কিছু বাড়তি পয়সা হাতিয়ে নেয়া যায় এ ব্যাপারে চলে নিয়ত প্রতিযোগিতা। এর ফলে মৃত্যু ঘটে মানবিক গুণাবলীর। আর বর্তমানে আমরা প্রত্যেকেই যেন কাগজের ফুল; বর্ণের বাহার আছে বাইরে, ভেতরে মনুষ্যত্বের গন্ধ নেই। ব্যক্তির সাধ ও সাধ্যের সীমাকে জোর করে মেলাতে গিয়েই আসে ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা আর্থিক অনাচারের বিষয়। এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে রেহাই পেতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন আর্থিক সামঞ্জস্য বিধান। সামঞ্জস্য প্রয়োজন ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির, ব্যক্তির সঙ্গে সমষ্টির। সামাজিক জীবনযাত্রার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণ প্রয়োজন। ব্যক্তি ও সমষ্টির মানদণ্ডও এক হওয়া দরকার। তবেই শুধু ব্যালেন্স রেখে চলতে পারবো। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। সততা, ভালোমানুষীর মতো কিছু বাতিল মূল্যবোধকে আবারো সমাজের সংস্থানে পুনর্বাসন করতে হবে। শুধু জল আর মল নয়, আরো কিছু—বিশেষত সমষ্টির কল্যাণে আত্মত্যাগ করবার মন্ত্রে যদি গোটা জাতিকে উজ্জীবিত করা না যায় তবে ঘুষ নিয়ে ঘুষোঘুষি কখনই বন্ধ হবে না। মামুলি কথাবার্তা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর ঘুষখোরদের শাস্তির কেতাবী ব্যবস্থা করলে কিছুই হবে না; যে গরু সেই গোয়ালেই রয়ে যাবে। লেখক : কলামিষ্ট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন