সিলেটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে মহিলা চিকিৎসক লাঞ্ছিত

আপডেট : ১০ মে ২০১৯, ২১:০৩

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দায়িত্বরত একজন মহিলা চিকিৎসক, সিকিউরিটি গার্ড ও লিফটম্যান। এ সময় হাসপাতাল এলাকা জুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগ কর্মীদের এমন উদ্যত আচরণের প্রতিবাদে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা সন্ধ্যা থেকে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা কাজে যোগ দেন। কর্মবিরতি পালনকালে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার চৌধুরী তার ১৪-১৫ জন সহকর্মীসহ অ্যাপেন্ডিসাইটিসের এক রোগীকে নিয়ে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে প্রবেশের সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড ও লিফটম্যানকে তারা লাঞ্ছিত করেন। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এপেন্ডিসাইটিসের বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় দায়িত্বরত মহিলা ইন্টার্ন চিকিৎসক সবাইকে একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে রোগীকে সিনিয়র চিকিৎসক দেখবেন বলে জানান। 

এ সময় সারোয়ার চৌধুরী নিজেকে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে উদ্যত আচরণ ও গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে হাসপাতালে দায়িত্বরতদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার পর হাসপাতালের দুইজন চিকিৎসককে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: পুকুর লিজে অনিয়ম: সচিব, ডিসিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
 
এ ব্যাপারে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফেরদৌস হোসেন বলেন, তারা সন্ত্রাসীর মতো আচরণ করেছে। কিন্তু আমরা চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখতে পারি না। এটা মেনে নিয়েই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
 
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার চৌধুরী জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমার বন্ধুর শরীর বেশি খারাপ থাকার কারণে আমরা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। যা ঠিক হয়নি। তবে এ ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/অনি