দীর্ঘ ৮৩ দিন অনুপস্থিতির পর গত সোমবার বিরোধী দল সংসদে যোগ দেয়। প্রথম দিনেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সমঝোতা ও আন্তরিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হলো।
আবদুল মালেক মিয়া
দলিল লেখক
মিরপুর, ঢাকা
সংসদে আলোচনার প্রস্তাব বিএনপি প্রত্যাহার করে নেয়ায় রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সমঝোতার একটা সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু প্রথম দিনে হোঁচট খেলো তারা। এখন সরকারি দলের উচিত তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা।
মুন্সী মো. ওয়াহিদউল্লাহ
মিরপুর, ঢাকা
সংসদে যাওয়ার জন্য আমরা বিরোধী দলকে সাধুবাদ জানাই। যেহেতু দেশের ১৬ কোটি মানুষের চাওয়া-পাওয়া এই সংসদ।
রিফাত
ঝিনাইদহ
বিরোধী দল সংসদে যোগ দেয়া মানেই একটি ইতিবাচক দিক। তবে যোগদান করেই একটি কারণে বিরোধী দল ওয়াক আউট করলো। বিষয়টি আমাদের কাছে ভালো মনে হয়নি।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
বিরোধী দল সংসদে যাওয়া মানেই হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়া এটা নিঃসন্দেহে সত্য। তবে ওয়াক আউট করে বেরিয়ে আসা সেটা ঠিক হয়নি।
শিশির
আজিমপুর, ঢাকা
বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে না নিলে চলতি সংসদে অন্তত নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার একটি সুযোগ ছিল।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা
রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্রতা এখন আগের তুলনায় বেশি। দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এর তীব্রতা বেড়েই যাবে বলে আমরা মনে করি।
বিপ্লব আলম
উর্দু রোড, ঢাকা
জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুরের রাজনীতির পালে এখন আবার নতুন করে হাওয়া লাগবে। সুতরাং এ সময় দীর্ঘদিন পর গত সোমবার বিরোধী দলের সংসদে যোগদান ছিল সত্যি একটা আশার দিক। কিন্তু যোগদানের পরপরই বেরিয়ে গেল, ফলে দেশবাসীকে কিছুটা হলেও হোঁচট খেতে হয়েছে।
মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম
শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
বিরোধী দল সংসদে যোগ দিয়ে ওয়াক আউট করলো। তারপর তারা চলে গেল। এর আগেও বিরোধী দল এ ঘটনাগুলো করেছে। আমি মনে করি, একটা আইন করা উচিত—যারা ৩০ দিন সংসদে হাজির না থাকবেন তাদের পদ বাতিল হয়ে যাবে। তারা সংসদ সদস্য হয়েছেন সাধারণ মানুষের সেবা ও অধিকারের জন্য। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তাদের নিজের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করছেন। আর সরকারি দলকে বলবো, আইন করলে সবার জন্য সমান প্রয়োগ করুন।
সৈয়দ হায়দার আলী
সভাপতি
মহাখালী যুব কল্যাণ সমিতি, মহাখালী, ঢাকা
সাধুবাদ জানাই বিরোধী দলকে সংসদে যোগদানের জন্য। ন্যায়সঙ্গত দাবিতে ওয়াকআউট বাস্তবসম্মত। সংসদকে কার্যকর করতে এবং জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল যেন নিয়মিত আসে। সরকারকে অনুরোধ করবো, তাদের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য।
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম টিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী
সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। বিরোধী দলের সংসদীয় গণতন্ত্রে ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু সরকারি দলের একগুয়েমির কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সরকারি দলকে ও বিরোধী দল একে অপরের ব্যাপারে প্রতিহিংসায় বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগেরও সংসদে অনুপস্থিত থাকার নজির রয়েছে। অপর দিকে বিএনপিও সে পথ অনুসরণ করে চলেছে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও ক্ষেত্রেও সমানে সমান। আর নয়, অনেক হয়েছে; এবার নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। হরতাল নয়, সংসদ বর্জন নয়, জনগণের চাহিদা মোতাবেক ক্ষমতা পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবস্থা করে দেশকে নতুন ভাবে গড়ার শপথ নেই আমরা সবাই ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য।
মন্জু খন্দকার
চুয়াডাঙ্গা
দেশের জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায় জনগণের কথা বলার জন্য। আর সংসদই হচ্ছে সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিএনপির সাংসদরা দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে যোগ দিয়ে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে সংসদে বক্তব্যের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ না করে ওয়াকআউট করে জনগণের মনে কুঠারাঘাত করেছে। এটা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেনি।
মো. লিটন শিকদার
পরীক্ষার্থী এমএসসি (ফিসারিজ),
সরকারি বাংলা কলেজ, মিরপুর, ঢাকা
বিরোধী দল বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনই যোগদান করে ওয়াকআউট করেছে। আমাদের কথা হলো, রাজধানীতে সভা-সমাবেশ করার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সব নেতাকে মুক্তি দেয়া হোক । বিরোধী দল জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগদান করে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে এসেছে। তারা সংসদে গিয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে; আর ভয় পাবেই বা না কেন। দেশের জনগণ তো দেখল সারাদেশে অন্যায় আর ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। কী স্বার্থে তা হলো? আটক যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য বিরোধী দল হরতাল-অবরোধ দিয়ে জনগণের জান-মাল বিনষ্ট করেছে, জনগণ তা এখনো ভুলে যায়নি। বিরোধী দল রাজপথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারলো না, সংসদে গিয়েও পারছে না। তারা পারবে কোথায়? শুধু পারবে জনগণের অর্থ সম্পদ লুটপাট করে ধনী হতে। আর অবৈধভাবে ক্ষমতায় যেতে।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
পর পর তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগদানের ২ ঘণ্টা পরেই ওয়াকআউট করেন্ট। যা খুবই হতাশাজনক মনে হয়েছে। শুধু সদস্যপদ রক্ষা ও বেতনভাতার জন্য যাঁরা সংসদে আসেন তাঁদের জনগণ আগামী নির্বাচনে উপযুক্ত জবাব দেবে বলে আমি মনে করি।
মো. নূরুল হক
ধানমণ্ডি, ঢাকা
উভয় দলের মধ্যে মিল না হলেও নিয়ম-নীতি অনুযায়ী ওয়াকআউট করে প্রতিবাদ জানাবে। কিন্তু সংসদ বর্জন করে সংসদকে অচল কিংবা অকার্যকর করার পথে যাবে না। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আইরিন সুলতানা মন্জু,
ধুপপুর, মাইজপাড়া
বিরোধী দল পুরানো রীতি অনুসরণ করেছে। তার পরেও আমরা চাই বিরোধী দল সংসদে থাকবে। তাদের দাবিসমূহ সেখানে উপস্থাপন করবে।
মাসুদ
লালবাগ, ঢাকা
ওয়াকআউট সংসদীয় পদ্ধতির একটি স্বীকৃত গণতান্ত্রিক রীতি। সংসদে বিরোধী দলের ওয়কআউটের কড়া সমালোচনা করেছে সরকারি দল। আমরা মনে করি, উভয় দল সংসদের ভেতরে অথবা বাইরে কোথাও বসে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করবে। এতে দেশবাসী যেমন উপকৃত হবে তেমনি রক্ষা পাবে দেশের জাতীয় সম্পদ।
মো. সেলিম
মহাখালী, ঢাকা
সম্প্রতি অষ্টম পঞ্চদশ অধিবেশন শীর্ষক গবেষণায় টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১১-১২ অর্থবছরে ৮ অধিবেশনে ১৬৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল ১৫৩ দিন সংসদ বর্জন করেছে। আমাদের দেশের সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বহু আগে থেকেই। যখনই যে দলই বিরোধী দল হয় তখনই সংসদ বর্জনের একটা নিয়মের মধ্যে পড়ে যায়। আবার বিরোধী দলে থাকাকালীন বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ১৯৯১-৯৫ সালে আওয়ামী লীগের সংসদে ৪০০ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩৫ দিন, ২০০১-২০০৬ সালে ৩৭৩ কার্যদিবসের ২২৩ দিন সংসদ বর্জন করেছিল। অপরদিকে বিরোধী দল থাকাকালে বিএনপি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে ৩৮২ কার্যদিবসের মধ্যে ১৬৩, অপরদিকে ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত ৩৭০ কার্য দিবসের মধ্যে ৩১৬টি বর্জন করেছে।
সুতরাং এভাবে যদি সংসদ চলে তাহলে দেশের মানুষ কী আশা করতে পারে। সুতরাং যদি দু’টি বড় দল একে অন্যকে আন্তরিকতা না দেখতে পারে তাহলে দেশের মানুষ কী আশায় থাকবে!
এম কে মো. রমিজউদ্দিন
প্রশিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা
সংসদের ১৮তম অধিবেশনের প্রথমদিন বিরোধী দল যোগ দেয়ায় অধিবেশন কক্ষ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। দেশের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ শুরুতে বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিরোধী দল সংসদে যোগদানের পর পরই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে তারা সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়ার্ক আউট করে বেরিয়ে যায়। বিষয়টি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাদের উচিত ছিল সরকারি দলের বক্তব্য শোনা।
জাহাঙ্গীর খান বাবু
মুন্সীগঞ্জ
পঞ্চম সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বর্তমান ক্ষমতাসীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬৫ কার্য দিবসে এবং অষ্টম সংসদে ৩২৮ কার্যদিবসে অনুপস্থিত ছিলেন। অপর পক্ষে একই অবস্থানে থেকে বেগম জিয়া সপ্তম সংসদে ৩৫৪ এবংনবম সংসদে এ পর্যন্ত ৩৬ কার্যদিবসে অনুপস্থিত ছিলেন। সুতরাং এভাবে সংসদ চললে দেখা যাবে দেশের মানুষ হতাশায় ভুগবে।
হাসান মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী
যে কোন প্রকারে সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অক্ষুণ্ন রাখুন- সরকারি ও বিরোধী দলের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু
মহাখালী, ঢাকা
শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সুন্দর সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেশের প্রত্যেক নাগরিক ও দলের রয়েছে। কিন্তু সভা-সমাবেশের নামে জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, সহিংসতা, নির্বিচারে লুটপাট, কুরআন শরীফে আগুন, পুলিশ হত্যা, বাসে আগুন দিয়ে নিরীহ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ হত্যা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিএনপি যদি জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কথা বলার জন্য সংসদে যেতো তাহলে এই সামান্য অজুহাতে তাদের সংসদ থেকে ওয়াক আউট করা উচিত হয়নি। আমরা মনে করি, বিএনপি সংসদে গিয়েছিল সদস্যপদ, সরকারি বেতন-ভাতা ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা রক্ষা করার জন্য। দেশের স্বার্থে কথা বলার জন্য নয়। এটা তাদের রাজনীতিক দেলিয়াত্বের প্রকাশ ।
আরিফুর রহমান আরিফ
সেনবাগ, নোয়াখালী
রাজনীতিতে হরতাল কতটুকু বৈধ এখন সে হিসাবের সময় এসেছে। লাগাতার হরতাল দেয়ার অধিকার রাজনীতিতে থাকলেও জনগণ তা সমর্থন করে না। এটাও রাজনীতিকদের স্মরণ রাখা দরকার। জনগণের মতামত নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দলের নির্বাচন নিয়ে ভাবা উচিত। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ নিয়ে বিরোধী দল ওয়াক আউট না করে সংলাপে যেতে পারতেন। বিরোধী দলেও ওয়ার্ক আউট এক্ষেত্রে জনগণ আশা করে না। জনতার ভোট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে সংসদে পাঠিয়েছে সংলাপ করার জন্য, ওয়াক আউট করার জন্য নয়।
শাহ্ মো. হিলালউদ্দিন হিরা
কালিহাতী, টাঙ্গাইল
যথেচ্ছাচার স্বাধীনতার ছাড়পত্র নয়, তেমনি সভা-সমাবেশের নামে জ্বালাও-পোড়াও-ধ্বংসযজ্ঞও গণতান্ত্রিক রীতিপদ্ধতি নয়। তাই বৃহত্তর জাতীয় প্রয়োজনে ও জনগণের সুশৃংখল জীবনযাত্রা নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সভা-সমাবেশ পরিচালনার রীতিপদ্ধতি অবলম্বন করা সময়ের দাবি। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বিএনপির ওয়াক আউট ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সমগ্র দেশবাসীর কাছে এটা স্পষ্ট যে, তারা তাদের সদস্যপদ এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই সংসদে যোগ দিয়েছিল। নতুবা প্রথম দিবসেই ওয়াক আউট করার পেছনে যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল বলে মনে হয় না।
নাছিরউদ্দিন সিদ্দিকী
৩৬১ খন্দকার রোড,
জুরাইন বাজার শরীফ এলাকা, শ্যামপুর,
দীর্ঘ বিরতির পর বাধ্য হয়ে বিরোধী দলের সংসদে গিয়ে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদ স্বরূপ সংসদ হতে সাময়িক ওয়াক আউট বিষয়টিকে আমি সহজ ও সরলভাবে দেখি। বাঁকা চোখে তখনই দেখবো বিরোধী দল আবার যদি তাদের পুরনো বদঅভ্যাসে ফিরে যায়। তাই বিরোধী দলের প্রতি আহবান তারা যেন জনকল্যাণমূলক ন্যায্য দাবি আদায়ে সংসদে এবং রাজপথে সমান সুযোগ থাকে। এমনটা হলে জনগণ ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার হননের দাবি আদায়ে তারাও জনগণের সমর্থন পাবে। তাই এখন যেমন বিএনপির নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ন্যায্য দাবিটির প্রতি শতকরা নব্বইভাগ জনগণের সমর্থন রয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি আবার আমাদের আহবান- সংসদে মাত্র জনকল্যাণমূলক দাবি আদায় করতে পারেন বেতনভাতা হালাল করে খান।
মো. লুত্ফুর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
গণতান্ত্রিক দেশ- নির্যাতিত সংসদ সদস্য- তাদের কিছু প্রতিবাদের কথা থাকতেই পারে। তার জন্য সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তাদের প্রতিবাদের কথা জানিয়ে দেয়। নতুন মহিলা স্পিকারকে আরও কৌশলী হতে হবে। সে সঙ্গে তাঁকে ধন্যবাদ।
ফৌজিয়া মুন্নি
পল্লবী, সিংপুরা, ঢাকা
বিএনপি যা করেছে তা ঠিক করেছে।
মো. বাবুল
নয়াবাজার, ঢাকা
স্পিকার, সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা— এই তিন নারী নবম জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনে শীর্ষ তিনটি পদ অলংকৃত করেছেন। সত্যি এই দিনটি ছিল চমত্কার। সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি ছিল সংসদ অধিবেশনের দিকে। টানা ৮৩ দিন অনুপস্থিতি থাকার পর সংসদে যোগদান করে বিরোধী দল; কিন্তু পরক্ষণেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে তাঁরা সংসদ অধিবেশন ওয়াক-আউট করে বেরিয়ে যান। এটা মানুষকে অনেকটা কষ্ট দিয়েছে।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
স্যান সাইড, নিউইয়র্ক
সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া উচিত নয়। গণতন্ত্রের কথা বলে এই নিষেধাজ্ঞাকে ভালো বলার উপায় নেই। সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের ওয়াক-আউটকে যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। এজন্য সংসদে আলোচনা প্রয়োজন। বিএনপি সংসদে সময় না দিলে বাইরে এসে প্রেস ব্রিফিং করে জাতির কাছে তাদের মতামত তুলে ধরা উচিত।
সেলিম ফরাজী
শান্তিনগর, মাদারীপুর
সংসদে বিরোধী দল যোগ দেয়ায় স্বাগত জানাই। বিরোধী দল সংসদে আসায় রাজনীতিতে সু-বাতাস বইতে শুরু করেছে। সবকিছুর মধ্য দিয়ে বরফ গলবে বলে আমরা মনে করছি।
মো. শওকত আলী শাহীন
ডিওএইচএস, মহাখালী
বিরোধী দল সংসদে যোগদান করেছে এতে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তবে দেশ ও দেশবাসীর মঙ্গলের জন্য সকলে মিলে কাজ করলে দেশবাসী শান্তি পাবে। গণতন্ত্রে রাষ্ট্রে সভা-সমাবেশ নাগরিক অধিকার। বাংলাদেশে নাগরিক অধিকারের নামে সভা-সমাবেশে যানবাহন ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, জ্বালাও-পোড়াও, জনগণের জানমালের ক্ষতি হতে দেখেছি আমরা। এতে করে দেশবাসী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে সভা-সমাবেশ বন্ধ করা হচ্ছে। যে কোন দেশে বিচার বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের দেশেও আছে। দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে সংসদে আলোচনাই যথেষ্ট। সভা-সমাবেশের দরকার হয় না। এতে করে ক্ষতি হয় বেশি।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০
পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা হোক। সমঝোতা বিরোধী দল বিএনপির, রাজনৈতিক নয়। সুতরাং বিষয়টি সরকারি দলকে বুঝতে হবে।
মাসুম আহাম্মদ
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
আমরা মনে করি, সমঝোতার পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। এখনো সময় আছে। দেশকে বড় ধরনের আঘাত দেয়ার আগে দুইটি বড় দল আলোচনার পথে আরো এগিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে বলে জাতি তা প্রত্যাশা করে।
কাউছার আকন্দ
মতিঝিল, ঢাকা
নবম জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশন আমরা কোন ছলচাতুরির মধ্যে দেখতে চাই না। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু শান্তিময় সংসদ অধিবেশন।
সোহাগ
ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা
বিরোধী দল মিছিল-মিটিং, সমাবেশ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ফলে সংসদে যোগদান করে আবার ওয়াক-আউট করেছে। সভা-সমাবেশ করার অধিকার জনগণের আছে এবং থাকা উচিত; কিন্তু ঐ সব মিটিং-মিছিল করার নামে কোনরূপ ধ্বংসযজ্ঞ, জ্বালাও-পোড়াও, মারামারি কিংবা মানুষ হত্যা কারোরই কাম্য নয়। জনগণের সম্মতি তথা জাতীয় সম্পদসমূহ রক্ষা করা সরকারের দায়-দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা ইদানীং লক্ষ্য করেছি হরতাল, মিছিল, মিটিং, করার অবরোধ ডাকা হলেই প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি ও মানুষ মারা যায়। এ অবস্থা আমাদের কাম্য নয়। সরকার সেই অবস্থাটিকে রোধ করার জন্য সাময়িকভাবে মিছিল-মিটিং করার ব্যপার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ অবস্থা চিরকাল চলবে না। কোন মানুষও এ অবস্থা মেনে নেবে না। আজকে যারা সরকারে তারা কখনো কখনো বিরোধী দলেও বসেছে। আর যারা এখন বিরোধী দলে তারা কখনো কখনো সরকারেও বসেছে। সুতরাং একজন আইন প্রয়োগ করলে আগামীতে সেই আইনটি তার নিজের জন্য প্রযোজ্য। সরকারের থাকলে এক চরিত্র, বিরোধী দলে থাকলে অন্য চরিত্র লক্ষ করি। এটা কোন সভ্য সমাজের রীতি হতে পারে না। আমরা আশা করি, বর্তমান সংসদে যে অধিবেশন চলছে সেখানে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করবে। আসছে অর্থবছর ২০১৩-২০১৪ বাজেটের ওপর বিরোধী দল ন্যায়নিষ্ঠ আলোচনা করবে। জনগণকে জানাবে কোথায় এর ত্রুটি ও বিচ্যুতি। সরকারও বুঝতে পারবে তার ভুলগুলো। আমরা বিরোধী দলকে সরকারের দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দেবার প্রকৃত বান্ধব মনে করি। সরকারেরও উচিত, বিরোধী দলকে যথাযথ সম্মান জানানো। তা না হলে গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হবে। আমরা গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত করতে চাই। গণতন্ত্র কখনো একার নির্দেশে চলে না, সেখানে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হতে হবে।
ওয়াহিদ মুরাদ
নেসারাবাদ, পিরোজপুর
সংগত কারণে কোন দেশে সভা-সমাবেশ করা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ অধিকার হরণ করার ক্ষমতা সরকার রাখে না। গত কিছুদিন ধরে সরকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়ে আবারও প্রমাণ করল যে, সরকার মুখে উন্নত দেশের গণতন্ত্রের তকমা দিলেও সত্যিকার অর্থে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। মাত্র ক’দিন আগে তারা দু’টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিল। কিছু পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করল। বিরোধী দলের প্রধান সারির নেতা-কর্মীদেরকে সামান্য কারণে ক’দিন পর পর গ্রেফতার করছে। এই যদি হয় কোন দেশের গণতন্ত্রের নমুনা তাহলে গণতন্ত্রের ভাগ্যে চাপা কান্না ছাড়া আর কিছুই করার নেই। দীর্ঘদিন পর বিরোধী দল সংসদ বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়েছে। এতে আমরা খুবই খুশি। দেশবাসী চেয়েছিল বিরোধী দল তাদের দাবি-দাওয়ার কথা সংসদে পেশ করুক। বিরোধী দলকে যতই কটাক্ষ করুক বা কথা বলতে না দেয়া হোক তবু তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত সংসদে যাবে এটাই দেশবাসীর কাম্য।
বিরোধী দল সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রায় ২ ঘণ্টা পর সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে, এটা বিএনপি ঠিকই করেছে, কারণ বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, একে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ ছিল না।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার,
গুলশান, ঢাকা
দীর্ঘ বিরতি অর্থাত্ তিরাশি কার্যদিবসের পর বিরোধী দল গত সোমবার সংসদে যোগ দেয় এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে দু’ঘণ্টার মাথায় তারা সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল বলার সুযোগ দিয়েছে যে, বিরোধী দল “বেতনভাতা রক্ষার জন্য সংসদে যোগদান করেছে”। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বিরোধী দল সব সময় ঈর্ষাবশত সংসদ অপেক্ষা রাজপথে অবস্থান করাকে পছন্দ করে আসছে, যদিও বর্তমান বিরোধী দল সংসদে বা রাজপথে কোনো ক্ষেত্রেই তাদের উপস্থিতি উজ্জ্বলতর করতে পারেনি। কারণ সরকারী দলের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক শক্তির বিপরীতে বিএনপি তথা বিরোধী দল লড়াকু উপস্থিতি সৃষ্টিতে উপর্যুপরি ব্যর্থ হয়েছে। যদিও সরকার রাজপথ উত্তপ্ত করার মতো একাধিক ইস্যু বিরোধী দলের হাতে তুলে দিয়েছে। এ যখন বিরোধী দলের অবস্থা, তখন বেতনভাতা ঠিক রাখতে বিরোধী দলের সংসদে যোগদান আত্মঘাতী হবে। বরং বিরোধী দলের উচিত হবে, সরকারের এই পড়ন্ত বেলায় সংসদ ও রাজপথের অবস্থানে আরো বেশি কৌশলী হওয়া। সংলাপ ইস্যুতে সরকার যখন করুণা করে চলেছে, তখন বিরোধী দলের চাতক পাখির মতো সংলাপ নামের ফটিক জল চেয়ে, মুষ্টিভিক্ষার আশায় বসে থাকলে চলবে না। শেষত আমাদের অভিমত হলো- চলতি সংসদ অধিবেশনে যে কয়টি কার্যদিবসে বিরোধী দল অবস্থান করুক না কেন, দাবি-দাওয়ার ক্ষেত্রে হাড্ডাহাড্ডি হিস্যাতে সংসদ অধিবেশনকে প্রাণবন্ত করে দেশবাসীকে এই ম্যাসেজ দিতে হবে যে, তারা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে সোচ্চার। অথচ সরকারের গোঁয়ার্তুমি ও সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে তারা তা উপেক্ষা ও অগ্রাহ্য করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কীয় মুলতবি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বিরোধী দল যদি ভেবে থাকে, তারা রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করে ছাড়বে, তাহলে অবশ্যই হাতে মেহেদী লাগিয়ে আন্দোলনের এই সরল হিসেব থেকে সরে আসতে হবে। নইলে সরকার সংসদে সুন্দর, বিরোধী দল রাজপথে- এই বিশেষণের অপমৃত্যু ঘটবে।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
দীর্ঘদিন বিরতির পর বিরোধী দল বিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছে এটি অবশ্যই দেশ এবং জাতির জন্য কল্যাণকর। কারণ জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে সংসদে গিয়ে ঐ এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। নির্বাচিত এলাকার এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরবে এবং তার সমাধানকল্পে কাজ করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক এমপি রয়েছে যারা সমস্যা সমাধান করবে তো দূরের কথা নির্বাচনের পর এলাকায় পর্যন্ত তেমন যায় না। এমনকি সংসদেও অনুপস্থিত থাকে। বিএনপি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছে এটা বিএনপি এবং দেশ উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক। অন্যদিকে সভা-সমাবেশ যে কোন রাজনৈতিক দলের মৌলিক অধিকার এবং প্রধান হাতিয়ার। সেই অধিকারই সরকার খর্ব করেছে। সরকারের কোন অন্যায় করলেও বিরোধী দল তার প্রতিবাদ করতে পারবে না। এটা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। বিএনপি এদেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল এবং বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারর ব্যর্থতা এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সভা-সমাবেশ করতে হবে। কিন্তু সরকার তাদের সে মৌলিক অধিকার খর্ব করেছে। তাদের সেই অধিকার ফিরিয়ে আনতে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেছে এটা অযৌক্তিক কিছু নয়। করতেই পারে এটাও তাদের একটি মৌলিক অধিকার।
জসিম মজুমদার
পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের ব্যাপারে সরকার যতটা সিরিয়াস তার একভাগও যদি দেশ পরিচালনায় মনোযোগী হতেন তবে দেশের মানুষকে এ দুরবস্থার মধ্যে থাকতে হতো না। গণতান্ত্রিক দেশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ কেন? বলা হচ্ছে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে শুধু সেসব দলের জন্য যারা নাশকতা ঘটাতে চায়। আমরা দেখেছি নিজের দলের সভা-সমাবেশে কেউ কখনো নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা করেনি বরং যখন সরকারের পক্ষ থেকে তা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করা হয় তখন তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা করলে তার জন্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। গণতান্ত্রিক দেশে কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে। সে অবস্থা থেকে তারা বঞ্চিত তাহলে কি আমরা জরুরি অবস্থার মধ্যে বাস করছি? মনে হচ্ছে এটা সরকারের অঘোষিত জরুরি অবস্থা। এ অবস্থায় বিরোধী দল যে অবস্থানে আছে তা মোটেও যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিন তারা সংসদে অনুপস্থিত। এতোদিন পর সংসদে গিয়ে শুধু এ কারণে ওয়াক আউট করা মোটেও উচিত হয়নি। তারা পুরো সময় কাটাতে পারতেন। বাইরে যে কথা বলেন সেগুলো সংসদে তুলতে পারতেন। অধিবেশন চলাকালে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছিল। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের প্রশ্নবানে জর্জরিত করার একটা সুযোগ পেয়েছিলেন কারণ তাদের সামনে অনেকগুলো ইস্যু ছিল। এ কয় বছরে আমরা যা হারিয়েছি তা তো আর ফিরে পাব না। সামনের দিনগুলোতে যেন আর কিছু হারাতে না হয় সেজন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। তাই সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
সারিয়াকান্দী, বগুড়া
সংসদীয় গণতন্ত্রে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হলো একমাত্র সংসদ। আনুপাতিক হারে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনে মনোনীত সংসদ সদস্যরা ১৬ কোটি জনগণের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক মুক্তির সনদ ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা ঐ মহান পবিত্র সংসদ থেকেই প্রতিনিয়ত দিয়ে যাবেন। কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে সাধারণত ট্রেজারি বেঞ্চ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি যে আচরণ করেন তা সংসদীয় গণতন্ত্রের সাথে মোটেও খাপ খায় না। অভিজ্ঞমহলের সমীক্ষা মতে, সমসাময়িক সরকারি সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপটের কারণে সংসদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতি ছিল মোট কার্যদিবসের মধ্যে বিগত ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে ৩৩.৭৫%, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদে ৪২.৬৭%, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে ৫৯.৭৯% এবং বর্তমান নবম সংসদের ১৫তম অধিবেশন পর্যন্ত ৮৩.৩৮% ভাগ কার্যদিবস। বর্তমান সংসদের বছরভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল মোট কার্যদিবসের মধ্যে ২০০৯ সালে ২৭%, ২০১০ সালে ২৪%, ২০১১ সালে ৯% এবং ২০১২ সালে ৪% ভাগ কার্যদিবস।
মুখে সরকারি দলসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই বলে থাকেন বিরোধী দলবিহীন সংসদ অকার্যকর। কিন্তু তাকে কার্যকর করার জন্য কারো আন্তরিক প্রচেষ্টা সচরাচর চোখে যে পড়ে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চলতি সালের ১৮তম অধিবেশনে বিরোধী দল যোগ দিয়েছে (নিন্দুকেরা বলে আইনগত বাধ্য-বাধকতার কারণে সংসদ সদস্য পদ রক্ষার্থে যোগদান)। কিন্তু সরকার বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত (জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে) অধিকার কেড়ে নেয়ায় বিরোধী দল তার প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছেন। অবশ্য ইতিমধ্যে ওয়াক আউটের পরদিনও বিএনপি সংসদে যোগদান করেছে। কাজেই সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের উচিত বিরোধী দলকে কিভাবে সংসদমুখী করে সংসদকে কার্যকর রাখবে তার সম্মানজনক পথ খোলা রাখা। কারণ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যেকার বর্তমান বিরোধ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক। কাজেই সংসদেই ঐ সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের পথ উভয় পক্ষকেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই বের করতে হবে। বর্তমান অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে রাজপথ কোনমতেই সমস্যা সমাধানের উপায় হতে পারে না। মূলত রাজপথের আন্দোলনে জনগণ বীতশ্রদ্ধ। সংসদ ভবনকে কেন্দ্র করে সকল আলাপ-আলোচনা, আন্দোলন-সংগ্রাম, দাবি-দাওয়া, আইন-বিধি, আদেশ-নির্দেশ আবর্তিত হওয়া উচিত বলে আমরা আমজনতা মনেপ্রাণে দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
৫ বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩
