লৌহ আকরিকের সন্ধান লাভ

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২১:০৭
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলাধীন মশিদপুর গ্রামে মূল্যবান ম্যাগনেটাইটের সন্ধান পাওয়া গিয়াছে। মৃত্তিকার ১ হাজার ৩৬৭ ফিট গভীরে কঠিন শিলা ও লৌহ আকরিকের স্তর রহিয়াছে। আর ১ হাজার ১৯০ হইতে ১৯৮ ফিটের মধ্যে আছে চুনাপাথরের স্তর। অন্যদিকে এই কূপের ১ হাজার ৫০০ হইতে ২ হাজার ১০০ ফিটের মধ্যে চুম্বকীয় পদার্থের সন্ধান পাওয়া গিয়াছে। এই অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। অনুসন্ধান দলের পক্ষ হইতে জানান হয় যে, ৪টি পৃথক স্তরে উল্লিখিত খনিজ পদার্থসমূহ রহিয়াছে। তবে এই সম্পদের বিস্তৃতি কতখানি এলাকা জুড়িয়া তাহা এখনও নিশ্চিত করিয়া জানা যায় নাই। এই জন্য অধিকতর অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে জানা যাইবে এই খনি এলাকায় কী পরিমাণ সম্পদ মওজুদ আছে। অতঃপর হিসাব-নিকাশ করিয়া দেখিতে হইবে এই সম্পদ উত্তোলনযোগ্য কিনা। অর্থাত্ উহা উত্তোলন করা আদৌ লাভজনক হইবে কি হইবে না। প্রসঙ্গত এইখানে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, ইতিপূর্বে দেশের আর কোথাও লৌহ আকরিকের সন্ধান পাওয়া যায় নাই। এক্ষণে এইরূপ সম্পদের সন্ধান লাভের সংবাদ উত্সাহব্যাঞ্জক নিঃসন্দেহে। খনিজ সম্পদে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ নহে। যাহা আছে তাহা একে তো সীমিত, তদুপরি রহিয়াছে ব্যবস্থাপনার সমস্যা। বাংলাদেশে খনিজ সম্পদের সবচেয়ে বড় খাতটি হইল প্রাকৃতিক গ্যাস। বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রে এইখানে মোট কি পরিমাণ গ্যাস মওজুদ আছে তাহা নিশ্চিত করিয়া বলা কঠিন। এক হিসাব হইতে জানা যায়, বাংলাদেশে ২২টি গ্যাস ক্ষেত্রে মওজুদ আছে ১৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। কোনো কোনো সূত্র দাবি করিয়া থাকে যে, এই দেশের মাটির নিচে কম করিয়া হইলেও ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মওজুদ আছে। অন্যদিকে, এই পর্যন্ত দেশে আবিষ্কৃত হইয়াছে ৫টি কয়লা ক্ষেত্র। সব মিলাইয়া কয়লা মওজুদ রহিয়াছে আনুমানিক ১৮৯২ মিলিয়ন টন। কিন্তু বত্সরের পর বত্সর যাইতেছে, কয়লা উত্তোলন করিয়া আমরা কাজে লাগাইতে পারি নাই। এখনও পর্যন্ত কয়লা নীতি চূড়ান্ত করা সম্ভবপর হয় নাই। তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়াছিল। কিন্তু উহা কেবলই কল্পনা হইয়া আছে। কি প্রকারে কয়লা উত্তোলন করা হইবে, সেই বিতর্কেরই এখন পর্যন্ত অবসান হয় নাই। পক্ষান্তরে প্রতি বত্সর কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করিয়া আমরা বিপুল পরিমাণে কয়লা আমদানি করিয়া থাকি। আমদানিকৃত কয়লার দাম বেশি বিধায় ইটের ভাটায় গাছ পোড়ান হইতেছে বেশুমার। অথচ আমাদের যে কয়লা আছে তাহা যথারীতি উত্তোলন করা গেলে বিদ্যুত্ উত্পাদনে যেমন সহায়ক হইতে পারিত, তেমনই কয়লা আমদানি খাতে ব্যয়িত বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হইত। গ্যাস ও কয়লা ছাড়াও আমাদের আছে চুনাপাথর, কঠিন শিলা, চিনা মাটি। কিছু পরিমাণে তেলও আছে। ১৯৮৬ সালে হরিপুরে তৈল ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এইখানে উত্তোলনযোগ্য তেলের মওজুদ ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বলিয়া জানা যায়। আমাদের এইসব সম্পদের সদ্ব্যবহার আমরা পুরো মাত্রায় করিতে পারিতেছি তেমন দাবি করিবার কোনোই সুযোগ নাই। সত্য বটে আমাদের অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত উভয়বিধ সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু তাহার চাইতেও বড় সমস্যাটি বোধহয় ব্যবস্থাপনাগত। এই কারণেই সম্পদ যাহা আছে তাহাও আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাইতে পারি না। সম্পদ বাড়াইতে পারি না। কাজেই খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়াই শেষ কথা নয়, উত্তোলনযোগ্য হইলে সে অনুযায়ী জটিলতা পরিহার করিয়া পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুতই গ্রহণ করা কর্তব্য।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন