জীবনে ভাষা অপরিহার্য। পৃথিবীতে ভাষার সংখ্যাও অগণিত। অগণিত সে সব ভাষা থেকে বৃহত্তর পরিসরে যখন একটি ভাষাকে ভাব প্রকাশের সাধারণ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয় তখন তার তাত্পর্যের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাত্পর্য বলতে তা যথাযথরূপে শেখা আর বাস্তব ভিত্তিক প্রয়োগের তাত্পর্যকে বোঝায়। প্রশ্ন হলো, কারিকুলাম প্রণেতাগণ স্কুল পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইংরেজিকে কতটুকু গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বা নিচ্ছেন? মৌলিক শিক্ষণের বুনিয়াদ হিসেবে কোনো বয়স স্তরটিকে তাঁরা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভাবছেন? ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি কোনো তাত্পর্যহীন স্তর কিনা? অতি উদ্বেগ ও কৌতূহলের সঙ্গে লক্ষ করা যায় ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি বিষয়ে সুদীর্ঘকাল ধরে যেখানে ১ম ও ২য় পত্র মিলে মোট দু’শ (১০০ +১০০) নম্বরের Content রাখা হয়ে আসছে সেখানে নতুন প্রবর্তিত এ কারিকুলামে এ তিনটি শ্রেণিতেই ইংরেজি ২য় পত্রে ৫০ নম্বর কমিয়ে দু’পত্র মিলে মোট নম্বর রাখা হয়েছে (১০০+৫০) = ১৫০। দ্বিতীয় পত্রে গ্রামারসহ সার্বিক Content এর হতবুদ্ধিকর সংকোচনে কারিকুলাম প্রবর্তকগণের কী গবেষণালব্ধ ফল কাজ করছে তা অজ্ঞাত। মৌলিক শিক্ষণের বয়স স্তর হিসেবে ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম শ্রেণিগুলো কি তাত্পর্যহীন? নাকি এ পর্যায়ে ইংরেজিই বিষয় গৌণতায় পর্যবসিত হয়েছে? দেড় ঘণ্টায় ৫০ নম্বরের পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা তাচ্ছিল্য হাসিতে বেরিয়ে আসে। একটি প্রহসন যেন। এসব বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাবনা কতদূর কী তা দুর্বোধ্য! তবে তারা উল্লিখিত শ্রেণিগুলোর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের বিয়োজিত ঐ পঞ্চাশ নম্বরের পরিপূরক রূপে চারুকারু কলা বিষয়ের পূর্ববত্ ৫০ নম্বরকে ১০০ নম্বরে উন্নীত করে নিয়েছেন। বিষয়বস্তুর পরিণতি বা ভয়াবহতা দায়িত্বশীল ব্যক্তিমাত্রই উপলব্ধি করবেন।
যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিতে চিঠিপত্র, আবেদন, প্রতিবেদন সুদীর্ঘকাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অধুনা যুক্ত হয়েছে ই-মেইল ও সিভি রাইটিং। যথার্থ বটে। কিন্তু ইংরেজি ১ম ও ২য় উভয় পত্রেই Letter, Application দুটোই বাধ্যতামূলক রেখে শিক্ষার্থীদের Content বাহুল্যে বদ্ধ কতখানি যৌক্তিক তা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। বাইরের বই পাঠ্য নিষিদ্ধ করা হলেও বোর্ড প্রবর্তিত ইংরেজি বই যে সীমিত ও Poor content ধারণ করে, ভালো ফলাফল প্রশ্নে তা নিতান্ত পরিহাসজনক। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির কোনো বইতেই ৫টির বেশি Letter, Application বা Paragraph নেই। দু’টি পরীক্ষার Coverage কী দিয়ে ঘটবে?
English for Today-তে অন্তর্ভুক্ত একান্ত চেনা জানা জীবন ঘনিষ্ট সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত পাঠের ভেতর দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেখানে যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবে সেখানে সেইসব content কমিয়ে পাঠের পর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেশ বিদেশ ও ব্যক্তি বিবরণী। সাহিত্য পাঠ অবশ্যই ভাষা দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। স্কুল পাঠ্যে বিশেষত ৬ষ্ঠ- ৮ম সেই সাহিত্যের অন্তর্ভুক্তি আশাতীত কমে গেছে (English for Todayতে)। অথচ Ironically সাহিত্য content- Story Writing বাহুল্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইংরেজি ১ম ও ২য় উভয় পত্রেই।
Narration, Speech বা উক্তি -এটি তো ভাষা যোগাযোগের ঘনিষ্ট উপাদান- বলায় বা লেখায় যার দক্ষতা প্রতিনিয়ত কাজে লাগে। তাকে বিলুপ্তপ্রায় করে ইংরেজি ২য় পত্রে বাহুল্যারোপ করা হয়েছে Substitution Table (ইংরেজি ১ম পত্রেও আছে)। Short Question, Summarizing এর পাঁচ বাক্যে ১০ নম্বর বহুল প্রশ্নবোধক। কী তাত্পর্য বোধগম্য নয়। উল্লিখিত শ্রেণিগুলোতে Tense & Voice Change এর প্রত্যক্ষ বিতাড়ন কতটা যৌক্তিক?
সিলেবাস বা কারিকুলামে নিত্য নতুন content-এর অন্তর্ভূক্তি কিংবা বৈচিত্র্য আনা মোটামুটি সহজ কাজ। কিন্তু দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিসর তথা শিক্ষার্থীর মেধা বয়স অনুযায়ী তা কতটুকু খাপ খাবে কিংবা সুফল বয়ে আনবে তা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়।
লেখক :শিক্ষক
