বোর্ড সভাপতির ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২০ জুন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নিলাম হওয়ার কথা; ১ জুলাই লিগ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, নির্ধারিত এই তারিখে কী লিগ আদৌ শুরু হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও (কোয়াব)। মুখে কোনো পক্ষই স্বীকার না করলেও, লিগ সময়মতো আয়োজন নিয়ে এখনও ঠিক নিশ্চিত নন ক্রিকেটাররা, এমনকি আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্টোপলিশও (সিসিডিএম)।
এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এখন বড় জটিলতার নাম—ক্রিকেটারদের গ্রেডিং। এই গ্রেডিং অনুযায়ী খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এখনো ঠিক হয়নি। দর কষাকষি চলছে কোয়াব ও ক্লাবগুলোর মধ্যে। এর মধ্যে লিগ নিয়ে আবার নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে খেলোয়াড় সংকট নিয়ে। জানা গেছে, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ খেলার কারণে ১৮১ জন ক্রিকেটারের মধ্যে অনেকেই প্রিমিয়ার লিগ খেলতে পারবেন না। আবার কাউন্টি ক্রিকেটের জন্য সাকিব আল হাসানও আগস্টের আগে দেশে আসছে না। এদিকে অনূর্ধ্ব-১৯ দল আগস্টের শুরুতে ইংল্যান্ড সফরে যাবে। সবমিলিয়ে ক্রিকেটারদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ প্রিমিয়ার লিগ খেলতে পারছেন না। তাই বড় ক্লাবগুলো লিগ খেলা নিয়ে ফের আপত্তি তুলেছে।
যদিও এই আপত্তির কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন প্রিমিয়ার ক্লাবগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়া, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের চেয়ারম্যান মঞ্জু কাদের, ‘আমরা কখনোই লিগ না খেলার পক্ষে নই। যেভাবেই হোক লিগ হবে। জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপের জন্য কিংবা কোন খেলোয়াড় লিগ খেলতে পারবে না এ ধরনের কারণে কোনকিছুতে খেলা আটকে থাকবে না। সবক্লাবই লিগে অংশ নেবে।’
আজ শনিবার সিসিডিএমের সাথে ক্লাব কর্মকর্তা এবং কোয়াবের সাথে সম্মিলিত সভা রয়েছে। এখানেই ২০ জুন থেকে লিগ শুরু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এখানেই ফয়সালা হয়ে যেতে পারে ক্রিকেটারদের গ্রেডিং অনুযায়ী পারিশ্রামিকের অংকও। গত বৃহস্পতিবার সিসিডিএমের কাছে কোয়াব ক্রিকেটাররা তাদের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কোয়াব এখনো আশাবাদী, তাদের দেয়া প্রস্তাবনা সিসিডিএম এবং ক্লাবগুলো মেনে নেবে। কাল এ প্রসংগে বেশ জোর দিয়েই কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল বললেন, ‘বোর্ড কেন মানবে না? এতদিন ধরে চলে আসা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের অংক রাতারাতি এত কমিয়ে দিতে পারে না। তাছাড়া পারিশ্রমিকের এই অংক আমরা ভেবে বের করিনি। ক্রিকেটারদের প্রস্তাবগুলোই আমাদের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে।’
কোয়াবের দেয়া প্রস্তাবনা নিয়ে তেমন মাথা ব্যথা নেই ক্লাবগুলোর। শেখ জামাল ধানমন্ডির চেয়ারম্যান বললেন, ‘আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিব না যে ক্লাব কিংবা ক্রিকেটারদের কোন ক্ষতি হয়। কাল (আজ) সবাই মিলে বসছি আশা করছি এর একটা সমাধান বের হয়ে আসবে। তবে আর যাই হোক ১ জুলাই থেকে লিগ শুরু হবেই।’
কোয়াবের এক কর্মকর্তা অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানালেন লিগ নিয়ে নতুন জটিলতার কথা। তিনি বলেন, ‘আসলে এখন ক্লাবগুলো নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। বড় অনেক ক্লাব চায় যেন লিগ না হোক। এই কারণে তারা নানান অযুহাত দাঁড় করাচ্ছে।’
কোয়াব, সিসিডিএম এবং বড় ক্লাবগুলো; এই ত্রি-মুখী সমস্যার কারণে বেশ বিপাকেই রয়েছে প্রিমিয়ারের ছোট ক্লাবগুলো। কলাবাগানের কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরি নিকু হতাশ কণ্ঠেই বললেন, ‘বড় ক্লাবগুলো যা সিদ্ধান্ত নেয় আমাদের তাই মেনে নিতে হবে। আমরা লিগ খেলতে চাই। কাল (আজ) এক সাথে বসতে যাচ্ছি এখন দেখি এখান থেকে কি সিদ্ধান্ত আসে।’
