আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনটা খুব ভালোভাবে শুরু করতে পারছে না শেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম ও শেষ আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে ছাড়াই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে অজিরা। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বার্মিংহামে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় মাঠের লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
১৯৯৯ সালের পর থেকে বিশ্ব ক্রিকেটে একরকম শাসনই করেছে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপও জয় করে নেয় অসিরা। এরপর রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে ২০০৩ ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ঘরে তুলে প্রথম দল হিসেবে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখায় অস্ট্রেলিয়া। শুধু ওয়ানডেতেই নয়, টেস্টেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় তারা।
টেস্ট ও ওয়ানডের শ্রেষ্ঠত্ব যখন তাদের দখলে তখন তো বিশ্বকাপের পরই যেই টুর্নামেন্টের মর্যাদা, সেই ‘আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির’ শিরোপা না জিতলে কেমন বেমানান দেখায়। তাই পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতে আবারো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপ যেখানে জয় করা হয়েছে পরপর তিনবার সেখানে ‘মিনি বিশ্বকাপের’ শিরোপা একবার জিতলেও তো বেমানান দেখায়। তাই ২০০৯ সালের ষষ্ঠ আসরেরও শিরোপা জিতে ব্যবধানটা দ্বিগুণ করে ফেলে তারা। ফলে এখন হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার।
তাই বিশ্বকাপের পর মিনি বিশ্বকাপেরও হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেতে হলো অসিদের। নিয়মিত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে ছাড়াই শিরোপা জয়ের মিশন শুরু করতে হচ্ছে তাদের।
পুরনো ইনজুরি ‘পিঠের’ সমস্যায় ভুগছেন ক্লার্ক। তাই নিশ্চিতভাবেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না ক্লার্কের।
তেমনটাই জানালেন টিম ম্যানেজমেন্ট বলে দলের ফিজিও অ্যালেক্স কন্তোরিস ‘আমরা আশা করছিলাম ক্লার্ক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। তাই প্রথম ম্যাচে ক্লার্কের না থাকাটা নিশ্চিত। তাকে আরও কিছুদিন লন্ডনে চিকিত্সা নিতে হবে। আশা করছি দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ক্লার্ককে আমরা দলে পাবো।’ ক্লার্ক না খেলাটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় প্রথম ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দিবেন সহ-অধিনায়ক জর্জ বেইলি।
ক্লার্ককে ছাড়াই দু’টি অনুশীলন ম্যাচেও অংশ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ৪ উইকেটে জিতলেও, দ্বিতীয় ম্যাচের যাচ্ছেতাইভাবে ভারতের কাছে হারে অসিরা। ২৪৩ রানের বড় ব্যবধানে টিম ইন্ডিয়ার কাছে ম্যাচ হারের স্বাদ নেয় অস্ট্রেলিয়া। তাই এসব স্মৃতি মনে না রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় দল এমনটাই জানালেন কন্তোরিস, ‘দ্বিতীয় অনুশীলন ম্যাচে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। তবে তা এখন অতীত। ঐ ম্যাচটি আমরা ভুলে যেতে চাই। ভালো খেলতে চাই পুরো টুর্নামেন্টেই। প্রথম ম্যাচ দিয়েই তা শুরু করতে চাই।’
ইনজুরি নিয়ে মোটেও চিন্তা নেই ইংল্যান্ডের। কিন্তু সদ্য নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারায় কিছুটা আত্মবিশ্বাসে ছেদ পড়েছে স্বাগতিকদের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে লড়াই করতে পারেনি তারা। তবে শেষ ম্যাচে জ্বলে উঠে হোয়াইট-ওয়াশের হাত থেকে রক্ষা পায় ইংলিশরা।
তাই বর্তমান ফর্ম কিছুটা হলেও ভাবাচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ঠিক তেমনি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরিসংখ্যান নিয়েও ভাবতে হচ্ছে তাদের। মাত্র এবার ফাইনালে উঠতে পেরেছে তারা। ২০০৪ সালে ঐ ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার মানে ইংলিশরা।
তবে অতীত ও বর্তমানকে চিন্তায় না এনে সপ্তম আসরে ভালো খেলাই মূল লক্ষ্য বলে জানালেন দলের অধিনায়ক অ্যালিষ্টার কুক, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে খুব বেশি ভালো খেলতে পারিনি। তবে আশা করছি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো করতে পারবে দল। হোম কন্ডিশনের সুবিধাটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে চাই আমরা। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো শুরু করাটা খুবই জরুরি আমাদের।’ - বাসস/এএফপি
