সেরেনা নাকি শারাপোভা?

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:১১
শিরোপাধারী মারিয়া শারাপোভা ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেরেনা উইলিয়ামসের। যেখানে শারাপোভার লক্ষ্য থাকবে লাল কোর্টে নিজের সাম্রাজ্য অটুট রাখা, সেখানে সেরেনা খেলবেন প্যারিসে তার সুদীর্ঘ এক যুগের শিরোপা বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর জন্য। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনাল, ’০৭ সালে একই টুর্নামেন্টের ফাইনাল, ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকের ফাইনাল এবং এবছর তিনটি মাস্টার্স টুর্নামেন্ট। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শারাপোভাকে শিরোপা বঞ্চিত করেছেন সেরেনা। শারাপোভার জন্য আরো শঙ্কার খবর হচ্ছে, এই আমেরিকান তারকার বিরুদ্ধে তার সর্বশেষ জয়টা এসেছে প্রায় ১০ বছর আগে, ২০০৪ সালে। এরপর ১২ বার সেরেনার মুখোমুখি হয়ে এই রাশিয়ান গ্ল্যামার সেনসেশন জিততে পারেননি একবারও। তাই শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে আরেকবার সেরেনার মুখোমুখি হবার আগে শারাপোভার চোখে ভাসছে সেই পুরনো ম্যাচগুলোর স্মৃতি। আর সেটা সাংবাদিকদের সামনে অকপটেই স্বীকার করলেন ২৬ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘যদি বলি আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই তাহলে মিথ্যা বলা হবে। এতে (পরিসংখ্যান) প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোন ছাপ আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে আমি অবশ্যই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো।’ আর কিভাবে এই ‘সেরেনা জুজু’ কাটিয়ে ওঠা যায় তার একটা সমাধানও খুঁজে বের করেছেন তিনি নিজেই। পুরনো কোন কলা-কৌশলই যেখানে কাজ করছে না সেরেনার বিরুদ্ধে, সেখানে নতুন কোন অস্ত্রে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল এঁটেছেন শারাপোভা। শারাপোভা আরো বলেন, ‘বোঝাই যাচ্ছে আমি আগে যা করেছি, সেটা কোন কাজে আসেনি। তাই আমাকে নতুন কিছু করতে হবে। আমি আশাবাদী এটা কাজে আসবে।’ ফাইনাল-সেমিফাইনালের মতো ম্যাচগুলোতে ছোট ছোট কিছু বিষয়ই রাখতে পারে বড় ভূমিকা। আর সেরা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সুযোগগুলোর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারই করতে হয়। শারাপোভা মনে করছেন এই বিষয়গুলোই তাকে পিছিয়ে রাখছে সেরেনার চাইতে। তিনি বলেন,‘আমার মনে হয় তার (সেরেনা) বিরুদ্ধে যে সুযোগগুলো আমি পেয়েছি, সেগুলো আমি কাজে লাগাতে পারিনি। তার মতো একজন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে, সামান্য যে সুযোগগুলো আপনি পাবেন সেগুলোই কাজে লাগাতে হবে।’ অন্যদিকে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে সেরেনা দুরন্তগতিতে এগিয়ে চলেছেন তার ষোড়শ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার দিকে। টুর্নামেন্টের গত আসরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়া এই তারকা এবছর প্রথম চারটি ম্যাচে মাত্র দশটি গেম খুইয়েছেন। তাই নিজের পারফরম্যান্সে স্বভাবতই দারুণ উচ্ছ্বসিত সেরেনা। ১১ বছরের ব্যবধানে প্যারিসে নিজের দ্বিতীয় শিরোপার সুখ স্বপ্নে বিভোর তারকাটি বলেন,‘এটা আমার জন্য দারুণ হবে। এটা (শিরোপা) আমার জন্য কতটা খুশির ব্যাপার হবে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।’ তবে পরক্ষণেই স্বপ্ন থেকে বাস্তবে নামলেন সেরেনা। কাগজে-কলমে যতটাই এগিয়ে থাকেন না কেন, কোর্টের লড়াইয়ে জিততে না পারলে পরিসংখ্যানের যে কোন মূল্য নেই সেটা ভালভাবেই বুঝতে পারছেন। তাই শারাপোভার বিরুদ্ধে তার পূর্ববর্তী পরিসংখ্যানকে তাই মাথায় আনতে নারাজ উইলিয়ামস বোনদের ছোটটি, ‘এটা ভিন্ন সময়, ভিন্ন ম্যাচ এবং ভিন্ন একটা অধ্যায়। সেটা (শিরোপা) এখনো পর্যন্ত একটা স্বপ্নই। আমার আরো একটি ম্যাচ খেলতে হবে। যেখানে দু’জন ব্যক্তি শিরোপার জন্য লড়বেন।’