শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৩, ২১:৪৪
আলোচনা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। কখনো অশান্তি কামনা করে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। দেখা যায় হরতাল মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। আর হরতালের মূল কারণ হলো, নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল রাখা। শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের নেত্রীর সাথে আলাপ-আলোচনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যায় না। দেশের অর্থনৈতিক আয়ের অন্যতম উত্স হলো, তৈরি পোশাক। যদি দেশে হরতাল বিশৃঙ্খলা থাকে বিদেশিরা তো আর বিনিয়োগ করতে আসবে না। যদি বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে না আসে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পতিত হবে। অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেই তো দেশেরই ক্ষতি। অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। মাহফুজুর রহমান খান, সম্মান ২য় বর্ষ, রোল নং-৩১১৮ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর। প্রয়োজন দলগুলোর প্রকৃত দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ সহনশীল মনোভাব জনসেবার অঙ্গীকারে গণতান্ত্রিক দেশসমূহে জনতার রায়ে সরকার গঠন হবে এটাই স্বাভাবিক। সুষ্ঠু নির্বাচন যেমন এক্ষেত্রে গণতন্ত্র চর্চার পূর্বশর্ত তেমনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ক্ষমতা হস্তান্তর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার উপর নির্ভর করে একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অনেকাংশই। বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডটিতে আমরা চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে গণতন্ত্র চর্চা করে আসছি। এই দীর্ঘ সময়ের পথচলার অভিজ্ঞতা অনেকক্ষেত্রেই সুখকর নয়। ক্ষমতার লোভ আমাদের প্রবল যেখানে জনসেবার অঙ্গীকার গৌণ বিষয়। তাই তো প্রতিটি সরকারের আমলেই সংসদ অকার্যকর দেখা যায়। জনতার রায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদে দেশের উন্নয়নের কথা বলবে এটাই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু যখন দেখা যায় কাকে কোথায় আসন দেয়া হল না, এ নিয়ে ওয়াকআউট, কিংবা বিরোধীদের সময় কম দিয়ে দলীয় প্রতিনিধিদের তোষামোদি কথায় কেটে যায় অতি মূল্যবান সময়— তখন হতাশই হতে হয় আমাদের। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষপটে আমাদের রাজনীতিবিদের ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও প্রকৃত দেশপ্রেম বোধ জাগ্রত করা উচিত। তাদের বুঝা উচিত যে, গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই পরবর্তী সরকার নির্বাচিত হবে। নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে। সর্বোপরি, রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল মনোভাব, দেশের উন্নয়নের সদিচ্ছা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর কঠিন হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলোর এও মনে রাখা উচিত যে দেশটাকে তাদের হাতে সেবার দায়িত্ব দেয়া হয়, লিজ দেয়া হয় না! রাকিবুল হাসন রাসেল অনার্স ৩য় বর্ষ, হিসাব বিজ্ঞান সরকারি তিতুমীর কলেজ রাজনৈতিক অঙ্গন যত নেতিবাচক প্রক্রিয়ার মধ্যে যাবে ততই দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে যাবে উন্নয়নের জন্য স্থির অর্থনৈতিক নীতিমালা অপরিহার্য। কেননা ঘন ঘন রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং এর অনিবার্য ফলস্বরূপ অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন উন্নয়নের জটিল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা। যেকোন দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক আইনে শান্তি ফিরে আনা না যায় তবে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তির জন্য অপরিহার্য মাধ্যম হলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। না হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অশান্তি বিরাজ করবে। রাজনৈতিক অঙ্গন যত নেতিবাচক প্রক্রিয়ার মধ্যে যাবে ততই দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে যাবে— যা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ। দেশ আমার-আপনার সবার—দেশের উন্নয়ন আমার উন্নয়ন, তাই দেশকে ভালবাসব। সুতরাং দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। মো. মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী অর্থনীতি ২য় বর্ষ মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই পারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে একটি স্বাধীন সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি হলো একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রে বসবাসরত সকল জনগণের চিন্তা, চেতনা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটে এবং এর মধ্য দিয়ে দেশ উন্নতির স্বর্ণ শিখরে আহরণ করে। এ লক্ষ্যই ছিল মুক্তি সংগ্রামের মূল শপথ। দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রাম ও লক্ষ বাঙালির জীবনের বিনিময়ে এ বাংলাদেশ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে বার বার উপেক্ষা করে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দলের স্বার্থ এবং নিজেদের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রেখে, দেশটাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাই একজন দেশপ্রেমিক, সত্ এবং সুবিধাভোগী নন এমন রাজনীতিবিদের বড় অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে দেশ পরিচালনায়ও তারা আশানুরূপ অবদান রাখতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন মহাদুর্যোগেও তারা জাতীয় ঐক্যে উপনীত হতে পারছেন না বলেই দেশের জনগণ মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সেবার মানসিকতা নিয়ে হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে, সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করে দেশকে এ সংঘাত ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এই দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আর সংঘাত নয়, ধ্বংস নয়, হরতালও নয়— একটি গণতান্ত্রিক (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায়) উপায়ে সুষ্ঠু নির্বাচনই সকলের কাম্য, সকল অশুভ শক্তি নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তি পাক। মো. আলভী হোসেন শ্রেণি: দ্বাদশ (বাণিজ্য) সরকারি বরিশাল কলেজ, বরিশাল