রাজনৈতিক সব অনিয়ম ও অস্থিতিশীলতাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায়
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। তিরিশ লক্ষ প্রাণের ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। কিন্তু আমজনতা আজো স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাচ্ছে না। কেননা, অর্থনৈতিক মুক্তি ব্যতীত স্বাধীনতা যে অর্থহীন। প্রশ্ন হচ্ছে, অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪২ বছরেও আমরা কেন অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে পারিনি? এর অন্যতম কারণ ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার পিঁপাসা, প্রতিহিংসা, সর্বোপরি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। প্রতিটি সরকারি দলের কিছু অসত্ রাজনীতিবিদ ক্ষমতা প্রাপ্তির সঙ্গে-সঙ্গেই শুরু করে দুর্নীতির মহড়া। সরকারও এদের সুষ্ঠু বিচার না করে শাক দিয়ে মাছ ঢেকে তাদের ইমেজ রক্ষা করতে চেষ্টা করে। ফলে শাকও পচে, মাছও পচে। দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয় ও পঙ্গু হয় অর্থনীতি। বিরোধী দল তাদের বিভিন্ন দাবিতে কখনোবা সরকারি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধাচারণের নামে হরতাল, অবরোধ ও জ্বালাও-পোড়াও করে এক পা পঙ্গু অর্থনীতির দুই পা পুঙ্গ করে দেয়। সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এ সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠে। এক দল নামে ক্ষমতা রক্ষার অভিযানে, অন্য দল ক্ষমতা দখলের আন্দোলনে। দমন, নিপীড়ন, হরতাল, অবরোধ ও সংঘাতে বিভক্ত হয়ে উঠে জনজীবন। একদিকে সরকারি অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ক্ষতি, অন্যদিকে প্রতিদিনের হরতালে ১৬০০ কোটি টাকা ক্ষতি। এ যেন পাটায় শীলে ঘষাঘষি মরিচ নামীয় অর্থনীতির জীবন শেষ। জনতা ক্ষমতা রক্ষা ও দখলের রাজনীতি চায় না। অগ্রণযোগ্য ও বিশৃঙ্খল নির্বাচন যেমন কাম্য নয়, তেমনি নির্বাচন পরবর্তী বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতও আমাদের কাম্য নয়। আমরা চাই দুর্নীতি দুর্ভোগ দারিদ্র্য ও সংঘাতমুক্ত একটি দেশ। যার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই।
মাহদী হাসান লিখন
বিবিএস (সম্মান), ব্যবস্থাপনা বিভাগ,
৩য় বর্ষ, রোল ১৫২৭ত্
শেরপুর সরকারি কলেজ
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রধান দুই দলের উচিত সমঝোতার ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা
শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয় তা হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো দেশের মস্তিষ্কস্বরূপ। আর সেই মস্তিষ্ক যদি বিকল হয়ে যায় তাহলে দেশের সকল উন্নয়ন ব্যবস্থা একেবারেই ভেস্তে যাবে এটাই স্বাভাবিক। অর্থনৈতিকভাবে যে দেশ বেশি স্বাবলম্বী সে দেশই বেশি উন্নত। সেই তুলনায় আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪২ বছরেও অর্থনৈতিকভাবে অতটা উন্নতি করতে পারে নাই। অর্থনৈতিকভাবে যেটুকু উন্নতি অর্জন করেছে দেশ, তার মূলে রয়েছে এদেশের মেহনতি কৃষক, শ্রমজীবী এবং সাধারণ কর্মজীবী মানুষের রক্তের বিনিময়ে। কিন্তু এই অর্জনটুকুও বিসর্জন দিতে হয় দেশে হিংসাত্মক রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণে। অথচ রাজনৈতিক নেতারাসহ সকল জনগণই জানে যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল পরিহার করতে হবে, দুর্নীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে আনতে হবে। দিতে হবে শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং সকল দল যদি দেশের স্বার্থে মিলিত হয়ে কাজ করে, তাহলে আল্লাহর রহমতে দেশের আর কোন অর্থনৈতিক সমস্যা থাকবে না। ক্ষমতা নামক সোনার হরিণটি যে বা যারা পায় তারা কি সহজেই সেই ক্ষমতা ছাড়াতে চায়? যে দল ক্ষমতায় থাকে তারা চায় তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য নানান কৌশল করছে। আবার যখন বিএনপিও ক্ষমতায় থাকে তখন তারাও চায় যে কোন মূল্যে ক্ষমতাকে স্থায়ী করার। কোন দলই কিন্তু ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে পারে না। বিএনপি-আওয়ামী লীগের ক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য সৃষ্টি হয় দেশে অশান্তি, অরাজকতা, দুর্নীতি। ফলে প্রাণ দিতে হয় এদেশের নিরীহ সাধারণ মানুষকে। যার উত্থান আছে তার কিন্তু পতনও আছে। তাই আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সকল দলের উচিত এই বিষয়টা ভাবা। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উচিত জনগণের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে আলোচনার মাধ্যমেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা। জনগণ যদি চায় আপনাদের তাহলে আবার আপনারা ক্ষমতায় আসবেন। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক পন্থায় একজন যোগ্য লোকের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশের অশান্তি দূর করে শান্তি ফিরিয়ে আনুন।
এস এম স্বপন
বিএসএস (প্রথম বর্ষ)
সরকারি তিতুমীর কলেজ, মহাখালী, ঢাকা ১২১২
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা
বাংলাদেশে অর্থনীতির ভিত যে দুর্বল তা বলার অবকাশ রাখে না। ১৯৭১ সালের পর থেকে আমরা চেয়েছি আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে, কিন্তু আমরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি কিছু কারণে। বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা যা চীনের মহাপ্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্মুখে। আমরা যতই আঘাত করি না কেন এটা ভেঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে এক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধতায় ততই বাধার সম্মুখীন হয়। আমাদের দেশের রাজনীতি বর্তমানে ক্ষমতার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো ছাড়া যেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু করার নেই। টিভি চ্যানেল বা পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে সরকার বিরোধী দলকে দায়ী করছেন, না হয় বিরোধী দল সরকারের উপর দায় চাপাচ্ছেন। জাতীয় সংসদেও আমরা কোটি টাকার মূল্যবান সময় নষ্ট করছি অপ্রয়োজনীয় সব মন্তব্য করে। শেয়ারবাজার সম্পর্কে যদি অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ারবাজার কি তা আমি এখনও ভালো করে বুঝলাম না’, হলমার্ক কেলেংকারির যে অর্থ আত্মসাত্ করা হয়েছে তা যদি অর্থমন্ত্রীর কাছে খুব স্বল্প পরিমাণ টাকা মনে হয়, তাহলে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তো তার কাছে মনে হবে এটা তেমন কিছুই না। রাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের অর্থনীতি নামক বহুতল ভবনকে রানা প্লাজার মতো ধস নামিয়ে ভূমিপাত করেছে ঠিকই, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা ভোগের লোভকে একটুও দমাতে পারেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা যে বাংলাদেশের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করে অর্থনীতির মেরুদণ্ডে চির ধরাচ্ছে সেদিকে আমাদের কোন সুদৃষ্টি পড়ে না, ঠিক যেভাবে চোখ পড়ে ক্ষমতা ধরে রাখার উপর। অর্থনীতি একটি দেশের মেরুদণ্ড। আর এই মেরুদণ্ড যদি পরিণত হয় সাভার ট্র্যাজিডিতে তাহলে একটি দেশ কিভাবে পারে রানা প্লাজার মতো দাঁড়িয়ে থাকতে? একটি দেশের অর্থনীতির ভিত অনেকাংশে সুষ্ঠু নির্বাচনের উপর স্থাপন হয়। তাই প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, একটি দেশের মেরুদণ্ড (অর্থনীতি) রক্ষা করতে প্রয়োজনে উন্নয়নের রাজনীতি। আর তাহলেই আমরা বাংলাদেশকে অর্থনীতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবো।
খন্দকার রিজভী সামাদ
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ২ য় বর্ষ
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর
