শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর করেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা সচল রাখা সম্ভব
বর্তমানে বাংলাদেশ রাজনীতির বৈরী হাওয়ায় উত্তপ্ত ধুলো-বালিতে ভরে গেছে। আর এই রাজনীতি নামক স্টিম রোলারের আঘাতে যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ঝুঁকির সম্মুখীন, সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তো পদপিষ্ট হবেই। দেশের এই রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে অবশ্যই প্রধান দুই দলের আলোচনার মাধ্যমে আসন্ন সংসদ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর একই সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পথ সুগম করতে হবে। দেশের নেতৃত্বের ভার কাউকে না কাউকে নিতেই হবে, আর এই নেতৃত্ব যথার্থই যদি হয় ক্ষমতা ও টাকার পাহাড় গড়ার লোভ! তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা ঘুরতে ঘুরতে ভাগাড়ে পড়া ছাড়া আর কোন পথ খুঁজে পাবে না। সোনার দেশ বলিষ্ঠ অর্থনীতির স্বপ্ন দেখবে, কিন্তু কোনদিন বাস্তবায়ন করতে পারবে না। বাংলাদেশের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সমীক্ষা ঠিক রাখার জন্য দারিদ্র্যমুক্ত স্বদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এখনই উচিত নির্বাচন পূর্ব-মুহূর্তেই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ করা। আর তবেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত সম্ভব হবে।
কামরুল হাসান (নাজমুল)
এলএল.বি (অনার্স), (শেষবর্ষ)
আইন ও বিচার বিভাগ,
উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত
রাজনীতি এবং অর্থনীতি আন্তঃসম্পর্কিত। কোন কোন সময় রাজনীতির দ্বারা অর্থনীতি প্রভাবিত হয় আবার কোন কোন সময় অর্থনীতি দ্বারা রাজনীতি প্রভাবিত হয়। বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় দেশেই রাজনৈতিক অস্থি্তিশীলতার কারণে অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মূলত আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলগুলো হরতালসহ নানা ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে। এর দ্বারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি বড় ব্যবসায়ীরাও লোকসানের হিসাব গুনছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও লোকসানের ভয়ে তাদের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে। এদিকে হরতালের কারণে দূরপাল্লার সব পরিবহন বন্ধ থাকে বিধায় শহর থেকে গ্রামে এবং গ্রাম থেকে শহরে কোন পণ্য আনা-নেয়া করা যায় না, ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। এটা বলা চলে যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণেই বর্তমান সরকার বিগত অর্থবছরের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি যা মোট জিডিপির ৬.৭২ অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং একথা বলাই বাহুল্য যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা হস্তান্তর নয় বরং একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানই মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম
বিএসএস সম্মান (৮ম সেমিস্টার)
উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শান্তিপূর্ণভাবে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায় তাহলেই অর্থনীতি পূর্ণতা পাবে
যেকোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে প্রধান দুই দলের মধ্যে যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ আরম্ভ হয়েছে তাতে যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বারোটা বাজচ্ছে তা দেখার কোন চোখ নেই কারোরই। রাজনৈতিক চিত্র পরিবর্তনের সাথে সাথে কখনো হাঁটি হাঁটি পা পা করে আবার কখনো একটু গতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির চাকা। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থার চিত্র খুবই অস্বস্তিকর। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে রাজনৈতিক মাঠ গরম। দু’দলের ভিন্ন দুই অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এই একটি অমীমাংসিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে দেশে অসংখ্য তাজা প্রাণ হরতাল তথা আন্দোলনের বলি হয়ে ঝরে গেছে। হরতাল, অবরোধ, আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এতে করে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিতে পড়ছে ব্যাপক প্রভাব। সবচেয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পোশাক শিল্প। কমে যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ। দাতা গোষ্ঠি বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। যদি এই অবস্থা অব্যাহত থাকে তাহলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই বলব- একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রেখে নির্বাচিত দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
মো. সফিউল আলম (টিপু)
বি.এস.এস, তৃতীয় বর্ষ, পল্লবী ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত
রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতি— এ তিন নীতি পরস্পরের পরিপূরক। একটি দেশের মানুষের ভাগ্য অনেকটা নির্ভর করে সে দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপর, কেননা মানুষ তাদের প্রতিনিধি করে দেশ পরিচালনার জন্য পাঠায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত যার অভাবে স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য বার বার হোঁচট খাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে ক্রমাগত বাড়তে থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ যা প্রকাশের একমাত্র মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে ওঠে হরতালসহ নানারকম ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি। এসব ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি যেমন ধ্বংস করেছে আমাদের অর্থনীতি, তেমনি কেড়ে নিয়েছে অগণিত তাজা প্রাণ। দেশের মানুষ আজ বড় দুই রাজনৈতিক জোটের কাছে বন্দী যা অনেকটা ভাগ্য জিম্মি রাখার সমতুল্য। দিশেহারা জাতি আজ মুক্তি চায় বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। তাই এখনই সময়, বিরোধী দলকে হরতালের মতো নৈরাজ্যকর কর্মসূচি পরিহার করা এবং সরকার-বিরোধী দলের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সমাধান করা।
মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন
আইন বিভাগ, জিয়া হল ৫০৪, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
