কিছুদিন ধরিয়া রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করিয়াছে। অর্ধশতাব্দীর অধিক পুরনো এই কলেজটির অন্য সকল সমস্যা ছাপাইয়া পানি সরবরাহের এই সংকটাপন্ন অবস্থা রাতারাতি হয় নাই। প্রায় তিন হাজার ছাত্রীর এই কলেজের তিনটি হোস্টেল রহিয়াছে, যেখানে ছয় শত ছাত্রী বসবাস করেন। তাহাদের ভিতরে মাত্র একটি হোস্টেলে রহিয়াছে পানির তিনটি সংরক্ষণাগার। তাহাদেরও ধারণ ক্ষমতা পর্যাপ্ত নহে। পানির অপ্রতুলতার সহিত যোগ হইয়াছে দূষণ ও দুর্গন্ধ। স্বভাবতই কলেজটির আবাসিক ছাত্রীদের জীবন দুর্বিষহ হইয়া উঠিয়াছে। জানা গিয়াছে, কলেজে পানির দুইটি সংযোগের মধ্যে একটি ওয়াসার এবং অন্যটি গণপূর্ত বিভাগের। ইহার ভিতরে ওয়াসার সংযোগের পানি বুড়িগঙ্গা নদী হইতে সরবরাহ করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে ঐ পানি হইয়া ওঠে অপরিষ্কার এবং দুর্গন্ধের আধার। ব্যবহার অনুপযোগী হইলেও পানিস্বল্পতার কারণে ঐ দুর্গন্ধযুক্ত পানিই ব্যবহার করিতে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা। এর ফলে পানিবাহিত নানা রোগব্যাধিও তাহাদের নিত্যসঙ্গী হইয়া উঠিয়াছে।
ইহা স্পষ্ট যে, অতি ধীরে ঘনীভূত এই অসহনীয় পানি সংকট লইয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই এ যাবত্কালে। তাহা হইলে অপ্রতুল পানি সংরক্ষণাগারসহ অন্য দুইটি হোস্টেল ভবন সংরক্ষণাগারশূন্য হইতো না। কলেজের প্রশাসনিক বিভাগের অতি দুর্বল ব্যবস্থাপনাচিত্র আরো প্রকটভাবে প্রকাশ পায় যখন পত্রিকান্তরে আমরা জানিতে পারি, পানির সংযোগগুলি জীর্ণ, দীর্ঘদিনের পুরনো। তাহাতে রহিয়াছে সংস্কারহীনতাও। দিন দিন চাহিদা বাড়িয়াছে, বিপরীতে পানির প্রয়োজনীয় নতুন সংযোগের বিষয়ে মনোযোগী হয় নাই কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের ভিতরে অহর্নিশ পুঞ্জীভূত হইয়াছে ক্ষোভের বহ্নি। তাহারই বিস্ফোরণ ঘটিয়াছে গত বৃহস্পতিবার। কলেজের অধ্যক্ষকে নয় ঘণ্টারও বেশি অবরুদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একজন ব্যক্তিত্ববান আত্মমর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য ইহা অতীব লজ্জার। তবে ব্যক্তিত্ববান আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ প্রধান কখনোই এমন অব্যবস্থাপনাকে উত্পাটিত না করিয়া উত্সাহিত করিবেন না।
পরিতাপের বিষয় হইল, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার এ জাতীয় চিত্রনাট্যরূপ আমাদের নিত্য দর্শনীয় বিষয় হইয়া গিয়াছে। শুধু একটি মাত্র কলেজ নহে, এমন ঘটনা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায়শই দেখিতে পাই। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই সমস্যা প্রকট হইলে তাহা সার্বিকভাবে ভুক্তভোগীেদের নিকট দুর্বিষহ হইয়া উঠে। কারণ নিয়মের ভিতরেই তাহার সমাধানের পথ দীর্ঘসূত্রিতায় গাঁথা।
আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে বিশুদ্ধ ও পর্যাপ্ত পানি ব্যতিরেকে একটি দিনও সুস্থ স্বাভাবিকভাবে যাপন করা সম্ভব নহে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ভিনগ্রহজাত নহেন যে, তিনি এই সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবনে অপারগ। প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ন্যূনতম ব্যবস্থাপনা-জ্ঞান না থাকিলে, কিংবা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ন্যূনতম মমত্ববোধ না থাকিলেই কেবলমাত্র এমন অবস্থার সৃষ্টি হইতে পারে।
