আজ ১২ই জুন। রাশান ফেডারেশনের গৌরবিত জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমি ভ্রাতৃপ্রতিম রুশীয়দের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এটাকে রাশিয়ার স্বাধীনতা দিবস মনে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কারণ, কোনো অবস্থাতেই এই দেশটি কখনো অন্য কোনো দেশের অধীন বা উপনিবেশ ছিলো না।
রাশিয়ার জার সাম্রাজ্যের কথা উঠলেই যার নাম সবার আগে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন, দ্বিতীয় নিকোলাস। মূলত এই নিকোলাসের মাধ্যমেই দীর্ঘ জার সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে। সম্রাট এবং একনায়ক বলে পরিচিত ছিলেন দ্বিতীয় নিকোলাস। তার জন্ম ১৮৬৮ সালে ১৮ মে। তিনিই রাশিয়ার শেষ সম্রাট। ফিনল্যান্ডের গ্রান্ড ডিউক এবং পোল্যান্ডের সম্মানসূচক রাজাও ছিলেন। যদিও ১৭২১ সালে টিজারডোম বা রাজ শাসনের অবসান হয়, তবুও রাশিয়ান অন্য সম্রাটদের মতো তাকে টিজার বলা হতো।
এ ছাড়া রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চ তাকে সেইন্ট নিকোলাস বলে অভিহিত করত। তিনি ১৮৯৪ সাল থেকে শুরু করে ১৯১৭ সাল অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। তার শাসনামলে রাশিয়া পৃথিবীর সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়। যদিও তখন বিশ্বে অর্থনৈতিক ধস চলছিল। তবে তার শত্রুরা তাকে ‘ব্লাডি নিকোলাস’ বলে ডাকত। কারণ বিরুদ্ধাচরণকারী রাজনীতিবিদদের নির্বিচারে ফাঁসি প্রদান করতেন নিকোলাস। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পেত না কেউই। কেউ কেউ বলতেন, নির্বিচারে গণহত্যা করেছেন রাশিয়ার এই সম্রাট। তবে নিজ দেশের স্বাধীনতার জন্য বরাবরই আপসহীন ছিলেন নিকোলাস। এই বিষয়ে কাউকে তিনি ছাড় দেননি।
কর্তাব্যক্তি হওয়ায় তার অনুমতিতেই রাশিয়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যে যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ রাশিয়ান আত্মাহুতি দেয়। যুদ্ধে তার ইম্পেরিয়াল আর্মি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার বহুবিধ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রোমানভ রাজত্ব ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। এ জন্য তাকে চড়া মাশুল দিতে হয়েছিল।
রাষ্ট্রের অনুমোদিত নাম রাশান ফেডারেশন, রাজধানী মস্কো, রাষ্ট্রীয় ভাষা রাশান সারা দেশে ব্যবহূত হয়, মাথাপিছু আয় ১৫,৮০৭ মার্কিন ডলার এবং মুদ্রার নাম রুবল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এবং ক্যাথারিন দ্য গ্রেট-এর সময়কাল থেকে দুই শতাব্দীকাল জারগণ অত্যধিক ধনাঢ্য ছিলেন। তারা অন্যান্য ইউরোপীয় রাজাদের দরিদ্র খুড়তুতো, জেঠতুতো, মামাতো, মাসতুতো, পিসতুতো ভাই মনে করতেন। অনেক ইউরোপীয় রাজা তাদের জন্মদিনে আমন্ত্রিত জারদের কাছ থেকে মূল্যবান উপঢৌকন প্রত্যাশা করতেন।
জারদের হত্যা করার পর তাদের আত্মীয়-স্বজন রাশিয়া থেকে পালিয়ে যায়। ওটা ছিলো অতীতের ব্যাপার যার ফলে রুশ জনগণের সামাজিক-অর্থনৈতিক জীবনের সকল পর্যায়ে সূচিত হয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন। দেশটি একটি মহাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে সাধিত হয় ব্যাপক, যুগান্তকারী উন্নতি, অগ্রগতি।
নিঃস্বার্থ সহযোগিতা প্রদানের কারণে রাশিয়া আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। বাংলাদেশে রুশ রাষ্ট্রদূত ও চট্টগ্রাম রুশ কনসাল এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সকলপ্রকার সহযোগিতা দিয়ে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অধিকতর অর্থপূর্ণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যথার্থই উভয় দেশের বন্ধুত্বের অব্যাহত উন্নতি চাই। রুশ সহযোগিতা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে বলে এই দেশটির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা অকৃত্রিম।
লেখক :হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ও প্রাবন্ধিক
ইমেইল: [email protected]
