শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২০:৫৩
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বন্ধুসুলভ মনোভাবের প্রয়োজন বর্তমানে আমরা যে সময় অতিবাহিত করছি সেই সময় আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহানুভূতির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই একদল অন্য দলকে সহ্য করতে পারে না। সর্বদা হিংসার চোখে দেখে। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় অশান্তি। প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে দু’দল। হরতাল, অবরোধ, মিটিং, মিছিল, গাড়ি ভাংচুরসহ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। আর এতে সবচে’ বেশি যাদের ক্ষতি হয় তারা হলো দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। যারা একদিন আয় না করলে পরেরদিন না খেয়ে দিন অতিবাহিত করতে হয়। তাই তাদের বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিছুতেই সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ। এই উন্নয়নের মধ্যে বাধা হয়ে আছে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তাছাড়া এদেশের মানুষকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে যুদ্ধ আর আন্দোলন করে বাঁচতে হয়েছে। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে, যদি রাজনীতির হিংস্র থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করা যায় তবে আমরা এ যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবো। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চাই রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর পরস্পরের সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্কে বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। তবেই দেশের উন্নয়নের পথ সচ্ছলভাবে অগ্রসর হবে। মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে দেশ মুক্ত হবে। মো. আব্দুর রহমান সুমন বিএসএস সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্দর, নারায়ণগঞ্জ অশান্ত দেশটাকে শান্ত করলেই বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে সকলেরই অধিকার আছে স্বাধীনভাবে পথচলার। স্বাধীনভাবে কথা বলার। কিন্তু একটা স্বাধীন রাষ্ট্রে আজ সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা কোথায়? আমরা কি পারছি স্বাধীনভাবে পথ চলতে? কখনও কি স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার দেয়া হচ্ছে আমাদের? আমরা তো সকল রাজনৈতিক দলের কাছে জিম্মি। সারাক্ষণ শুধু হরতাল, মারামারি, কাটাকাটি আর হত্যা-গুমের আতঙ্কে বাংলার জনগণ আজ যেন গৃহবন্দী। আমরা কবে মুক্তি পাব এই বন্দীদশা থেকে? আর যদি বলি ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা, তাহলে তো বলতে হয় ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন যেভাবে হত্যাকাণ্ড, মিছিল, অবরোধ আর ভাংচুর চালানো হচ্ছে তাতে অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকে অগ্রসর হতে বাংলাদেশকে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। তাই আমি সকল রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব, আপনারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক বিবেচনা করে এসব রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করুন। আপনাদের বুঝাতে হবে এই যুদ্ধ কোনদিনও শান্তি উপহার দিতে পারবে না। বাংলাদেশে এতদিন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এবারও হবে। সেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরকরণেও হবে। আবার সেই ক্ষমতা বর্তমান সরকারের হাতে থাকলেও হবে। সুতরাং ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে শান্ত দেশটাকে অশান্ত করে মায়ের কোল থেকে তার সন্তানদের কেড়ে নেয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। প্রণয় কুমার সাহা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বাণিজ্য বিভাগ কালুখালী ডিগ্রি কলেজ, কালুখালী, রাজবাড়ি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই পারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে অর্থনীতি একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত আর এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা ঐ দেশের রাজনৈতিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া কোন দেশই বিশ্বে পরিচিতি লাভ করতে পারে না। ইউএসএ, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া আজ অর্থনীতির দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ কারণ এসব দেশে নির্বাচন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর হয় শান্তিপূর্ণভাবে। যে প্রত্যয় নিয়ে সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে এদেশের মানুষ এই স্বাধীনতা অর্জন করেছে তার ফল আজও পাইনি। কারণ বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ রেখে আলোচনায় না এসে হরতাল, অবরোধের মতো অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি হানছে। তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ জনগণের উপর। আমরা সাধারণ জনগণ একটু ভালভাবে বিবেচনা করলে দেখতে পাবো যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই দেশে অর্থনীতির এরূপ অবস্থা। শান্তিপূর্ণ উপায়ে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর বা সরকারি দল এবং বিরোধী দল আলোচনায় না আসলে দেশের যে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন হবে তাই নয়, এই সোনার দেশটি ধ্বংসের মুখে চলে যাবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সমন্বিত হয়ে কাজ করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঠিক সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা। অন্যথায় দেশ ও জাতি আপনাদের কখনো ক্ষমা করবে না। কুমারী প্রতিমা বালা সরকার অর্নাস ২য় বর্ষ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, বেলকুচি ডিগ্রী কলেজ, সিরাজগঞ্জ যদি করতে চাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর মিলেমিশে একসাথে করতে হবে কাজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অন্যতম অথনৈতিকভাবে অগ্রগামী দেশ। আমরা দেখতে চাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দুয়ার, দেখতে চাই না আর ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হোক। আশাবাদী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- সঠিক পথ খুঁজে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসবে ও দেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। আবার ১/১১ আসুক বা বিদেশিরা এসে এখানে হস্তক্ষেপ করুক, এটা মোটেই কাম্য নয়। কারণ এরফলে দেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব হবে যেটি দেশের সাধারণ জনগণ কোনদিনই চায় না। আমরা সবাই জানি আমাদের দেশের প্রায় সব রাজনীতিবিদই বিজ্ঞ, তাই বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা তাদের সব চাওয়া-পাওয়া ঊর্ধ্বে রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে ও সবাই মিলেমিশে একসাথে কাজ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মো. ইমরুল কায়েস (মোহন) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, লেভেল-১, সেমিস্টার-১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, বাকৃবি, ময়মনসিংহ