যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়া দেশসেবা

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২১:৩৬
যোগ্যতা ও সক্ষমতা দিয়া পুলিশ সদস্যদের দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করিবার আহ্বান জানাইয়াছেন পুলিশ বিভাগের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার। সম্প্রতি পুলিশ অফিসার্স মেস উদ্বোধনকালে তিনি উচ্চারণ করেন এই সমুজ্জ্বল বাণী। বর্তমানে অনেক মেধাবী তরুণের পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক বলিয়া আখ্যায়িত করেন। নবীন ও মেধাবী অফিসারদের নিকট হইতে গতিশীলতা ও নতুনতর দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করা খুবই স্বাভাবিক। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণা পোষণ করিবে, এমনটি মোটেও প্রত্যাশিত নয়। কিন্তু দশচক্রে ভগবান ভূত বলিয়া যে একটা কথা আছে তাহাও তো অমূলক নহে। পুলিশের আইজি মহোদয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা বলিতে কি বুঝাইয়াছেন তাহাও এক প্রশ্ন বটে। অর্পিত দায়িত্ব বিচক্ষণতার সঙ্গে এবং যথাসময়ে যথাযথভাবে পালন করিবার যে সক্ষমতা তাহাই দক্ষতা। কাহারও দক্ষতা থাকিলেই তিনি তাহা কার্যে পরিণত করিবেন বা করিতে পারিবেন, এমন কথা হলফ করিয়া বলা যায় না। নিয়ম-কানুন মানিয়া কর্তব্য পালনের জন্য পারিপার্শ্বিক পরিবেশও সেই রকম হওয়া চাই। একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্রতী হইবেন যখন তিনি নিশ্চিত জানিবেন যে, তাহার কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হইবে। কর্তব্য কর্মে দক্ষতা ও সততা তাহার পেশাগত উন্নতির পাথেয় হইলে এবং এই ক্ষেত্রে কোনো বাঁকা পথ খোলা না থাকিলে কাজে যোগ্যতার প্রমাণ দিবার জন্যই সকলে সচেষ্ট হইবেন ইহাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগে কি পরিস্থিতি বিরাজমান রহিয়াছে তাহা আইজি সাহেবের অজানা থাকিবার কথা নহে। সংবাদপত্রের পাতায় চোখ বুলাইলেও তাহা বেশ অনুধাবন করিতে পারা যায়। এই প্রসঙ্গে সামপ্রতিককালে পত্রিকায় প্রকাশিত এতদসংক্রান্ত সংবাদের সারসংক্ষেপ তুলিয়া ধরা হইলে ইহা নিয়া আর মন্তব্য করিবার প্রয়োজন পড়ে না। গত ৮ জুন দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক রিপোর্ট হইতে জানা যায়, সাভার ও সোনারগাঁও থানায় পুলিশ হেফাজতে দুই ব্যবসায়ীর মৃত্যর ঘটনায় অভিযুক্ত এক কর্মকর্তা তাহার ঊর্ধ্বতন আরেক কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যেই বলেন যে, তিনি বা তাহারা ঊর্ধ্বতনদের মাসোহারা দিতেই ঘুষ খাইতে বাধ্য হন। নাম প্রকাশ না করিয়া অপর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়া ওই রিপোর্টে বলা হয়, প্রতিমাসে নির্ধারিত হারে উেকাচের প্যাকেট এসপি ও ডিআইজিদের নিকট থানা হইতে পাঠাইতে হয়। নিয়মিত উহা না পাঠাইলে সত্ ও দক্ষ অফিসার অসত্ ও অদক্ষ বলিয়া চিহ্নিত হইয়া যান। অভিযোগ রহিয়াছে যে, টাকা ছাড়া এই বিভাগে প্রমোশন, পোস্টিং কেনো কিছুই হয় না। অন্যদিকে আছে রাজনৈতিক দলীয় প্রভাব ও ইহার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের উঁচু স্তরের নেতারা তো আছেনই, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের পর্যন্ত নাকি সমীহ করিয়া চলিতে হয়। তাহারা নাখোশ হইলে বদলি হইয়া যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়। সামগ্রিকভাবে দলীয়করণ সে-ও আছে। নিয়োগ, বদলী, পোস্টিং, পদোন্নতি সর্বক্ষেত্রেই প্রাধান্য পাইয়া থাকে দলীয় বিবেচনা। ক্ষমতাসীন দলের কর্মী বা সমর্থক না হইলে হালে পানি পাওয়া কঠিন। উল্টা ওএসডি হওয়া কিংবা সুবিধাজনক স্থানে বদলি হইয়া যাইবার সমূহ আশংকা দেখা দেয়। কেবল এই সরকারের আমলে নহে, সব সরকারের আমলেই এইরূপ চলিয়া আসিয়াছে। এমতাবস্থায় পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার কী মূল্য থাকিতে পারে!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন