পেশাদার লিগে চারবারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। এবারের মৌসুমে একটি শিরোপাও জিততে পারেনি বলে আগামীকাল শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া সুপার কাপ ঘরে তুলতে বদ্ধপরিকর ক্লাবটির অধিনায়ক, কোচ ও ম্যানেজার। এর মধ্যে অধিনায়ক ওয়ালি ফয়সাল জানান, মৌসুমের তিনটি শিরোপাই হাতছাড়া হওয়ায় এখন তাদের লক্ষ্য হলো সুপার কাপ নিশ্চিত করা।
সুপার কাপের ‘এ’ গ্রুপে আবাহনীকে লড়তে হবে ‘ট্রেবল’ জয়ী শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ও সকার ক্লাব, ফেনী।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে টুর্নামেন্ট পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবটির অধিনায়ক ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘এই মৌসুমটা আবাহনীর জন্য খুবই হতাশাময়। আবাহনীর ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমার আবাহনীতে ১০ বছরের ক্যারিয়ারে কখনোই শিরোপা ছাড়া দেখিনি। এটা আবাহনীর জন্য খুব বাজে সময় যাচ্ছে। কিছু দিন আগে নেপালে প্রেসিডেন্ট কাপে স্থানীয় খেলোয়াড়রা মোটামুটি ভালো খেলেছে। এবার সুপার কাপে আমাদের খেলোয়াড়রা যদি শতভাগ খেলতে পারে, তাহলে আমরা মৌসুমের শেষ শিরোপা ঘরে তুলে কলঙ্ক মুছতে চাই।’
আগের দুটি আসরে সুপার কাপ কোটি টাকার হলেও এবার তা নেমে এসেছে লাখ টাকার টুর্নামেন্টে। এটি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কোন পরিবর্তন আনবে কিনা জানতে চাইলে আকাশী নীল জার্সিধারীদের অধিনায়ক বলেন, ‘মূলত কোটি টাকার প্রশ্ন নয়, এখানে আবাহনীর সম্মান নিয়ে বড় কথা। আমাদের আগে শিরোপা জিততে হবে। তিনটি শিরোপা আমাদের হাত থেকে ছিটকে গেছে। এখন মূল টার্গেট হলো সুপার কাপ শিরোপা নিশ্চিত করা।’
কোচ অমলেশ সেন বলেন, ‘আমরা ২২ মে থেকে সুপার কাপের জন্য তৈরি হয়েছি। নেপালে প্রেসিডেন্ট কাপে আমাদের খেলোয়াড়রা তেমন একটা ভালো করতে পারেনি। আমরা লিগ থেকেও ছয় জন খেলোয়াড়কে আহত অবস্থায় পেয়েছি। এবার তারা পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে নামছে।’ শিরোপাহীন মৌসুমকে হতাশাজনক বলে মনে করেন আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিত্ দাস রুপু। তিনি বলেন, ‘আমরা তেমন একটা ভালো সময় অতিক্রম করিনি। চলতি মৌসুমে একটি শিরোপাও পাইনি। আমরা মনে করেছিলাম যে, এ মৌসুমটা শূন্য হাতে আমাদের পার করতে হবে। পরবর্তীতে যখন দেখলাম সুপার কাপ হচ্ছে, তখন আমরা আশ্বস্ত হলাম। এবার সুপার কাপে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে এসেছি।’
পেশাদার লিগে আকাশী-নীলের আক্রমণ ভাগে নির্ভরতা ছিল বিদেশি খেলোয়াড়দের উপর। কিন্তু তৃতীয় সুপার কাপে বিদেশিরা নেই বলে স্থানীয় খেলোয়াড়রাই সব। এ জন্য ক্লাবটি তাদের অনূর্ধ্ব-১৬ দল থেকে নিয়েছে ইমন, দিদার, মিঠু এবং নাইম শেখকে।
মুক্তিযোদ্ধার টার্গেট শেষ চার
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কাছে সুপার কাপের সেমিফাইনালে ওঠাই হলো লক্ষ্য। আর একবার শেষ চারে উঠতে পারলে ফাইনালে যাওয়াও সম্ভব বলে মনে করেন দলটির কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। গতকাল বাফুফে ভবনে কোচ মানিক লক্ষ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে এ অভিপ্রায় জানান। এ সময় তার সাথে ছিলেন অধিনায়ক জহিরুল হক।
সুপার কাপের উদ্বোধনী দিনেই আবাহনীর মুখোমুখি হবে মুক্তিযোদ্ধা। আসন্ন লড়াইয়ের প্রাক্কালে দলটিকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে পেশাদার লিগে দুদলের খেলায় একটিতে গোলশূন্য ড্র এবং ফিরতি পর্বে ৪-১ ব্যবধানের জয়।
কোচ মানিক তার বক্তব্যে বলেন, ‘সুপার কাপ আমাদের ফুটবলের ও ক্লাবগুলোর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কেননা এর থেকে ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে উপকৃত হয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ শেষ মুহূর্তে সুপার কাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তের জন্য’। আমাদের প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে, এখন খেলোয়াড়রা মাঠে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারলেই হয়’।
প্রস্তুতির জন্য আরো এক সপ্তাহ সময় পেলে আরো ভালো হত বলে মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের এই কোচ। তিনি বলেন, ‘লিগে আমাদের অবস্থান ভালো ছিলো না। দুটি টুর্নামেন্টে আমরা সেমিফাইনালে গিয়ে ভালো খেলে হেরেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যের সহায়তা প্রয়োজন জয়ের জন্য। আমি মনে করি, আবাহনী কিংবা মোহামেডান নয়, সুপার কাপের তৃতীয় আসরে তৃতীয় দল হিসাবে চ্যাম্পিয়ন হবে অন্য কেউ।’
জাতীয় দলের সাবেক কোচ মানিক আরো বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কাগজে-কলমে সেরা দল নয়। নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে মুক্তিযোদ্ধা দল। প্রবীণদের মধ্যে কাঞ্চন, বিদ্যুত্, ফয়সাল, প্রদীপ, জিয়া রয়েছে। এছাড়া নবীনদের মধ্যে আছে জুয়েল, স্যামন, বিপ্লবরা। এরা সবাই যদি একটা ইউনিট হয়ে খেলতে পারে ভালো রেজাল্ট আমাদের পক্ষেই আসবে। তারপরও আমি বলবো ভাগ্য যে দলেরই পক্ষে থাকবে তাদের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।’
মুক্তিযোদ্ধার অধিনায়ক জহিরুল হক বলেন, ‘কোচ আমাদের যেভাবে প্রস্তুতি করিয়েছেন, সেভাবে খেলতে পারলে সেমিফাইনাল সম্ভব।’
