দেশীয় ফুটবলারদের সুপার কাপ শুরু আজ

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২২:০৭
গেল শতাব্দীর আশির দশকের গোড়ার দিকে ১৯৮৯ সালে বহু বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ঢাকার মাঠ থেকে বিদেশি ফুটবলার উঠিয়ে দেয়া হলো। বন্ধ হয়ে গেল অতিথি ফুটবলারদের জন্য এদেশের দরজা। তল্পিতল্পা গুছিয়ে বিদায় নিলেন বিদেশি ফুটবলাররা। জার্সি খুলে কোচ হয়ে মাঠে এসেছিলেন শ্রীলংকান ফুটবলার পাকির আলী। সেটা পরের বিষয়। বিদেশি ফুটবলারদের জন্য ঢাকার ফুটবল নিষিদ্ধ করার কারণ ছিল এখানকার ফুটবলকে উন্নত করা এবং স্থানীয়দের জায়গা বড় করা। কারণ ফুটবল সমালোচকরা বলছিলেন, বিদেশি ফুটবলারদের আগ্রাসনের কারণে জায়গা পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারছে না আন্তর্জাতিক ফুটবলে। দুর্নাম গায়ে মেখে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু বিদেশিদের জন্য আগল বন্ধ করেও খুব একটা লাভ হয়নি তখনকার ফুটবলে। বিদেশি খেলোয়াড় বন্ধে তখনকার কারণটা যাই হোক না কেন, আজ শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া সুপার কাপ ফুটবলে বিদেশি ফুটবলার বন্ধের সোজা-সাপ্টা কারণ হচ্ছে আগামি সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ। সেপ্টেম্বরে নেপালে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশের লক্ষ্য শিরোপা জয় করা। সুপার কাপ দেখে খেলোয়াড় বাছাই করবেন ডাচ কোচ........। স্থানীয় ফুটবলাররা যেন জায়গা করে নিতে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে সুযোগ নিতে পারেন এজন্য সুপার কাপে বিদেশিদের রাখা হয়নি। গ্রামীণফোন সুপার কাপ ফুটবলের তৃতীয় আসরটি শুধু নিজেদের জন্য একটি টুর্নামেন্ট। শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, টুর্নামেন্টের আট কোচের মধ্যেও লড়াই হবে এবার। কারণ সবগুলো ক্লাবের দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় কোচরা। কোন্ কোচের রণকৌশল সফল হয়, তারও একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে এবার। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য এক কোটি টাকা ঘোষণা দিয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন ২০০৯ সালে সুপার কাপের প্রথম আসরটি মাঠে গড়িয়ে দিয়েছিলেন। উদ্বোধনী আসরটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। ২০১১ সালে দ্বিতীয় আসরে আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হয়। এবার তৃতীয় আসরে এক কোটি টাকা পাচ্ছে না চ্যাম্পিয়ন দল। তাদের দেয়া হবে ৫০ লাখ টাকা। রানার্সআপ পাবে ২০ লাখ টাকা। পুরস্কারের অর্থ কমিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতির বক্তব্য—‘সার্বিক বিবেচনায় পুরস্কারের টাকা কমেনি। বরং আরো বেড়েছে। কেননা চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ ছাড়াও বাকি ছয় দলে পাচ্ছে ১৫ লাখ টাকা করে। তিনি বলেন, চ্যাম্পিয়ন দলকে এক কোটি টাকা দিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে যে পরিমাণ অর্থ লাগতো এবার তার চেয়েও বেশি ব্যয় হবে।’ পুরস্কারের চাইতেও ক্লাবগুলোর কাছে মর্যাদার আসর এটি। এবার পুরো মৌসুম শিরোপা শূন্য থাকা সুপার কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী চায় ঘর আলো করতে। একটা শিরোপা ঘরে তুলে হাহাকার মেটাতে চায় দলটি। নীল হলুদ সমর্থকদের একটা উপহার দিতে চায় লিগে তৃতীয় স্থান পাওয়া আবাহনী। টুর্নামেন্টের বর্তমান রানার্সআপ মোহামেডান এবার লিগে পাঁচ নম্বর স্থান পেয়েছে। সাদাকালো দলটি সুপার কাপ ফাইনালে উঠে সমর্থকদের স্বস্তি দিতে চায়। লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেল এ মৌসুমের সবকটি প্রতিযোগিতায় জিতে ‘ট্রেবল’ এর কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তাদের সামনে এখন রেকর্ড গড়ার হাতছানি। এক মৌসুমে চারটি শিরোপা জয় করলে তা হবে বিরল ঘটনা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামছে লিগ রানার্সআপ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। বিজেএমসি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চায় আগে সেমিফাইনালে উঠা নিশ্চিত করা। আট দল দুই গ্রুপে লড়াই করছে। ‘এ’ গ্রুপে শেখ রাসেল, আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধা, সকার ক্লাব। ‘বি’ গ্রুপে শেখ জামাল, বিজেএমসি, মোহামেডান, ব্রাদার্স ইউনিয়ন। আগামীকাল সন্ধ্যায় মোহামেডানের প্রথম ম্যাচ বিজেএমসির বিরুদ্ধে। প্রতিদিন বিকাল পাঁচটা ও সন্ধ্যা সাতটায় খেলা শুরু হবে।