বেলা তখন একটা কি দেড়টা। ক্রিকেট একাডেমির ইনডোরে ব্যাটিং করছিলেন শাহরিয়ার নাফিস। হাতে ব্যাট না থাকলে বোঝাই কঠিন হত যে, এই স্ফীত হয়ে ওঠা মানুষটি আসলেই শাহরিয়ার নাফিস! গুনে গুনে ছয় কেজি ওজন বেড়ে গেছে তার।
তবে এই ওজন বেড়ে যাওয়া, ফিটনেস হারিয়ে ফেলাটা নাফিসের একার সমস্যা নয়। গোটা বাংলাদেশ দলই ভুগছে ফিটনেস সমস্যায়। আর এই ফিটনেসই ট্রেইনার স্টুয়ার্ট কার্পিনেনের দুশ্চিন্তার কারণ। জাতীয় দলের প্রথম দিনের ক্যাম্পের পর ফিটনেস নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা সরাসরিই বললেন অস্ট্রেলিয়ান এই ট্রেইনার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে কোচ শেন জার্গুনসেনের অধীনে শুরু হয়েছে ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, আব্দুর রাজ্জাক, শাহাদাত হোসেন ছাড়া বাকিরা সবাই ছিলেন ক্যাম্পে।
স্পট ফিক্সিং বিতর্কে এই মুহূর্তে অনেকটা এলোমেলো বাংলাদেশ ক্রিকেটে। তারপরেও সব ছাপিয়ে কন্ডিশনিং ক্যাম্প অনেকটা ক্রিকেটারদের পুনর্মিলনীতে রূপ নিলো। প্রায় দু’ঘণ্টার মতো চললো প্রথমদিনের ট্রেনিং। সব কিছুর উদ্দেশ্য একটাই, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঠিক রাখা।
কিন্তু ট্রেনিংয়ের পর খুব একটা আশার বানী শোনাতে পারলেন না কার্পিনেন, ‘খেলোয়াড়দের ফিটনেস খুবই হতাশাজনক। আলাদা ভাবে কারও কথা বলবো না, কিন্তু প্রায় সবাই ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন। অনেকদিন তারা খেলার মধ্যে ছিল না। নিজেদের ফিটনেসের দিকেও তারা খেয়াল রাখেননি। তাই আমাদের মূল দুশ্চিন্তার বিষয় এখন ফিটনেস।’
তবে সমস্যা হল ফিটনেস নিয়ে কাজ করার যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন না অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই কন্ডিশনিং কোচ। সামনের মাস থেকে প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট শুরু হবার কথা আছে। আর এর মধ্যেই ইংল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ ‘এ’ আর অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সব মিলিয়ে তাই ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় নেই ট্রেইনারের সাথে।
সীমাবদ্ধতার কথা তিনি নিজেই স্বীকার করলেন কার্পিনেন, ‘কিছুদিন পরেই ঘরোয়া লিগ শুরু হবে। কয়েকটি দল বাইরে সফরে যাবে। তাই দীর্ঘমেয়াদে আমি খেলোয়াড়দের পাচ্ছি না। কিছুটা ঘাটতি তাই থাকবেই।’
এই ঘাটতির মধ্যে কার্পিনেন উচ্ছ্বসিত শুধু তার নতুন সব প্রযুক্তি নিয়ে। ফিটনেস ট্রেনিংয়ে নতুন প্রযুক্তি আসায় সেটা দলের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলেই মনে করছেন কার্পিনেন, ‘নতুন প্রযুক্তির সহায়তা পাওয়ায় আমাদের জন্য বেশ ভাল হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স এবং তার শক্তিমত্তা সম্পর্ক ধারণা পাবো। বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তি বেশ সহায়ক।’
কোন খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে আলাদা করে কাজ করছেন কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে ট্রেইনার কার্পিনেন বলেন, ‘না, কাউকে নিয়ে আলাদা করে ভাবছি না। আসলে আমি কোনো খেলোয়াড়কে নাম দিয়ে চিহ্নিত করি না। আমার নোটবুকে সবাইকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা আছে। এই সবার ফিটনেস লেভেল বাড়ানোই আমার লক্ষ্য। তাই কাউকে আলাদা করে চিহ্নিত করে দিতে চাই না।’
ব্যাটসম্যানদের ফিটনেস ট্রেনিং আগে শেষ হয়ে গেলেও বোলারদের নিয়ে আরও কিছুক্ষণ কাজ করেন কার্পিনেন। সেই দলে ছিলেন মাশরাফি, রবিউল, সাজিদ, শফিউল, জিয়া ও রুবেল। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘দলের অন্যান্য খেলোয়াড়ের থেকে ফাস্ট বোলারদের ফিটনেস ধরে রাখাটা বেশি জরুরি। তাই তাদের তো বাড়তি সময় দিতেই হবে।’
