শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২১:৪৬
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয় একটি দেশের উন্নয়ন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করার একমাত্র উপায় হলো দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতি বজায় থাকা বিশেষ জরুরি। এই জরুরি উপাদানটি বজায় রাখার একমাত্র প্রেক্ষাপট হলো দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকা এবং একটি নির্ধারিত সময়ের মেয়াদে দেশ পরিচালনার জন্য গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার বদলের ধারাকে বজায় রাখা। নির্ধারিত মেয়াদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফলেই কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরবর্তী সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের আইনানুগ প্রথা ও বিধি-বিধান সংবিধানে উল্লেখ করা হয়ে থাকে এবং এই শর্তে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা পালাবদল ঘটে থাকে। সর্বসম্মতিক্রমে সকল দল ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী সংবিধানের ধারাসমূহের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমেই কেবল সরকার পরিচালনা ও দেশ শাসনে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে। যে সমস্ত দেশে গণতান্ত্রিক ধারা চর্চার অনুরূপ ব্যবস্থা নেই সেই সমস্ত দেশে সহিষ্ণু প্রথাই ক্ষমতা হস্তান্তর হতে দেখা যায়। যার ফলশ্রুতিতে দেশে বিধ্বস্ত কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে এবং প্রাণহানির দৃশ্য দেখা যায়। ঐ সমস্ত দেশে সহিষ্ণু পরিমন্ডলে অনুরূপ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও স্থিতি বহাল মোটেও সম্ভব নয়। যে কারণে দেশ শাসনের পূর্বশর্ত হিসাবে গণতান্ত্রিক ধারা বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত এবং এই গণতান্ত্রিক ধারা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে এবং এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা সম্ভব অন্যথায় নয়। এর জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরমতসহিষ্ণুতা। মো. আবুবক্কর সিদ্দীক এম বি এ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী আমাদের অর্থনীতি এখন তাকিয়ে আছে নির্বাচন পদ্ধতির দিকেই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রয়োজন। আর বর্তমানে এটার জন্যেই চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল, আন্দোলন সংগ্রাম। দেশটা যেহেতু আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির নয়, তাহলে জনগণকে বোকা বানানোও তাদের উচিত হবে না। জনগণকে বোকা বানানো যদি সরকারের উদ্দেশ্য না হয় তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে সংলাপের জন্যে স্পষ্টভাবে দিন, ক্ষণ ঠিক করে কেন বিরোধীদলকে চিঠি দেয়া হয় না? যদি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা সরকারের থাকে তাহলে সংলাপের জন্যে দেরি কেন? উভয় দলেরই কি আরও লাশ বা ধ্বংস দরকার? কারণ এদের একজনের প্রতি অন্যজনের আস্থা শূন্যের কোঠায়। তাই অবশেষে আমরা এদেশের রাজনীতিবিদদের কাছে আশা করবো অর্থনৈতিক মন্থরগতির লোকাল ট্রেনকে অচিরেই আন্তঃনগর ট্রেনে রূপদান করবেন। কামাল হোসেন শেষ বর্ষ কুমিল্লা আইন কলেজ রাজনৈতিক ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তরই পারে অর্থনীতির ভিতকে দৃঢ় করতে বিশ্বে গণতন্ত্রই একমাত্র শ্রেষ্ঠ শাসন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আমরা গণতন্ত্রের সুফল পাচ্ছি না। ক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই যেহেতু রাজনীতির পথচলা, আর সেই ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতাকে মুষ্টিবদ্ধ করতে আমাদের স্বল্পআয়ের অর্থনীতির উপর চালানো হচ্ছে স্টিম রোলার। কিন্তু আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা জানেন না যে, দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে গেলে ক্ষমতার কোন অস্তিত্বই থাকবে না। তবুও তারা এই আসন্ন অচল অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনা করছে না। তারা বুঝেও বুঝছে না যে, দেশে একমুহূর্তে কর্মবিরতি দেয়া হলে অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। তাদের তো দেশের দরিদ্র কৃষক, শ্রমিকদের প্রতি কোন দরদ নেই। তারা চায় শুধুই ক্ষমতা। তাই আমি এই লেখার মাধ্যমে এতটুকু বলতে চাই, রাজনৈতিক ক্ষমতাকে শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করে আগামীতে আর কোন হরতাল, অবরোধ না করে দেশের স্বল্পআয়ের অর্থনীতির ভিতকে দৃঢ় করুন। পলাশ সাহা বিবিএ অনার্স, ২য় বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল ক্ষমতা অবশ্যই যোগ্য নেতার হাতেই তুলে দিতে হবে আমাদের দেশের দলগুলো ক্ষমতায় গেলে, বিদেশিদের ভাবমূর্তি, সে দেশের কৃষ্টি, কালচার, অনুকরণ করে দেশ পরিচালনা করে। আর বলে, আমরা অন্যদেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি। কিন্তু আমরা তো ভাল করে জানিই, তাদের চেয়ে কতটা পিছিয়ে আছি। শুধু, মাল্টিমিডিয়া আর ইলেকট্রনিক্স যান্ত্রিক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করে, আমরা কি করে বলতে পারি, আমরা বিদেশিদের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্ব উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমাদের দেশের নির্বাচন ও ক্ষমতার রদবদল, বিদেশিদের মতো হয় না। তাহলে অল্প কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন করে, কেনইবা আমরা গলা উঁচিয়ে বলি দেশের উন্নয়ন করছি। দেশ পরিচালনার প্রধান একটি মাধ্যম হলো গণতন্ত্রের মাধ্যমে যোগ্য নেতার কাছে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর করা। দেশে যা শুরু হয়েছে, তাতে কীভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে, সেটাই এখন প্রশ্ন। ক্ষমতা হস্তান্তর ও পরিচালনা দুটোই যদি শান্তিপূর্ণভাবে হয়, তবেই হলফ্ করে বলা যেতে পারে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অবশ্যই হবে। ছোট্ট একটা থালার মতো বাংলাদেশ। ইচ্ছে করলে ছোট্ট থালাটিকে (বাংলাদেশ) মনের মতো সাজানো যায়। আর তারাই একমাত্র সাজাতে পারে, যাদের হাতে থাকে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। তত্ত্বাবধায়ক আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেভাবেই নির্বাচন হোক না কেন, সে নির্বাচন যেন স্বচ্ছ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের ভার ও দেশ পরিচালনার মহান দায়িত্ব যেন তাদের হাতেই গড়ে, যারা অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশকে নিয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আর সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন বাংলাকে যেন সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। নতুবা অধরাই থেকে যাবে অর্থনীতির উন্নয়নকামী বাংলাদেশটি। মো. নূরুল ইসলাম বি.এস.সি ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ধানমন্ডি, ঢাকা