সাদা পোশাকের অপেক্ষায় মাশরাফি

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২১:৫৫
দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট থেকে দূরে আছেন প্রায় চার বছর ধরে। কিংসটাউন টেস্টে পায়ে ব্যথা পেয়ে সেই যে মাঠ ছেড়েছেন; এরপর আর বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলা হয়নি মাশরাফি বিন মুর্তজার। চোট-ব্যথায় টেস্ট থেকে অবসরেরও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। পায়ে সফল অস্ত্রোপচারের পর বেশকিছু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। মাঝে আবার চোট পেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই বেশ দূরে ছিলেন। অবশেষে আবার ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন। আবার নিজেকে তৈরি করছেন। তবে এবার সময় এসেছে আবার সাদা পোশাকে মাঠ মাতানোর। দলেরই স্বার্থে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার অপেক্ষা, আবার মাশরাফির টেস্ট খেলতে নামার। সামনেই ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মাশরাফিও আশা করছেন এই সিরিজেই আবার টেস্ট মাঠে নামতে পারবেন তিনি। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিটনেস ট্রেনিং করতে এসে ইচ্ছাটার কথাই বললেন তিনি, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য আরো তিন মাস বাকি। আমার জন্য এটা একটা ভালো সুযোগ। লম্বা সময় পাওয়া গেল। ফিটনেস লেবেল অবশ্যই ভালো হবে। আপাতত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। একটু কষ্ট হবে হয়তো টেস্টে ফিরতে; তবে সবার ভালোর জন্যই সেটা করতে হবে।’ পায়ে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় ধরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ছিলেন মাশরাফি। মাঠের বাইরে থাকলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন করেছেন। মাঠের বাইরে থেকেই দেখেছেন জাতীয় দলের পেস আক্রমণের করুণ দশা। এমনকি ফিটনেস পরিচর্যার অভাবে পেসারদের ইনজুরির ধাক্কাটাও তিনি দেখেছেন। জাতীয় দলের পেসাররা ফিটনেসের উপর বাড়তি নজর দেন না বলেই হরহামেশা ইনজুরিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ আছে। শফিউল ইসলাম, নাজমুল হোসেন, রুবেল হোসেনদের ইনজুরি বড় একটা প্রমাণ। নাজমুল সমপ্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ডেভিড ইয়ংয়ের কাছে অস্ত্রোপচার করিয়ে ঢাকায় এসেছেন। শফিউল এখনো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। জাতীয় দলের পেসারদের যখন এই অবস্থা তখন মাঠে ফেরাটাও মাশরাফির জন্য জরুরি। এই উপলব্ধি থেকেই পুরোপুরি সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন এই পেসার। ফিটনেস লেবেলটা উন্নতি করতে হলে প্রয়োজন ভিন্ন কিছু ট্রেনিং। হোম সিরিজের চার মাস আগে শুরু হওয়া এই ট্রেনিংয়েও ভিন্নতা পেলেন মাশরাফি, ‘কিছু কিছু নতুন ব্যাপার থাকে। যেমন ড্রপ এবং জাম্প এগুলো আমার কাছে নতুন মনে হচ্ছে। যারা এই ট্রেনিং করাচ্ছেন তারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন কতটা উপকার হবে। আপাতত সবার ফিটনেস লেবেলটা দেখবে। এরপর কিছুদিন অনুশীলন করতে হবে। এরপর আবার ফিটনেস ট্রেনিং করতে হবে।’ ১ জুলাই থেকে প্রিমিয়ার ক্রিকেট শুরু হলে এই ফিটনেস ট্রেনিং তো থাকবে না। সেক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড সিরিজের চার মাস আগে এই ট্রেনিং করানোর সুফল কি পাবে খেলোয়াড়রা? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি, ‘লিগের ভেতরেও অনুশীলন চলবে। যেদিন যার খেলা থাকবে সেদিন খেলে আসবে। বাকি সময়টা ফিটনেস নিয়ে কাজ হবে। সবকিছুই হবে নিয়মমাফিক। আমার মনে হয় সবার জন্যই ভালো হবে। পাঁচদিনের ফিটনেস ট্রেনিং শেষে ব্যাট-বলের কিছু অনুশীলন করাবেন কোচ। ২৮ জনের এই স্কোয়াড থেকে তৈরি করা হবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। যে দলটি জুলাইয়ের শেষদিকে সফর করবে ইংল্যান্ড।