তারপরও ‘ভারত-পাকিস্তান’ লড়াই

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২১:৫৬
একটি দল এর মধ্যেই পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে; আরেকটি দল দুটি ম্যাচই হেরে বাদ পড়েছে প্রথম পর্ব থেকেই। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’র ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি তাই খালি চোখে অর্থহীন একটি লড়াই। তবে, লড়াইটি যখন ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে তখন আগের ম্যাচটি সত্যিকার অর্থেই ম্যাচের সাথে আরও অনেক কিছু। আজ বার্মিংহামে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দশম ম্যাচে তাই সব ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে উঠছে ভারত পাকিস্তানের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ‘ম্যাচে কে জিতলো আর কে হারলো?’- শুধু এই কৌতূহল নিয়ে যারা ম্যাচটি দেখতে বসবেন তাদের জন্য হয়তো ম্যাচটি খুব বেশি জমজমাট হবে না। কারণ, ম্যাচের ফলাফল আর যাই হোক না কেন সেটা টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণে কোন প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু ভারত পাকিস্তানের লড়াই আসলে সাধারণ একটা ক্রিকেট ম্যাচ থেকেও অনেক বড় এক ব্যাপার। নিজেদের গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাই ‘অর্থহীন’ হলেও ভারত-পাকিস্তানের লড়াই বলেই ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ সেটা হয়ে উঠছে অর্থবহ। এই বছরের এপ্রিল মাসে অনলাইনে চলে আসে ভারত-পাকিস্তানের এই ম্যাচটির টিকেট। সবগুলো অনলাইন টিকেট ফুরিয়ে যেতে সময় লেগেছে মাত্র ত্রিশ মিনিট। ভাবা যায়! কিন্তু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলে কথা। ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচ শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্টে সীমাবদ্ধ না। লন্ডনের পর বার্মিংহামই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জনবহুল শহর। আর ভারত উপমহাদেশীয় অঞ্চলের অনেকেই এখানে প্রবাসী জীবন কাটান। আজ তারা স্পষ্ট দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এজবাস্টন স্টেডিয়ামের ২৫ হাজার দর্শকের প্রায় নব্বই ভাগই হবে ভারত কিংবা পাকিস্তানের সমর্থক। দুভাগে বিভক্ত সমর্থকরা মাঠের লড়াইয়ে তাকিয়ে থাকবেন দুই ক্রিকেট পরাশক্তির দিকে। ভারত নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হেসে খেলে হারিয়ে নিজেদের সেমিফাইনালের পথ নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান বাজেভাবে হেরেছে এই দুটি দলের সাথেই। স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। তারপরও ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই হাজার এগিয়ে থেকেও নিজেদের জয়ী বলে দাবি করার মতো দল বিশ্বক্রিকেটে একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাস বিবেচনা করলে ভারতের বিপক্ষে এগিয়ে থাকবে এই আসরের প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র ১৭০ ও ১৬৭ রানে অল আউট হওয়া পাকিস্তানই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি ভারত। সেই ২০০৪ সালে এই এজবাস্টনেই মোহাম্মদ ইউসুফের ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে ভারতের বিপক্ষে তিনি উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেঞ্চরিয়নের সুপারস্পোর্টস পার্কে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পাকিস্তান। ৫৪ রানে জয় পাওয়া সেই ম্যাচে সোয়েব মালিকের ১২৮ রানের (১২৬ বল) ইনিংস আর দুটি রান আউটেই (৫৭ রান করা গৌতম গম্ভীর ও ৭৬ রান করা রাহুল দ্রাবিড়) কপাল পুড়ে ভারতের। এবার ভারতের সামনে সুযোগ থাকছে পাকিস্তানকে একটি পরাজয় ফিরিয়ে দেয়ার। এই ম্যাচ জিতলেই ‘বি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই কার্ডিফের সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সাথে লড়াই চলবে পাকিস্তানি বোলারদের। বিরাট কোহলি, দিনেশ কার্তিক, রোহিত শর্মাদের জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছেন মোহাম্মদ ইরফান, জুনায়েদ খান, সাঈদ আজমলরা। গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের বৃষ্টির লুকোচুরি খেলায় এজবাস্টনের মাঠে বড় রানের স্কোর না হবার সম্ভাবনাই বেশি। আর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচসহ এই সফরের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই তিনশ ছাড়ানো স্কোর গড়েছে ভারত। তাদের জন্য ম্যাচটি তাই অন্যরকম এক চ্যালেঞ্জ। টসের দিকে চোখ রাখতেই হচ্ছে; কারণ যে দল পরে ব্যাট করবে পরিবেশগত সুবিধাটা তারাই বেশি কাজে লাগাতে পারবে। কিন্তু লড়াইটা যখন ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে, তখন মাঠের খেলায় পরিসংখ্যান, আবহাওয়ার মতো ব্যাপারগুলোকে নিয়ে কেউই খুব একটা মাথা ঘামায় না!