বহু বছর ধরেই বৃষ্টি শব্দটি দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাছে কান্নারই নামান্তর ছিল। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গত শনিবারের ম্যাচে এই বৃষ্টিই বাঁচিয়ে দিল তাদের। নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টাই করে শ্রেয়তর নেট রানরেট নিয়ে প্রোটিয়ারা উঠে গেছে সেমিফাইনালে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী দলের অধিনায়ক এ বি ডি ভিলিয়ার্স স্বীকার করে নিলেন, এই ম্যাচে জিততে পারতো যেকোন পক্ষই। তবে ক্রিকেট বিধাতা ছিলেন তাদের পক্ষে। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতি সহমর্মিতাও জানালেন । ভিলিয়ার্স বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচে আমরা পরাজিত দলে থাকতেই অভ্যস্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য আমার খারাপ লাগছে, তবে এটা খেলারই অংশ। আমরা এটা (ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি) সম্পর্কে সচেতন ছিলাম। তবে তারপরও বলতে হচ্ছে ম্যাচটা অনেক কঠিন ছিল।’
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকানরা চাপের মুখে ভেঙ্গে পড়ে; এমন অভিযোগে তাদের নামই হয়ে গিয়েছিল ‘চোকার’। তবে বাঁচা মরার ম্যাচে এবার আর ভেঙ্গে পড়েনি তারা। বৃষ্টির বাঁধায় ক্ষণে ক্ষণে রূপ পাল্টানো ম্যাচের শেষ পর্যন্ত নিজেদের মেজাজ সামলে রেখে ক্রিকেটীয় দক্ষতার পাশাপাশি মানসিকতারও এক চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বলাবাহুল্য সেই পরীক্ষায়ই উের গেছে ভিলিয়ার্সের দল। সতীর্থদের এমন লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা ঝরলো এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘বল ক্রমেই ভারি হয়ে উঠছিল। আমাদের শান্ত থাকতে হতো এবং আমরা তাই ছিলাম। তবে এটা কঠিন ছিল।’
বৃষ্টির সাথে প্রোটিয়াদের শত্রুতার শুরু সেই ১৯৯২ সালে। বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডের কাছে হার মানতে হয় তাদের। এরপরে ’৯৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সেই বিখ্যাত টাই ম্যাচে বৃষ্টির কোন ভূমিকা না থাকলেও ২০০৩ বিশ্বকাপে খলনায়ক আবারো বৃষ্টি! এবার অবশ্য বৃষ্টির সাথে টিম ম্যানেজম্যান্টেরও দায় ছিল। হিসাবে ভুল করার খেসারত দিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। পুরনো ইতিহাস হিসাব করলে এই ম্যাচটাকে হয়তো কাব্যিক বিচারই বলতে হবে।
টাই ম্যাচেও এই দারুণ নাটক সৃষ্টিতে বৃষ্টির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দুই দলের ব্যাটসম্যানদেরও। কলিন ইনগ্রামের হাফ সেঞ্চুরি আর ডেভিড মিলার, ফ্যাফ ডু প্লেসিসদের ঝরো দুটি ইনিংসে নির্ধারিত ৩১ ওভারে প্রোটিয়ারা তোলে ২৩০ রান।
তবে বিশ্ব জুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে নেতৃত্ব দেয়া ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের সামনে এই লক্ষ্যকে অনতিক্রম্য মনে হচ্ছিল না। ক্রিস গেইল, মারলন স্যামুয়েলসদের ব্যাটে চড়ে ভালোই জবাব দিচ্ছিল তারা। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল জিতেই যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরো ওভার খেলতে পারলে হয়তো জিতেও যেতো তারা। কিন্তু বিধাতার উদ্দেশ্যই যে ভিন্ন ছিল এদিন। ইনিংসের ২৬ তম ওভারের শেষেও বৃষ্টি আইনে তিন রানে এগিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজই।
তবে পরের ওভারের প্রথম বলটিতে কাইরন পোলার্ড স্টেইনের হাতে ক্যাচ দিলে বৃষ্টি আইন অনুযায়ী ম্যাচ টাই হয়ে যায়। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেমির টিকেট কাটে দক্ষিণ আফ্রিকাই। গ্রুপ ‘বি’র শীর্ষ দল হিসাবে ভারত এরই মধ্যে শেষ চার নিশ্চিত করেছে।
