[ আ ন্ত র্জা তি ক ]

দিল্লির সিংহাসনে কে বসবেন, রাহুল না মোদী?

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ২২:১৫
বাংলাদেশের চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফল জানার জন্য যখন উন্মুখ হয়ে বাসায় বসে আছি, তখন এক ভারতীয় সাংবাদিক বন্ধু এসে হাজির। বললেন, তোমাদের দেশের অবস্থা কি, আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে তো? বললাম, ‘হামছে না পুছো, পুছো দিল্লিছে’। সাংবাদিক বন্ধু একটু বিস্মিত হয়ে বললেন, তোমাদের খবর দিল্লির কাছে পুছবো কেন? বলেছি, দিল্লিতে বসে তোমরা কখন কি খেলা খেলো, তা তো আমরা জানি না। কেউ কেউ বলেন, তোমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সাপ হয়ে দংশন করো, ওঝা হয়ে ঝাড়ো। বন্ধু এতোক্ষণে আমার রসিকতার মর্ম উপলব্ধি করলেন। বললেন, তোমাদের ঢাকার খবর জানার জন্য যদি দিল্লি, ইসলামাবাদ বা ওয়াশিংটনের দিকে তাকাতে হয়, তাহলে আমাদের দিল্লির খবর জানার জন্য কার বা কাদের দিকে তাকাবো? কিছুমাত্র দ্বিধা না করে বলেছি, তোমরা বড় দেশ, বড় শক্তি আমেরিকার দিকে তাকাও। এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গেই তোমাদের সবচাইতে বেশি গলাগলি। ওয়াশিংটনের ইঙ্গিতেই তোমরা চীনকে ঠেকানোর জন্য জাপানের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছো। বন্ধু স্বীকার করলেন, দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধে আমেরিকা চায় তার স্বার্থে ভারতকে ব্যবহার করতে। ভারত চায় ওয়াশিংটনের মিত্র হয়ে চীনকে ঠেকিয়ে এশিয়ার সুপার পাওয়ার হতে। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গেতো বটেই, টোকিওর সঙ্গেও দিল্লির এই উষ্ণ সখ্যতা। জাপানেরও এখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়। বন্ধুকে বলেছি, আমাদের দেশের রাজনীতিও এখন অনিশ্চিত। কেউ বলতে পারে না, আগামী সাধারণ নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হলে কোন্ জোট আওয়ামী, না বিএনপি জয়ী হবে? তোমাদের অবস্থাও আমাদের চাইতে ভালো নয়। কংগ্রেস জোটের মনমোহন সরকারকে বিরোধী বিজেপি-জোট দুর্নীতি থেকে অপশাসন ইত্যাদি নানা অভিযোগ তুলে প্রায় কাবু করে রেখেছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনে রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের তুরুপের তাস। কিন্তু উত্তর প্রদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে ইন্দিরা-দৌহিত্র রাহুলের ক্যারিসমা কোনো কাজ দিচ্ছে না। বরং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্রনাথ মোদী, যার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে কয়েক হাজার মুসলমান হত্যার অভিযোগ রয়েছে, বিজেপি তাকে ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রোমোট করছে এবং রাহুলের চাইতে তিনি ভারতের অনেক বেশি যোগ্য প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে অনেকেই অভিমত পোষণ করেন। এটাকে আমরা গোটা উপমহাদেশেরই গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত মনে করি। সাংবাদিক বন্ধু বললেন, দিল্লিতে এখনো কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায়। তারা চাইবে না প্রতিবেশী বাংলাদেশে মৌলবাদী বা সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় আসুক। দিল্লির ভূমিকা সম্পর্কে তোমাদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তার সঙ্গে যে আমি সহমত পোষণ করি না, সে কথা তাকে জানালাম। বলেছি, দিল্লিতে কংগ্রেস এখনো ক্ষমতায় থাকলেও আসল ক্ষমতা কোনো দলের রাজনীতিকদেরই হাতে নেই। ক্ষমতা এখন আমলাতন্ত্র ও বিগ বিজনেসের হাতে। তাদের কাছে প্রতিবেশী দেশের গণতন্ত্র কোনো গুরুত্ব পায় না। পায় ভারতের বাজার স্বার্থ। এই স্বার্থ বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের চাইতে বিএনপি বেশি দেখভাল করবে এটা বুঝতে পারলে দিল্লির নীতি মুহূর্তে পাল্টাতে দেরি হবে না। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও বিজেপি’র পার্থক্য এখন খুব কম। দুই দলই ওয়াশিংটনের প্রেমের জন্য কমবেশি লালায়িত। ভারতের আগামী সাধারণ নির্বাচনে ওয়াশিংটন কোনো এক পক্ষের হয়ে কলকাঠি নাড়বে তা মনে হয় না। আমেরিকা সুপার পাওয়ার হলেও নিজেদের আধিপত্যবাদী স্বার্থ রক্ষার জন্য মুহূর্তে রঙ বদলাতে পারে। তার প্রমাণ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জি বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তত্কালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সকল প্রোটোকল ভেঙে কলকাতায় ছুটে যাওয়া এবং মমতা ব্যানার্জির সাক্ষাত্ প্রার্থী হওয়া। আমেরিকার মতো সুপার পাওয়ারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বড়জোর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যায়েও সম্পর্ক রাখা ও দেখা-সাক্ষাত্ করার কথা। সেক্ষেত্রে দিল্লিকে ডিঙিয়ে কলকাতায় গিয়ে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য হিলারি ক্লিনটনের ধরনা দেয়া বিশ্বের কূটনৈতিক মহলের অনেককেই বিস্মিত করেছিলো। প্রশ্নও উঠেছিল, মমতার কাছে হিলারির ছুটে যাওয়ার উদ্দেশ্যটা কি? এই প্রশ্নের জবাব হিলারি অথবা মমতা কেউ দেননি। মমতা গাল ফুলিয়ে সগর্বে বলেছেন, আমিতো হিলারির সঙ্গে সাক্ষাত্কার চাইনি। তিনিই আমার কাছে ছুটে এসেছিলেন। অর্থাত্ বর্তমান বিশ্বে দুই দেশের মধ্যে কোনো বিশেষ দলের বা ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে আবার দেশের ক্ষমতাসীন সরকার বা বিশেষ দলের সাময়িক সম্পর্ক দ্বারা দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারিত হয় না। নির্ধারিত হয় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ দ্বারা। অতীতে আদর্শের মিল দ্বারাই দুই দেশের দুই সরকারের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠতো তা এখন নেই। আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টির বহু যুগের ট্রাডিশনাল মিত্র ছিল ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টি। দ্বিতীয় গাল্ফ যুদ্ধের সময় দেখা গেল, কনজারভেটিভ পার্টি নয়, ব্রিটেনের লেবার পার্টির গভরমেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়রের সবচাইতে বড় মিত্র। সুতরাং এখন প্রণব মুখার্জি বা মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যতোই উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন, যদি মার্কিন নেতারা বোঝেন ভারতের আগামী সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের আশা কম অথবা কংগ্রেসের বদলে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মার্কিন আধিপত্য ও স্বার্থ বেশি পোষকতা পাবে, তাহলে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকেরা মুহূর্তের মধ্যে তাদের নীতি বদলাবেন, দেরি করবেন না। গুজরাটে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে কয়েক হাজার সংখ্যালঘু মুসলমান হত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত নরেন্দ্রনাথ মোদিকে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন ভিসা দেয়নি। দেখা যাবে তাকেই হয়তো মার্কিন মুল্লুক সফরে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে মার্কিন নীতির সঙ্গে ভারতীয় নীতিরও পার্থক্য নেই। বাজারে যে কথাটি চাউর, তা হলো দিল্লির কংগ্রেস সরকার ও বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। কথাটি কি সঠিক? তাহলে নদী সমস্যা, ছিটমহল হস্তান্তর, সীমান্তে বিএসএফ-এর অব্যাহত বাংলাদেশি হত্যা এবং আরও ছোটখাটো সমস্যার দ্রুত সমাধান হয় না কেন? দিল্লিতে বাংলাদেশের বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিরাট অভ্যর্থনা জানানোর মধ্যে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। কিন্তু জেনারেল এরশাদকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দিল্লিতে নিয়ে রাজকীয় সংবর্ধনা জানানোর নেপথ্যের উদ্দেশ্যটা কি? বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস দল ও সরকারের সহানভূতি আওয়ামী লীগের দিকে থাকবে তা অনুমান করা যায়। কিন্তু যদি দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না এবং বিএনপি’র জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি, তাহলে দিল্লির নীতি নির্ধারকেরা যে নতুনভাবে কলকাঠি নাড়বেন, তাতে কি সন্দেহ আছে? কারণ, কলকাঠি নাড়ার ক্ষমতাতো এখন ভারতেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে নেই, সেই ক্ষমতা আমলাতন্ত্র ও বিগ বিজনেসের হাতে। তারা আগে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের স্বার্থটা বিবেচনা করবেন। ভারতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত নরেন্দ্রনাথ মোদিকেও যে আজ একটি রাজ্যের রাজনীতি থেকে একেবারে কেন্দ্রীয় রাজনীতির বিশাল চত্বরে তুলে আনা হয়েছে এবং ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রোমোট করা হচ্ছে তার পেছনে শুধু বিজেপি’র উদ্যোগ নয়, ভারতের বিগ বিজনেসেরও একটা বড় অংশের কলকাঠি নাড়ানো চলছে। ফলে একশ্রেণির বিগ মিডিয়াতেও চলছে একদিকে রাহুল গান্ধীর ভাবমূর্তি মলিন করা এবং অন্যদিকে নরেন মোদির বিরাট ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা। গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর কাজে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকে খাটো করে দেখিয়ে তাকে রাজ্যের বিশাল উন্নয়ন কাণ্ডের কাণ্ডারি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বিগ বিজনেস ও বিগ মিডিয়ার এই পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রোপাগান্ডার ফলে যদি জনমত সমীক্ষায় দেখা যায়, রাহুল গান্ধীর চাইতে নরেন মোদি এগিয়ে আছেন তা হলে বিস্ময়ের কিছু নেই। এখন ভারতে যে রাজনৈতিক প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে, তা হলো আগামী সাধারণ নির্বাচনের পর দিল্লির সিংহাসনে কে বসতে যাচ্ছেন, রাহুল গান্ধী না নরেন মোদি? ভারতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমার দীর্ঘ বিশ্লেষণ শুনে ভারতীয় সাংবাদিক বন্ধু বললেন, ভারত এবং বাংলাদেশ দুই দেশেই এখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দুই দেশেই সাম্প্রদায়িক শক্তির ক্ষমতা দখলের আশঙ্কা রয়েছে। যদি তা হয়, তাহলে সেটা হবে উপমহাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক বিরাট বিপর্যয়। ভারতের বিগ বিজনেস ও বিগ মিডিয়ার একটি বড় অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে যা-ই ভাবুন, কংগ্রেসসহ গণতান্ত্রিক দলগুলোর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশে অবশ্যই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নির্বাচন-বিজয় কামনা করেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপর্যস্ত হলে সারা উপমহাদেশেই তার একটা প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। অনুরূপভাবে ভারতেও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হলে সারা উপমহাদেশের মহা অকল্যাণ হবে। এজন্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক দলগুলোও নিশ্চয়ই ভারতে কংগ্রেসের নির্বাচন-বিজয় কামনা করেন। তাকে বলেছি, তার অনুমান যথার্থ। বাংলাদেশের প্রতি দিল্লির বর্তমান সরকারের সব আচরণ দু’দেশের মৈত্রী সম্পর্ক জোরদার করার সহায়ক তা আমরা অনেকেই মনে করি না; কিন্তু কংগ্রেসের বদলে বামফ্রন্ট বা অন্য কোনো গণতান্ত্রিক জোট ক্ষমতায় না এসে যদি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) এবং শিবসেনার মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের দ্বারা পরিচালিত বিজেপি এবং “ভারতের গোলাম আজম” নামে চিহ্নিত নরেন্দ্রনাথ মোদি দিল্লিতে ক্ষমতায় বসেন, তাহলে গোটা উপমহাদেশে কি সর্বনাশা বিপর্যয় শুরু হবে, তা কল্পনা করাও যায় না। একই কথা বাংলাদেশ সম্পর্কেও প্রযোজ্য। বর্তমান হাসিনা সরকারের অনেক ত্রুটি- বিচ্যুতি আছে, বড় বড় ব্যর্থতা আছে। কিন্তু এখনো এই সরকার বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির শেষ রক্ষাব্যুহ। এই রক্ষাব্যুহ ভেঙে যদি জামায়াত ও হেফাজতের মুঠোয় বন্দী বিএনপি ঢাকায় ক্ষমতায় আসীন হয়, তাহলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো এই দেশেও যে মধ্যযুগীয় ট্রাজেডি অনুষ্ঠিত হবে তা এখন কল্পনা করাও যায় না। ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দিল্লির কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করেন না। কিন্তু নরেন মোদি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে পারেন, এই সম্ভাবনা সম্পর্কে এই বলে মন্তব্য করেছেন “বর্তমান মনমোহন সরকার যতো দুর্নীতিপরায়ণ হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যর্থ শাসনের যতো অভিযোগ থাক, তবু তারা দেশ ও জনগণের জন্য কোনো বিপদ নন। কিন্তু বিজেপি ও নরেন মোদি ক্ষমতাসীন হলে ভারতের জন্য বিরাট বিপর্যয় দেখা দেবে।” ভারতের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক শিবিরেরও ধারণা, রাহুল গান্ধী বয়সে তরুণ এবং রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও দিল্লিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে তার অধিষ্ঠানই ভারতের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যেক নিরাপত্তা দিতে পারে। একথা বাংলাদেশ সম্পর্কেও সত্য। আগামী সাধারণ নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এবং অসাম্প্রদায়িক মহাজোটের জয়ী হওয়ার উপরেই এই দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত্ নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে যারা “তৃতীয় শক্তির” ধুয়া তুলে গণতান্ত্রিক শিবিরে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছেন, তারা কাদের এজেন্ট অদূর ভবিষ্যতেই তা ধরা পড়বে। লন্ডন ১৫ জুন শনিবার ২০১৩

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন