[ সি টি নি র্বা চ ন ]

চার সিটি কর্পোরেশনে সুষ্ঠু নির্বাচন জয়-পরাজয়ের মূল্যায়ন

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২১:৪০
১৫ জুন দেশের ৪টি বিভাগীয় শহর—তথা সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীগণ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীগণ অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রধান বিরোধীদল এই নির্বাচনকে নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে যেসব গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছিল, আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, কারচুপি, ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ইত্যাদির মতো পুরাতন অভিজ্ঞতা বাস্তবে এর কোনোটিই ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন কমিশনের কাজ যথাযথভাবে করেছে, সরকার কোথাও তেমন কোনো হস্তক্ষেপ করেছে, বাড়াবাড়ি করেছে তেমনটি চোখে পড়েনি। নির্বাচনের আগে সরকারের দেয়া প্রায় সব প্রতিশ্রুতিই সরকার রক্ষা করেছে। তারপরও নির্বাচনের আগে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধীদল ব্যাপকভাবে আশঙ্কা প্রকাশ, আতঙ্ক ছড়ানো থেকে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছে। সে সময় গণমাধ্যমে দুই ধরনের প্রচারণা ছিল। এক. সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের অনুকূল আবহ, দুই. বিরোধীদলের অভিযোগ ও আশঙ্কার খবরাখবর ও প্রচারণা। শেষ পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারো কোনো আশঙ্কাই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। ৪ সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ ভোটারগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন, তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে শোনা যায়নি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী ৪ সিটি কর্পোরেশনেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ছোটখাটো দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ৪ সিটিতেই পরিবেশ ছিল নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনুকূল, উত্সবমুখর এবং প্রচারণামুখর। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটি প্রচার-প্রচারণায় জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব পেয়েছে, ভোটারদের মধ্যেও স্থানীয় সমস্যার চাইতেও জাতীয় রাজনীতির বিষয়াদিই অধিকতর গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে এর জয়-পরাজয়টি অনেকটাই জাতীয় রাজনীতিতে দলীয় বা জোট রাজনীতির অবস্থানে চলে গেছে, বিবেচিত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় বিষয়াদির চাইতে জাতীয় রাজনীতি ভোটারদের কাছে এই নির্বাচনে এতোটা প্রাধান্য পেয়েছে। এর সোজা-সাপ্টা উত্তর হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের অল্প কয়েক মাস আগে এই ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোই নির্বাচনটিকে যার যার দল বা জোটের রাজনীতির আদলে নিয়েছে। বিশেষত বিরোধীদল প্রচার-প্রচারণায় জাতীয় রাজনীতির ইস্যুসমূহকে এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে। সরকারি দলকেও এখন আত্মরক্ষায় মাঠে নামতে হয়েছে। ফলে ৪ সিটিতেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাটি শেষ পর্যন্ত উভয় জোটের প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থানের কারণে জাতীয় রাজনীতির ইস্যুসমূহ মূল চাওয়া-পাওয়ার স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছে। তাতে ভোটারগণও নড়েচড়ে উঠেছে। সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন-অনুন্নয়নের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি প্রচার-প্রচারণায় অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। ৪ সিটিতে উভয় দল বা জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের ভোট প্রার্থনায় অংশ নেয়া, প্রতিশ্রুতি দেয়া, জয়-পরাজয়কে সেভাবে দেখানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে টেনে নিয়ে গেছে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ ও চরিত্রে। ফলে নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক-প্রাথমিক রিহার্সেলে পরিণত হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিরোধীদল তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে, সরকারি দল বা জোট পারেনি বলা চলে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে বিরোধীদল উজ্জীবিত হওয়ার বড় ধরনের সুযোগ পেয়েছে, সরকারি দল বা জোট বেশ হতাশ হয়েছে, অন্য অর্থে বলা চলে সরকারি দল বা জোট তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় ধরনের হতাশার অবস্থানে নিয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে অবশ্য সরকার এবং বিরোধীদলের হিসাব-নিকাশ অনেকটাই অন্যরকম ছিল। সরকারি দলের হিসাব-নিকাশ অনেকটাই ছিল জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো। কেননা, ৪ সিটি কর্পোরেশনেই তাদের প্রার্থীগণ বেশ জনপ্রিয় ছিলেন, তাদের প্রায় সকলেরই ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ছিল ইতিবাচক, ৪ প্রার্থীই ছিলেন সবেমাত্র ছেড়ে আসা মেয়র। ৪ জনেরই কাজকর্মে প্রশংসা সাধারণভাবে প্রচারিত ছিল। মেয়র হিসেবে তাদের বদনাম গণমাধ্যমেও তেমন একটা প্রচারিত হতে শোনা যায়নি বরং বিগত সাড়ে ৪ বছরে তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ শহরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন, এ ব্যাপারে তাদের যথেষ্ট সুনামই বেশি প্রচারিত হয়েছিল। এ ধরনের প্রার্থী নিয়ে যেকোনো দলের আশাবাদী হওয়ারই কথা। সরকারি দল এবং জোটের হিসাব-নিকাশে তোমনটিই ছিল। সে কারণে সরকারি দল অনেকটাই নিশ্চিত ছিলো যে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এমন সব ভাবমূর্তিসম্পন্ন প্রার্থী নিয়ে অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যে তেমন কোনো ঝুঁকি থাকবে না। সমস্যা হবে না—এমনটিতেই নিশ্চিত ছিলো সরকারি দল। অন্যদিকে বিরোধীদল নির্বাচনটিকে নিয়েছিল রাজনৈতিক ইস্যু সৃষ্টির বিবেচনা থেকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয় রাজনীতিতে এ মুহূর্তের আলোচিত ইস্যুসমূহকে সম্মুখে এনে ভোটারদের প্রভাবিত করা, কারচুপির নির্বাচন হিসেবে এর একটি গ্রহণযোগ্যতা দান করার চেষ্টা সফল করা গেলে অচিরেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে, জয়ী হওয়া গেলে যেমন বিরোধীদল লাভবান হবে, পরাজিত হলেও আন্দোলন সংঘটিত করার ক্ষেত্র হিসেবেও ইস্যুটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিরোধীদল এবং জোটের হিসাব-নিকাশ তেমনই ছিল। একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তেমন হিসাব-নিকাশ হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। সেই হিসাব-নিকাশে বিরোধীদল বাস্তববাদী ছিল। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় বিরোধীদল সে ধরনের কৌশল নিয়েই মাঠে নেমেছিল। আগেই বলেছি, মাঠটি এখন রাজনৈতিকভাবে বেশ উত্তপ্ত ছিল। সেটিকে নির্বাচনী প্রচারণায় ৪ সিটি কর্পোরেশনের ভোটারদের আরো উত্তপ্ত করার যতো ধরনের চেষ্টা বিরোধীদল থেকে করার প্রয়োজন ছিল—তারা তা করেছে। ফলে নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছিল পরিস্থিতি ততোই তাদের অনুকূলে চলে গেছে, সরকারি দলের সফল সাবেক মেয়রদের কার্যক্রম বিচার-বিবেচনার জন্য খুব একটা গুরুত্ব পায়নি, সেসব হিসাব-নিকাশ খুব একটা ভোটারদের কাছে আলোচনায় উঠে আসেনি—যতোটা এসেছে জাতীয়ভাবে আলোচিত নানা ইস্যু। তাতে হলমার্ক, পদ্মাসেতু, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ধর্মীয় নানা প্রচার-প্রচারণা, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু, বিরোধীদলের নেতাদের গ্রেফতার, আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের টালবাহানা, দ্রব্যমূল্য ইত্যাদি বিষয়গুলো যে যার মতো করে প্রচারে এনেছে, ভোটারদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে—সাধারণত যা কোনো জাতীয় নির্বাচনকালে ব্যাপকভাবে প্রচারণায় গুরুত্ব পায়—তাই এবার ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধীদল কাজে লাগাতে পেরেছে। এরই প্রভাব পড়েছে ভোটের ফলাফলে। তাতে ৪ সিটিতেই ভোটের অংকে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়েছে। সব কটি সিটিতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বড় ধরনের ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের হারাতে পেরেছেন। এই ফলাফলে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটও বেশ বিস্মিত। কারণ তাদের ধারণা ছিল যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইতে তারা হয়তো ২টি আসন পেতে পারে। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল অনেকটাই হতবাক হয়েছেন। তারা আশা করেছিল যে, বেশিরভাগ আসনেই তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারবেন। কিন্তু ভোটের অংকের হিসেব সরকারি ও বিরোধীদল কারোই শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়নি। গণমাধ্যমগুলোর ধারণাও ঠিক হয়নি, গোয়েন্দাদের দেয়া আগাম তথ্যও ঠিক হয়নি। কোনো হিসাব-নিকাশই আসলে এভাবে খুব একটা কাজে লাগে না। প্রতিবারই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট নতুন বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যে আবির্ভূত হয়, সেই বৈশিষ্ট্য দেশের বাস্তবতায় এবং রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে তৈরি হয়, ভোটের আবেগকে কোন দল কতখানি কজে লাগাতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে তা আগ থেকে অনুমান করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। ভোটারদেরও নানাজনের নানা হিসাব-নিকাশ, বোঝাপড়া, ভালোলাগা না লাগা ইত্যাদি নির্বাচনে এসে জায়গা করে নেয়। তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট যার বাক্সে পড়ে সেই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারে। অন্তত আমাদের মতো দেশে—যেখানে গণতন্ত্র এখনো কেবলি হাঁটি হাঁটি পা পা করছে, রাজনীতির আদর্শগত বিচার-বিশ্লেষণ খুব বেশি হালে পানি পায় না, পেরে ওঠে না। এখানেও তাই ঘটেছে। তাতে কেউ কেউ বিস্মিত এবং হতবাক হয়েছেন, হওয়াটাও স্বাভাবিক। তবে এ ধরনের নজির নতুন নয়, অপ্রত্যাশিতও নয়। অবিশ্বাস্য সবকিছুই আমাদের মতো দেশে ঘটা সম্ভব। গণতন্ত্রের পথে এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই আমাদের যেতে হবে। এর কাটছাঁট পথ বোধ হয় খুব একটা নেই। তবে যে বিষয় দেখার এবং গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার তা কতোখানি দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, রাজনীতি সচেতন নানা মহল নেবে জানি না, তা হচ্ছে সদ্য সমাপ্ত ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আমাদের দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাত্রাপথে নতুন একটি মাইল ফলক স্থাপন করতে পেরেছে। আমাদের নির্বাচন কমিশন সেই অভিযাত্রায় দুর্গম পাহাড়ে ওঠার সক্ষমতা অর্জন করেছে, আমাদের ভোটাররাও ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছে। ভোটারগণ এভাবে ভোট দিতে দিতেই শিখবে কোন ভোটের মূল্য রাজনীতিতে বা গণতন্ত্রে কতটুকু, কিভাবে তা প্রয়োগ করতে হয়, কখন আবেগে ভাসলে শেষ পরিণতি কী হয়—সেই অভিজ্ঞতা অর্জন না করা পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে স্থিরতা আসবে না। এরজন্য জাতিকে অপেক্ষাও করতে হবে, ব্যাপক মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে সরকারি দল এবং জোটকেও রাজনীতির বিষয়গুলোকে আরো গভীর অবস্থান থেকে দেখতে হবে, বুঝতে হবে। এই নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের এভাবে বলি হওয়ার পেছনে আসলে প্রার্থীদের দুর্বলতা কতোটা ছিল, নাকি তারা জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো জনঅসন্তুষ্টিমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন—তা খুঁজে বের করতে হবে। এসবক্ষেত্রে নির্মোহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ একান্তভাবেই জরুরি। জরুরিভাবে দেখতে হবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, গভীরভাবে দেখতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূল বলে খ্যাত দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়াবাড়ি, ছাগলের মতো মূল খেয়ে ফেলার নগ্ন প্রবণতা—যা তৃণমূলে দলকে সাধারণ ভোটারদের এমন রোষানলে পড়তে হয়। বিষয়টি আমাদের দেশে অতীতে ৪ দলীয় জোটও বিচেনায় নেয়নি, ফলে ২০০৮ সালে ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ভোটারগণ একটি সিগনাল দিয়েছিল, ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যাপক ফলাফল হাতেনাতে ৪ দলীয় জোটকে পেতে হয়েছে। সদস্য সমাপ্ত উক্ত ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া ঘটেছে কিনা—তা আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলকে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। মনে রাখতে হবে—গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট, আমলা বা দলের বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর উদ্যোগে পরিচালিত কোনো গোপন রিপোর্ট থেকে ধারণা জাতীয় নির্বাচনে কতোটা বিশ্বাসযোগ্য হবে—জানি না। তবে সত্য যতো নির্মম হোক তা শুনতে ও জানতে পারার মতো মনোবৃত্তি থেকে যদি দক্ষ কোনো মূল্যায়ন রিপোর্ট পাওয়া যায় তাহলে সবকিছু বাস্তবতার নিরিখে দেখা হয়তো সম্ভব হতে পারে, কাজেও লাগতে পারে—যদি তেমন কোনো ইচ্ছা নেতৃত্বের মধ্যে থাকে। সেটি করা গেলে নিকট ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের যে মহাচ্যালেঞ্জ আসছে তাতে আওয়ামী লীগ করণীয় নির্ধারণে হয়তো সফল হতে পারে। সেটি নির্ভর করছে দল ও ১৪ দলীয় জোট কতোটা আবেগ তাড়িত না হয়ে বাস্তবতাবোধে পরিচালিত হয়ে সবকিছু দেখবে, করণীয় নির্ধারণ করবে তার ওপর। তাতে ব্যত্যয় কিছু ঘটলে বর্তমান বার্তাই হয়তো চূড়ান্ত বিপর্যয় হয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্রের রাজনীতি বাংলাদেশে এখনো ভয়াবহ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। লেখক :অধ্যাপক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক [email protected]