ব্রাজিলের নেইমারময় এক জয়

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:০৩
দুনিয়াজুড়ে নেইমারকে ঘিরে ফুটবলামোদীদের যে বিপুল প্রত্যাশা, ব্রাজিল সুপারস্টার গত শনিবার রাতে সেটা জিইয়ে রাখলেন কনফেডারেশন কাপে জাপানের বিরুদ্ধে তৃতীয় মিনিটেই চোখ ধাঁধানো এক গোল করে। খেলার শুরুতেই পাওয়া এই গোলের পর স্বাগতিক ব্রাজিল মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী লড়াইয়ে জাপানকে ৩-০ ব্যবধানে হারায়। ব্রাজিলের পক্ষে অপর দুটি গোল করেন পলিনহো ও জো। নেইমার জাপানের মুখোমুখি হন দৃশ্যতই প্রত্যাশার চাপ ও কিছুটা সমালোচিত হয়েই। আগের নয়টি খেলায় কোন গোল করতে না পারাই এর কারণ। কিন্তু ২১ বছর বয়সী বার্সেলোনাগামী এই সুপারস্টার রাজধানী ব্রাসিলিয়ার জাতীয় স্টেডিয়ামে নেমেই চোখ জুড়ানো গোল উপহার দেন অনুরাগীদের। মার্সেলো মাঝমাঠের বাম পাশ থেকে লং শটে বলটি পেনাল্টি বক্সের বাইরে ফেললে স্ট্রাইকার ফ্রেড চোখের পলকে তা বুকের আয়ত্তে নিয়ে অদূরে দাঁড়ানো নেইমারকে বাড়ান। এরপর নেইমারের বাকি ছিল বলটিকে দুর্দান্ত গতিতে জালের উপরিভাগে জড়িয়ে দেয়া। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের আর মাত্র এক বছর বাকি থাকতে নেইমারের এই সুপারস্টার সুলভ গোল স্টেডিয়ামের ৬৮ হাজার দর্শককে আনন্দে ভাসায়। তারা মিনিট দুয়েক করতালিতে মুখরিত করে রাখেন মাঠ। এরপর পলিনহো ৪৮ মিনিটে দানি আলভেজের ক্রস থেকে বল পেয়ে ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। জাপান গোলরক্ষক এইজি কাওয়াসিমা বলটিতে হাত লাগাতে পারলেও গতির তীব্রতায় তা লক্ষ্য খুঁজে নেয়। গোল করার চাইতেও ডান প্রান্ত থেকে জোরে পাঠানো ক্রসটি আয়ত্তে নিয়ে চকিতে জালে পাঠানো ছিল নজর কাড়া। জো ইনজুরি সময়ে অস্কারের বাড়ানো বল আগুয়ান গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক গলিয়ে বল জালে পাঠালে ব্রাজিলের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। ব্রাজিল জয়টির পর ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে থাকলো। গতকাল রবিবার রাতে গ্রুপের অপর দুই দল মেক্সিকো ও ইতালি মুখোমুখি হয়। জাপানিরা এ নিয়ে ১০ খেলায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হলেও জয় অধরা থাকলো। তাদের সাফল্য বলতে সাকুল্যে দুটি ড্র যা আসে কনফেডারেশন কাপেই, ২০০১ ও ২০০৫ সালে। নেইমার জাপানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে দুই গোল করেছিলেন। অক্টোবরে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে ব্রাজিলকে চার গোলে জেতানোর পর এদিন তো বলতে গেলে ম্যান অব দ্য ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে বিপক্ষ খেলোয়াড়ের ফাউলের কারণে বার্সেলোনার এই খেলোয়াড়টি মিনিট ছয়েক পর মাঠ ছেড়ে আসেন। কনফেডারেশন কাপের ফলটিকে জাপান মিডফিল্ডার কেইসুকে হোনডা ‘সম্পূর্ণ পরাজয়’ হিসেবেই মেনে নেন। আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে সবার আগে নাম লেখানো জাপানের গণমাধ্যমে হারটি সমালোচিত হয়। কিন্তু সিএসকেএ মস্কোর খেলোয়াড়টি সমালোচনা স্বীকার করেও বলেন,‘আমাদেরকে বাস্তবতার আলোকে বুঝতে সামর্থ্যের বিবেচনায় আমরা কোথায়। এখনো আমাদের দুটি খেলা বাকি। তাই আমাদের নিজেদের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে।’ ইন্টার মিলান ডিফেন্ডার ইউটো নাগামোটো দু’দলের মধ্যকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের তফাতে হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,‘দেখুন জাপানের কেউ কি ব্রাজিলের মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট ভাল? উত্তর হলো না, একজনও নয়।’