রাজশাহীর গোদাগাড়ী-কাঁকনহাট সড়কের নবগ্রাম নামক স্থানে নির্মিত ব্রিজটি সাম্প্রতিককালে ভাঙিয়া গিয়াছে। ইত্তেফাকে তাহার সচিত্র খবর প্রকাশিত হইয়াছে গত শনিবার। জানা যায়, এপ্রিল মাসে ব্রিজটির অর্ধেক অংশ এবং গত মে মাসের ১২ তারিখ সম্পূর্ণভাবে ভাঙিয়া পড়ে। ইহার পরই এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসসহ যাবতীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ হইয়া যায়। বাসগুলিকে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করিতে হইতেছে। কিন্তু বর্ষাকালে সেই রাস্তাগুলিও ব্যবহারের অনুপযোগী হইয়া পড়িতেছে। কেননা বরেন্দ্র এলাকার মাটি অল্প বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হইয়া যায়। উল্লেখ্য, গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভাসহ ৪টি ইউনিয়নের লোকজন উপজেলা সদরে আসার জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করিয়া থাকেন।
ব্রিজটি ভাঙিয়া যাওয়ার পর এক মাস গত হইয়াছে। কিন্তু ব্রিজটির পার্শ্বে বিকল্প রাস্তা নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয় নাই। জানুয়ারি মাসে যখন ব্রিজটি ভাঙিয়া যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন গোদাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। এখন ঐ প্রকৌশলী জানাইয়াছেন যে, এই স্থানে নূতন করিয়া ব্রিজ নির্মাণ করা হইবে। এজন্য এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হইয়াছে। মন্ত্রণালয় হইতে সেই প্রস্তাব পাস হইয়া আসিতে ও অর্থ বরাদ্দ করিতে কতদিন লাগিবে তাহা আমরা জানি না। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত জনগণ যে সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্টে নিপতিত হইবেন তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।
বস্তুত এলজিআরডি বা স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রহিয়াছে দেশের বহু রাস্তাঘাট ও ব্রীজ। কিন্তু নির্মাণ হইতে শুরু করিয়া তদারকি ও মেরামতের ক্ষেত্রে রহিয়াছে চরম অবহেলা ও অনিয়মের নজির। নির্মাণের পর ছয় বত্সর পর্যন্ত এই ধরনের সেতু সংরক্ষণের নিয়ম চালু আছে। আগে ইহা ছিল ১২ বত্সর। এভাবে সংরক্ষণে গাফিলতির কারণে এলজিআরডি’র সেতুগুলি অল্প সময়েই নষ্ট হইয়া যাইতেছে। আলোচ্য সেতুটির বেলায়ও সে কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। সেতুটি নির্মাণ করা হয় আশির দশকে। সে হিসাবে ইহার বয়স হইয়া গিয়াছে ত্রিশ বত্সরেরও বেশি। একটি ব্রিজের মেয়াদ অনেক সময় পঞ্চাশ-ষাট এমনকি একশত বত্সরও হইতে পারে। তাহার পরও যদি ব্রিজটিকে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাবে ধরিয়া নেওয়া হয়, তাহা হইলে প্রশ্ন দেখা দিবে যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেন আগে হইতে ব্যবস্থা গ্রহণ করিলেন না। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরও দায়িত্বশীলতার অভাব আছে বৈকি।
নবগ্রামের ন্যায় ভগ্নদশাসম্পন্ন অনেক ব্রিজ ও কালভার্ট রহিয়াছে আমাদের দেশে। এই জীর্ণশীর্ণ বা ভাঙিয়া পড়া ব্রিজের জন্য জনগণের দৈনন্দিন যাতায়াতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার সৃষ্টি হইতেছে। এই বিড়ম্বনা দূর করার জন্য যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহা হইলে দিনে দিনে অনেক দেনা বাড়িয়া যাইবে এবং একদিন জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ গিয়া পড়িবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপর। অতএব, অবিলম্বে এই ধরনের অবহেলিত জনপদের বিপর্যস্ত ব্রিজগুলির প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করিতে হইবে। যদি আমাদের বাজেটে সংস্থান না হয়, তাহা হইলে শুধু রাজনৈতিক কারণে শত শত ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়াও সংগত নহে। আর ব্রিজ নির্মাণ করিলে তাহার নিয়মিত সংরক্ষণ ও তদারকি অবশ্যই করিতে হইবে। এইজন্য বিশেষ ফান্ডে অর্থ বরাদ্দ বাড়াইতে হইবে।
