পরিচ্ছেদ-৩:কোষীয় জীব:সুপার কিংডম- প্রোক্যারিওটা
শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য রয়েছে জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের ১ নম্বর অধ্যায়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদ ‘কোষীয় জীব: সুপার কিংডম- প্রোক্যারিওটা’ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর।
সায়েম আলী ধানচাষে উত্পাদন ব্যয় কমানোর জন্য রাসায়নিক সার ব্যবহার না করার ব্যাপারে একজন কৃষিবিদের সাথে আলাপ করে। তিনি তাকে ধানের জমিতে Nostoc চাষের পরামর্শ দিলেন। পরবর্তীতে সায়েম আলী জমিতে ধানের সাথে Nostoc চাষ করল।
প্রশ্ন : ক. ব্যাকটেরিয়া কী?
খ. নিউক্লয়েড বলতে কী বুঝায়?
গ. সায়েম আলীর ধানের সাথে চাষ করা উদ্ভিদটির গঠন বর্ণনা কর।
ঘ. সায়েম আলীর প্রতি কৃষিবিদের পরামর্শ কতটুকু যৌক্তিক ? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ক. ব্যাকটেরিয়া হলো এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক সরলতম আদি প্রকৃতির এককোষী জীব।
উত্তর: খ. ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াসের পরিবর্তে যে নিউক্লিওআবরণ, নিউক্লিওজালিকা ও নিউক্লিওলাস বিহীন কেন্দ্রীয় বস্তু থাকে তাকে নিউক্লয়েড বলে। এরূপ নিউক্লয়েড শুধুমাত্র একটি দীর্ঘ, প্যাঁচানো DNA অণু ও নিউক্লিও প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
উত্তর: গ. সায়েম আলী জমিতে ধানের সাথে Nostoc চাষ করল নিম্নে Nostoc -এর গঠন বর্ণনা করা হলো:
Nostoc- এর গঠন: Nostoc -এর দেহ একটি অশাখ ফিলামেন্ট এবং ফিলামেন্টটি একটি মাত্র ট্রাইকোম (সূত্রময় একসারি কোষ) নিয়ে গঠিত। কতগুলো ফিলামেন্ট বেশ ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করে জিলাটিনের একটি পিচ্ছিল আবরণে আবদ্ধ থাকে। ফিলামেন্টের কোষগুলো নলাকার, গোলাকার বা পিপার ন্যায় হতে পারে। ফিলামেন্টের স্থানে স্থানে হেটেরোসিস্ট নামক কোষ থাকে। হেটেরোসিস্ট দ্বি প্রাচীরবিশিষ্ট, স্বচ্ছ এবং দেহ কোষ থেকে আকারে বড়। প্রতিটি হেটেরোসিস্টের দুই প্রান্তে দুটি পোলার নডিউল থাকে এবং এর মধ্যে দুটি ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রদ্বয়ের মাধ্যমে দুই পাশের কোষদ্বয়ের সাথে সাইটোপ্লাজমের যোগসূত্র অক্ষুণ্ন থাকে। ফিলামেন্টের মাঝে মাঝে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের স্থূল ও দৃঢ় প্রাচীরযুক্ত খাদ্যপূর্ণ কিছু কোষ থাকে। একে অ্যাকানিটি বলে।
চিত্র: একটি এক ট্রাইকোম বিশিষ্টি Nostoc ফিলামেন্ট
Nostoc-এর প্রতিটি কোষের একটি কোষ প্রাচীর আছে। কোষপ্রাচীর দ্বিস্তরী। এর ভেতরের স্তরটি সেলুলোজ ও বাইরের স্তরটি জেলাটিন দিয়ে গঠিত। কোষ প্রাচীরের অভ্যন্তরে প্রোটোপ্লাস্ট বিদ্যমান। প্রোটোপ্লাস্টের দানাদার রঞ্জিত অংশকে ক্রোমোপ্লাজম বলে। প্রোটোপ্লাস্টের ভিতরের ঘন বর্ণহীন অংশকে সেন্ট্রোপ্লাজম বলে। সেন্ট্রোপ্লাজমে জালিকার মতো ক্রোমাটিন বস্তু রয়েছে। রঞ্জক পদার্থের মধ্যে রয়েছে ক্লোরোফিল-এ (সবুজ), ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল (হলুদ), সি, ফাইকোসায়ানিন (নীলাভ) ও সি ফাইকোইরিথ্রিন (লাল)। কোষের সঞ্চিত খাদ্য সায়ানোফাইসিয়ান স্টার্চ ও প্রোটিন।
উত্তর: ঘ. কৃষিবিদ সায়েম আলীকে Nostoc চাষের পরামর্শ দিলেন। Nostoc মটিতে ও পানিতে বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে পরিবেশ তথা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এর মৃতদেহ পচে মাটিতে অধিক পরিমাণ নাইট্রোজেন ঘটিত পদার্থ অ্যামোনিয়া জমা হয়। নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ও অ্যামোনিয়াকে নাইট্রেটে পরিণত করে। ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। জমিতে হেক্টর প্রতি ২৫ কেজি অ্যামোনিয়াম সালফেট প্রয়োগে ধানের উত্পাদন ১৭% বৃদ্ধি পায়। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নাইট্রোজেনের ঘাটতি সায়ানোব্যাকটেরিয়া Nostoc দিয়ে বহুলাংশে পূরণ করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোও সায়ানো ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এতে ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অর্থের অপচয় রোধ হচ্ছে। Nostoc মাটির PH-এর মান কমিয়ে ক্ষারত্ব প্রশমন করে এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাস যুক্ত করে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
Nostoc চাষের মাধ্যমে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায় এবং মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বদ্ধি পায়। সুতরাং ধানক্ষেতে Nostoc চাষ করলে পৃথকভাবে ইউরিয়া সার দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে একদিকে যেমন উত্পাদন ব্যয় কমে যায়, অন্যদিকে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করায় মাটি ও পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, সায়েম আলীর প্রতি কৃষিবিদের পরামর্শ যথার্থ ছিল।
