বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সাহেব সম্প্রতি হুঁশিয়ারি করিয়া দিয়াছেন যে, কেহ ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিলে তাহা সহ্য করা হইবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়াছেন তখন, যখন আমরা দেখিতে পাইতেছি আমাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়িতেছে এবং খেলাপি ঋণ বাড়িয়া যাওয়ার কারণে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়াছে। গভর্নর সাহেবের এ হুঁশিয়ারি কতটা কাজ করিবে অথবা যাহারা এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী, যাহারা ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাইতেছেন, তাহারা কতটা গুরুত্বের সাথে নিবেন তাহাই দেখার বিষয়। কারণ আমরা জানি, অনেক ক্ষেত্রেই কোন একটি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান যতই জোরালোভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করুক না কেন তিনি যদি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম না হন, সেক্ষেত্রে হুঁশিয়ারি কাগজেই থাকিবে, বাস্তবে আমরা ইহার কোন প্রতিফলন দেখিব না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রেও আমরা দেখিতে পাইতেছি, ইহার আগে আরও বেশ কয়েকবার গভর্নর সাহেব বিভিন্ন ইস্যুতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছেন। কিন্তু তাহার পরও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম (রেগুলেশন) ভঙ্গ করিয়া ব্যাংকগুলিকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করিতে দেখিয়াছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি লঙ্ঘন করিয়া ব্যাংকগুলিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক লেনদেন হইতে আমরা দেখিয়াছি। সেইজন্য ব্যাংকিং খাত হইতে বিশাল পরিমাণ অর্থ বাহির হইয়া গিয়াছে এবং তাহা আমরা ফিরাইয়া আনিতে পারিব, সে আশাও দেখিতেছি না।
যাহারা ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করিয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ঘটাইয়াছেন তাহারা যেহেতু শাস্তি পান নাই, সেইহেতু এখনকার হুঁশিয়ারি যে কাগজের হুঁশিয়ারি, তাহাই সবাই ধরিয়া নিবে। শুধুমাত্র ব্যাংকিং খাত নহে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমরা দেখিতে পাইতেছি সরকারের পক্ষ হইতে যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হইতেছে, কঠোর হওয়ার যে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করা হইতেছে, তাহা বাস্তবে কোন ফল বহিয়া আনিতেছে না। ব্যাংকিং খাতের বিশেষ করিয়া রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যাহারা আছেন তাহাদের বেশিরভাগেরই রাজনৈতিক প্রভাব রহিয়াছে। তাহারা জানেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটাইয়া বিধি লঙ্ঘন করিয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কিছু করার থাকিতেছে না এবং কিছু করিতে পারিবে না, তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঘোষণাকে শুধুমাত্র ঘোষণা হিসাবেই দেখিবেন তাহারা সবাই। মোট কথা, শাস্তি দিয়া উদাহরণ তৈরি না করিলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার এইসব হুঁশিয়ারিকে কেবলই অহেতুক হম্বিতম্বি মনে করিবে সংশ্লিষ্ট সবাই।
