[ আ ন্ত র্জা তি ক ]

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২২:০০
মিয়ানমারে অব্যাহতভাবে মানবিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আশঙ্কা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মানবিক বিপর্যয় আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি অমানবিক আচরণের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সরকারের মৌনব্রত পালনে ক্ষুব্ধ। মিয়ানমারে আট থেকে দশ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানের বসবাস। তাদের নিজস্ব কোন রাষ্ট্র নেই। তারা কোন রাষ্ট্রের জন্য হুমকিও নয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংস আচরণ মিয়ানমার সরকার সমর্থন করবে কেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরাকানের জাতিগত সংঘাতে লিপ্ত উভয়পক্ষের শতাধিক লোকের সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই সংঘাতে ১৮০ জন লোক নিহত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উপসংহারে উল্লেখ করেছে যে, বার্মা সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমোদন ও মৌনতার সুযোগ নিয়ে এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। জাতিগত নির্মূলকরণের এই প্রচারণায় মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাস্তুচ্যুত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে যে, ১৩টি এলাকার মধ্যকার ৫টির ৩৪৮ একরে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের ৪ হাজার ৮৬২টি অবকাঠামো গত জুন থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। বলা বাহুল্য, এখানকার অধিকাংশ অধিবাসীই মুসলমান। ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর ইয়াহ থেই গ্রামে সংঘটিত ঐ সহিংসতা ছিল সবচে’ ভয়াবহ ও নারকীয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছে কীভাবে নিরাপত্তা বাহিনী ক্রোধান্ধ জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর লেলিয়ে দেয় । রোহিঙ্গাদের ছিল আদিমতম প্রতিরক্ষামূলক কিছু অস্ত্রশস্ত্র। সেই অস্ত্র তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা বিরোধীদের কীভাবে সাহায্য করেছে সে কথাও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। ঐ আক্রমণে অন্তত ৭০ জন রোহিঙ্গার জীবনাবসান ঘটে, যার মধ্যে ২৮ জন ছিল শিশু। আর ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ছিল ৫ বছরেরও কম। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ঐ আক্রমণের জন্য স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং দুই বছর বয়সী রাখাইন ন্যাশনালিষ্ট ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে অভিযুক্ত করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উগ্রপন্থি জাতীয়তাবাদী গ্রুপ প্রচারণা যেমন চালায়, তেমনি বিবৃতি প্রচার করে। এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্যাংকক অফিসের কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ সিএনএনকে বলেছেন, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত সহিংসতার সময় রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান উত্তুঙ্গে উঠে। আরাকান রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের সমূলে উত্খাত করার জন্য এ সময় জনগণকে সংগঠিত করা হয়। ভিক্ষু সমিতিসমূহ, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে রোহিঙ্গা নির্মূলে বিবৃতি দেয়া হয়। ফলে অস্থিরতা ও সহিংসতা দুই-ই ব্যাপকভাবে বিস্তার ও বৃদ্ধি পায়। উল্লেখ্য, এটা ছিল রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত দ্বিতীয় দফার দুর্বার আক্রমণ। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। শান্তি প্রতিষ্ঠা কিম্বা আরেক দফার সহিংসতা বন্ধে সরকার তার করণীয় সম্পর্কে ছিল নির্বিকার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ম্যাথু স্মিথ আরও উল্লেখ করেন যে, এই সংকটকালে সরকারের ভূমিকা যেমন ছিল একপেশে, তেমিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা এ সময় প্রয়োজনীয় মানবিক সহযোগিতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও উল্লেখ করে যে, ঐ সহিংসতায় স্থানীয় বৌদ্ধ আরকানীয়দের একটি অংশও বাস্তুচ্যুত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বৈষম্যমূলক বার্মার নাগরিকত্ব আইনের কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে আসছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বার্মায় বসবাসরত ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগত গোষ্ঠীকে মিয়ানমার সরকার নাগরিক অধিকার দিলেও রোহিঙ্গারা তা থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার ভাষ্য হলো, আরাকানী বৌদ্ধদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোন বাধার সম্মুখীন হতে হয় না। তারা মাঠে চাষ দিতে পারে, টি স্টলে আড্ডা জমাতে পারে, ধর্মশালায় যেতে কোন বাধা নেই। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত আচরণ পেয়ে থাকে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের যা নিত্যসঙ্গী তা হলো নিরাপত্তা বাহিনীর অবহেলা ও আক্রমণ নীরবে সহ্য করা, সরকার নির্ধারিত বিচ্ছিন্ন করে রাখার নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা এবং সরকারি ক্যাম্পে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা। বিভিন্ন টিভি মিডিয়ার এ সমস্ত রিপোর্টে অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কনফারেন্স বা ওআইসি সচিবালয় উদ্বিগ্ন। ওআইসি এ ব্যাপারে একটি বিশেষ সেশন আহ্বানের কথা ভাবছে। উদ্বেগাকুল ওআইসি বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধানে এখন তাই তত্পর। রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংস ঘটনাবলীর রিপোর্ট প্রকাশের পর মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক সুবিধাবাদী ও ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই মহলটি বিভিন্ন বিশ্বাস ও মতাবলম্বীদের মধ্যে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ঘৃণা ও বিদ্ধেষ সৃষ্টি করে চলেছে। যদিও মিয়ানমার সরকার মনে করে, রোহিঙ্গাদের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ বস্তুনিষ্ঠ নয় এবং ঐসব রিপোর্ট একপেশে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি মিয়ানমারের উপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালুর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অবশ্য বহাল রয়েছে। এদিকে ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক একজন পদস্থ কর্মকর্তা ক্যাথেরিন এ্যাশটন বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি নিরাপত্তা বাহিনী গোত্রগত সহিংসতা নিরসনের মতো দুরূহ কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করবে। ব্যাংককে সুশীল সমাজ মিয়ানমারের ঘটনাপঞ্জি মনিটর করে চলেছে। ইইউ’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে তারা দ্বিধান্বিত। তাদের ভাষ্য, মিয়ানমারের বাস্তবতা ভিন্নতর। সুশীল সমাজের ভাষ্য হলো, হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে মানবিক সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের গতিবিধিও নিয়ন্ত্রিত। এমনকি, রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িতে পর্যন্ত ফিরতে পারছে না। সুশীল সমাজের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের অবরুদ্ধ জীবন এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একথা অনস্বীকার্য, সকলেই মনে করেন যে, নাগরিকত্ব নিয়ে সংকটই সমস্যার মূলে। মিয়ানমার সরকারের সকল নীতিনির্ধারকেরাই মনে করেন যে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অভিবাসী। অসম আইনের বলি হয়ে এই রোহিঙ্গারা ১৯৮২ সাল থেকে নাগরিকত্ব পাচ্ছে না। যদিও বহু রোহিঙ্গা পরিবার যুগ যুগ ধরে মিয়ানমারে বসবাস করে। সরকারি মহল এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং রোহিঙ্গাদের তারা বাঙালি কিম্বা তথাকথিত রোহিঙ্গা হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এদিকে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থী রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। মিয়ানমার সরকার তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে তারা আশাবাদী। কিন্তু দুঃখজনক ঘটনা হলো, এএফপি’র ওয়েনে হে যেভাবে বিষয়টি দেখছেন তা হলো, নাগরিকত্ব লাভের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের আশা একদিন হতাশায়ই পরিণত হবে। কেননা সুরঙ্গের অপর প্রান্তে কোন আলোই দেখা যাচ্ছে না। এই দুর্ভাগ্যজনক প্রেক্ষপটে বহু বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সটকে পড়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নে নৌকাযোগে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া অথবা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে। এদিকে পালাতে ব্যর্থ রোহিঙ্গারা নিরুপায় হয়ে মিয়ানমার সরকারের মর্জিমাফিক দিন গুজরানে যেমন বাধ্য হচ্ছে, তেমনি এই বলে সরকারের দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে যে, একদিন তাদের দাবি হয়ত পূরণ হবে। তাদের কারো কারো মনে এই প্রত্যয় যে, সরকার তাদের জন্য বাড়ি বানিয়ে দিবে। কেননা সরকারি তরফ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি একাধিকবার দেয়াও হয়েছিল। যদিও সামান্য কিছু বাড়ি অবশ্য বিতরণ করা হয়েছিল। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অ্যালান স্টার্টহার্ন এ প্রসঙ্গে একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার কিছু অংশে বৌদ্ধ বিশ্বাস শিক্ষাদানের পাশাপাশি অহিংস আচরণের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি হতবুদ্ধি করে দেয়ার মতো। কেননা উল্লেখিত দুই দেশের কারো কাছেই রোহিঙ্গাদের মতো একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ইসলামী জঙ্গি হিসেবে বিপজ্জনক বিবেচিত হতে পারে না। মিয়ানমারে ৯৬৯ নামের গ্রুপের নেতা হলেন আশিন উইরাথু নামের এক ভিক্ষু। ধর্মে ধর্মে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে ২০০৩ সালে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ২০১২ সালে তিনি ছাড়া পান। জানা গেছে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর মিশনে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে, বৌদ্ধ ধর্মের অহিংস নীতির সাথে ঘৃণা ছড়ানোর বিষয়টি মেলানো যায় না। মিয়ানমারে ২০০৭ সালে যে স্যাকর্ন রেভিলিউশন হয় তার নেতৃত্ব দেন ভিক্ষুরা। তারা তাদের নৈতিক শক্তি নিয়ে সামরিক জান্তাকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন পরিচালনা করেন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো ছিল তাদের প্রধান অস্ত্র। বেশকিছু ভিক্ষু ঐ সময় প্রাণও হারান। কিন্তু বর্তমানে কতিপয় ভিক্ষুর লক্ষ্যপথ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা মুসলমান বিদ্বেষী বার্তা দিচ্ছেন। জানা গেছে, মুসলমান রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বিধান, দেশের গণতন্ত্রে উত্তরণে সংস্কার সাধন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে আরও এক বছরের জন্য অবরোধ আরোপ করেছে। ওবামা প্রশাসন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটন সফর উপলক্ষে ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে ঔদার্য দেখিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, সাবেক সামরিক শাসনামলে ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। আরও উল্লেখ্য, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন সেইনের সফর ছিল ১৯৬৬ সালের পর কোন মিয়ারমার সরকার প্রধানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। প্রকাশ, সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের সাথে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে অব্যাহত সহিংসতার বিষয়টি ওবামা ও মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের বৈঠককালে আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থাইল্যান্ড সফরের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। শেখ হাসিনা সম্প্রতি থাইল্যান্ড সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে মিয়ানমারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে অনুরোধ করে একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। জাপানের কোন প্রধানমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরের ঘটনা গত ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘটেছে সম্প্রতি। সরকারি ও বেসরকারি খাতে মিয়ানমারে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই জাপানী প্রধানমন্ত্রীর এই সফর। এক্ষেত্রে জাপান যে সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে তা হলো, মিয়ানমারের নেতাদের সে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দিতে পারে। জাপান মিয়ানমারকে এও বুঝাতে পারে যে, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর দেশে মানবাধিকারের উন্নয়ন কতটা অপরিহার্য। মিয়ানমারকে এক্ষণে অবশ্যই গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গণতন্ত্রকে সংহত করা ও গণতন্ত্রের মূল নীতিসমূহ বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ অবশ্যই সহায়ক হবে। আর মিয়ানমার তো এ লক্ষ্যে অনেক দূর এগিয়েছেও। তবে মুসলমান রোহিঙ্গাদের জন্মহার হ্রাস করতে আইন করার চেষ্টা সংকট নিরসনে কোন কাজে আসবে না। অং সান সুচিসহ রাজনৈতিক বন্দীদের বন্দীদশা থেকে মুক্তি দিয়ে একটা রমরমা অবস্থার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার সরকার। শ্রমিক সংঘ ও মিডিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর আইনও মিয়ানমার তুলে নিয়েছে। কিন্তু এসব সাফল্যই ধূসর হয়ে যাবে যদি ভবিষ্যতে সত্যিকার অর্থে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না যায়। ভাষান্তর: কায়কোবাদ মিলন লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন