আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ আসরে ম্যাচের সময়ে বৃষ্টি আসাটা একরকম নিয়মেই পরিণত হয়েছে। গত রবিবার ম্যাচেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হল না। আর বৃষ্টি বিঘ্নিত সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১০ রানে হারিয়ে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টটির সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।
ওয়ার্নার-গেট, বল বিকৃতি বিতর্ক তো ছিলই; সাথে কার্ডিফে আরও একটা বাধা বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল অ্যালিস্টার কুকদের সামনে; বৃষ্টি। হারলেই ছিটকে যেতে হবে - এই অবস্থায় ম্যাচ বৃষ্টির জন্য ভেস্তে গেলে মাঠে না নেমেই ইংল্যান্ড টুর্নামেন্টের বাইরে চলে যেত। কিন্তু কুকদের ভাগ্য ভাল ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার থেকে কমে ২৪ ওভারে গিয়ে ঠেকে। তাতেই টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ১৬৯ রান তোলে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন। এছাড়া জো রুট করেন ৩৮ রান। কাইল মিলস চারটি আর মিশেল ম্যাকক্লেনাঘান তিনটি উইকেট পান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস আট উইকেটে হারিয়ে ১৫৯ রান পর্যন্ত যেয়ে থেমে যায়। জেমস অ্যান্ডারসন তিনটি ও রবি বোপারা ও টিম ব্রেসন্যান দুটি করে উইকেট পান। কেন উইলিয়ামসন ৬৭ রান করেন। এছাড়া কোরে অ্যান্ডারসন করেন ৩০ রান। ১০ রানে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে যাওয়া নিশ্চিত করে ফেলে ইংল্যান্ড। আর এই জয়ের ফলে স্বস্তি ফিরে পেলেন অধিনায়ক কুক। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। এই নিউজিল্যান্ডের কাছেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হারের ফলে বেশ বিপাকেই পড়েছিল দলটির অ্যাশেজ প্রস্তুতি। কুক বলেন, ‘এরকম পরিস্থিতিতে বৃষ্টি চলে আসাটা যে কোন অধিনায়কের জন্যই স্নায়ুচাপ নিয়ে আসে। কারণ, এসময় আমাদের করার কিছুই থাকে না। তবে, শেষ পর্যন্ত খেলা হল, আর আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়েই জিতেছি। তাই সব মিলিয়ে আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ৭০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো একই ইনিংসে দুটি ছক্কা হাঁকালেন অধিনায়ক কুক। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনালে পৌঁছানো। কে কারো বিরুদ্ধে জয়ই আনন্দদায়ক। তাই সব মিলিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পেরে আমরা খুশি।’ আগামী বুধবার ওভালের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক দলটি।
