ফার্গুসনের জায়গা চাননি মরিনহো!

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২২:৩২
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অবসর নেয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই ব্যাপারটা জানতেন হোসে মরিনহো। এরপরেও দলটির কোচ হবার ব্যাপারে তার কোন সুযোগই ছিল না বলে তিনি নিজেই জানালেন। আর তিনি ফার্গির জায়গা নেয়ার কোন ইচ্ছাও তার ছিল না। মরিনহো ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের অভিজাত ক্লাবটির দায়িত্ব নিচ্ছেন এমন গুঞ্জন ছিলই। অনেক ফুটবলবোদ্ধা অনুভব করেছিলেন মরিনহো ইউনাইটেডের এক নম্বর পছন্দ। এই ব্যাপারটি সবার নজরে আসে যখন মৌসুম শেষে ফার্গুসন দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারপরও মরিনহো দাবি করেন ফার্গুসন কয়েকমাস আগেই তার কাছে অবসরের পরিকল্পনার কথা জানান। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে পর্তুগীজ এই কোচ ইউনাইটেডের দায়িত্বের জন্য প্ররোচিত হননি। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইউনাইটেড সিদ্ধান্ত নেয় এভারটনের ডেভিড মোয়েসই পরবর্তী মৌসুম থেকে দায়িত্ব পাচ্ছেন। সেই সময়টাতে রিয়াল মাদ্রিদে থাকা সাবেক ইন্টারমিলান কোচ মরিনহোকে কেন্দ্র করে অনেক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মরিনহো তখন জানিয়েছিলেন তিনি ইংল্যান্ডে ছেড়ে আসা ক্লাব চেলসিতে ফিরে যেতে চান। অবশেষে তার ইচ্ছে পূরণ হয়। দ্বিতীয় দফায় চেলসিতে ফিরে আসেন তিনি। মরিনহো বলেন, ‘ফার্গুসন অবসর নেবেন এটা আমি কয়েক মাস আগে থেকেই জানতাম। আমি খুব খুশি হই আমার প্রতি তার আস্থায়। কারণ তার অবসর নেয়ার ঘটনাটি পুরো বিশ্বের জন্য বড় খবর। আমি অনুভব করলাম তার পাশে অল্প কিছু মানুষের এটা জানা থাকবে এবং এই ব্যাপারটি জানা আমার জন্য বড় দায়িত্বের। আমি কেন এটা জানবো ? আমি জানি কারণ আমরা বন্ধু। আর যদি আমি স্যার অ্যালেক্সের বন্ধু হই তাহলে জানবো সে অবসরে যাচ্ছে।’ মরিনহো আরো জানান, ফার্গুসন জানতেন যে তিনি চেলসিতে যেতে চান। এ প্রসঙ্গে মরিনহো বলেন, ‘সেও আমার বন্ধু হিসেবে জানতো ইংল্যান্ডের চেলসির কোচ হতে চাই আমি। অবশ্যই আমি তাকে বলেছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম আমি চেলসিতে আসতে চাই। চেলসির জন্য আমি বিশ্বের সব কিছু ছেড়ে আসতে পারি। ইংল্যান্ডে আসা এবং চেলসিতে না আসা ? এটা হতে পারে শুধু চেলসি যদি আমাকে না চায়। আমি পেশাদার। আমাকেও জীবনের জন্য ছুটতে হয়। অন্য কোথায়ও হয়তো আমি খুশি হতাম।’ রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর মরিনহোর উদ্দেশ্যেই ছিল চেলসিতে আসা। তিনি বলেন, ‘ঠিক একই সময় আমি রিয়াল ছাড়তে চাইলাম। ইংল্যান্ডে আসতে চাইলাম এবং চেলসি আমার জন্য অপেক্ষা করছে। অবশ্যই এটা আবেগময় কারণ এই সিদ্ধান্তটা আমাকে নিতে হবে।’ রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ ছয় বছর আগে চেলসির চাকরি থেকে মরিনহোকে বরখাস্ত করেছিলেন। আবারো স্টামফোর্ড ব্রিজে মরিনহো। ইংল্যান্ডে মরিনহোর ভক্তকুলের সাথে রয়েছেন প্রথম দফায় চেলসিতে যাদের সাথে কাজ করেছেন তারাও। তবে মরিনহো পরিষ্কারভাবে জানান যখন প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু হবে তখন তিনি কি রূপরেখা ধরে হাঁটবেন। তিনি বলেন, ‘যদি আপনি শীর্ষ পর্যায়ের পেশাদার হন, যদি আপনি স্বার্থপর মানুষের পর্যায়ে না পড়েন, ক্লাবের জন্য সামনে থেকে কিছু দেয়ার সাহস আপনার থাকে এবং এখানে আমার জন্য যদি আপনি শতভাগ কাজ করতে পারেন তাহলে আমাদের সম্পর্কটা ভাল হবে। যদি আপনি স্বার্থপর হন, যদি আপনি ক্লাবকে পাত্তা না দেন, সমর্থকদের ব্যাপারে কিছু না ভাবেন, ভাবমূর্তি উড়িয়ে দেন তাহলে আমরা বড় সমস্যায় পড়বো।’